২০১৪ সালে মার্কিনী সহ পশ্চিমী ফৌজের আফগানিস্তান পরিত্যাগ জনিত কারণে যে জটিলতা ও বিপদের সম্ভাবনার উদ্ভব হবে, তা অতিক্রম করতে সাহায্য করতে পারে শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (শাসস). রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের মতে সংস্থাটির সম্প্রসারণ ইতিবাচক ফল দিতে পারবে.

      ১৩ই সেপ্টেম্বর কির্গিজিয়ার রাজধানী বিশকেকে অনুষ্ঠিতব্য শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতি পর্বের আওতায় গত সপ্তাহে সংস্থাটির সদস্য দেশগুলির পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সাক্ষাত্কারে মিলিত হয়েছিলেন.

      শাংহাই সহযোগিতা সংস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল ২০০১ সালে রাশিয়া, চীন, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান ও কির্গিজিয়ার যোগদানের মাধ্যমে. ঘোষণা করা হয়েছিল, যে সংস্থার প্রধান কর্তব্য হবে বড় ভৌগলিক পরিসরে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা মজবুত করা. তাই আন্তর্জাতিক আঙিনায় সংস্থাটির ভার ক্রমবর্ধমান ও অন্যান্য দেশের কাছে তা আকর্ষনীয়. বিগত বছরগুলিতে শাসসের পর্যবেক্ষক হওয়ার মর্যাদা পেয়েছে ভারত, পাকিস্তান, ইরান, মঙ্গোলিয়া ও আফগানিস্তান. বেলোরুশ, তুরস্ক ও শ্রীলঙ্কা সংস্থাটির সাথে সংলাপের শরিক. আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, উক্রাইনাও নানাবিধ ভূমিকায় সংস্থাটির অন্তর্ভুক্ত হতে আগ্রহী. রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রকে এশীয় চর্চা বিভাগের প্রধান আন্দ্রেই ভলোদিনের মতে, সংস্থাটির সম্প্রসারণের কাল সুপক্ক হয়ে উঠেছে. -

      ভলোদিন বলছেন - আমি মনে করি, যে সংস্থার সম্প্রসারণের সময় উপস্থিত হয়েছে. রাশিয়া বহুদিন ধরেই এটা চাইছে ইউরেশিয়ার মধ্যাঞ্চলকে স্থিতিশীল ও আভাসযোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে, বিশেষতঃ ২০১৪ সাল প্রায় দুয়ারের গোড়ায়, যখন ন্যাটোর বাহিনী আফগানিস্তান ছেড়ে যাবে এবং তার পরিণতি কি হবে, তা কেউ অনুমান করতে পারে না.

      শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার বিজনেস ক্লাবের সভাপতি দেনিস ত্যুরিনের মতে, শাসসের সম্প্রসারণ আফগানিস্তানকে জটিলতা অতিক্রম করতে ও বিশ্ব জনসমাজকে বহু দুর্যোগের হাত থেকে রেহাই পেতে সাহায্য করতে পারবে. -

      আফগানিস্তান পরিবেষ্টিত এই সংস্থার সদস্য দেশগুলির দ্বারা, যারা আফগানিস্তানে সন্ত্রাস, মাদকদ্রব্যের ব্যাপক পাচার ইত্যাদি সমস্যার সমাধানের প্রশ্নে মোটামুটি সহমত. ন্যাটোর সামরিক ফৌজ আফগানিস্তান ছেড়ে যাওয়ার পরবর্তী পর্যায়ে সে দেশে পরিস্থিতি স্বাভাবিকীকরণের ক্ষেত্রে এই অভিন্ন অবস্থান পরিত্রাণের পথ খুঁজে বের করতে সহায় হবে.

     এখনো পর্যন্ত শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য পদ পাওয়ার জন্য ইরান ও পাকিস্তান আবেদন করেছে. ভারতও সদস্য হতে ইচ্ছুক, তবে মনোনয়ন পত্র এখনো জমা দেয়নি. তবে পূর্ব এশীয় গবেষণা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ আলেক্সান্দর লুকিনের মতে, ঐ তিনটে দেশেরই সমস্যা রয়েছে. -

      ইরান শাসসের সদস্য পদ পেতে পারে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তার উপর রাষ্ট্রসংঘের বিধিনিষেধ জারি রয়েছে. ঐ বিধিনিষেধ প্রত্যাহৃত হওয়ার পরেই তাকে সদস্য করার প্রশ্নটি বিবেচনা করা যাবে. পাকিস্তানের প্রার্থীপদ বাতিল করার প্রত্যক্ষ কোনো কারণ না থাকলেও বিভিন্ন পরোক্ষ কারণ নিয়ে চিন্তাভাবনা রয়েছে. প্রথমতঃ, ঐ দেশের পরিস্থিতি একেবারেই টালমাটাল, আর দ্বিতীয়তঃ, ভারতের সাথে পাকিস্তানের বিশেষ পারস্পরিক সম্পর্কের দরুন ভারত বিনা পাকিস্তানকে সদস্য পদ দেওয়া যাবে না. আর যদি উভয়কে সদস্য করাও হয়, তাহলে পাক-ভারত উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের আঁচ লাগবে খোদ সংস্থার ভেতরেই. সর্বোপরি চীন একেবারেই চায় না সংস্থার সম্প্রসারণ. প্রকাশ্যে না বললেও, চীন সর্বতোভাবে আটকাচ্ছে শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্প্রসারণের যে কোনো প্রয়াস.

      অনুমান করা হচ্ছে, যে ১৩ই সেপ্টেম্বর বিশকেকে সংস্থার সম্প্রসারণের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে. শাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সর্বশেষ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত গ্রীস্মে বেজিংয়ে.