পশুশালা একেবারে কর্মক্ষেত্রেই. মনে করা হয় যে, পশুপ্রেমীরা কাজের আবহমন্ডলকে সতেজ করেন, মানুষকে বেশি দয়ালু করে তোলেন.

     অন্যান্য বহু দেশের মতোই রাশিয়াতেও কর্মক্ষেত্রে চিড়িয়াখানা বানানো কোনো নতুন ব্যাপার নয়.  তবে পশুপ্রেমীদের সংখ্যা ইদানীং বেশ বেড়েছে.

     মস্কোর একটি অফিসে এমনই এক জীবন্ত এলাকা অফিসের আধখানা জুড়ে থাকে. ওখানে কুকুর থাকে, ২টো পেঁচা, একটা আমেরিকান ইঁদুর আর একটা ইঁদুর এলেবেলে. কর্মক্ষেত্রের প্রায় অর্ধেকটা জায়গা জুড়ে ঐ সব পশুপাখিদের দাপট. তবে কোম্পানীতে বলা হয়, যে ওরা এর যোগ্য প্রতিদান দেয়. কর্মীদের ও গ্রাহকদের মনমেজাজ ওরা চাঙ্গা করে দেয়. কোম্পানীর কার্যনির্বাহী আধিকারিক মিখাইল ক্লিমভ বলছেন, যে সেই সঙ্গে কাজে উত্পাদন ক্ষমতাও বাড়ে. -

     "আমাদের সোফিয়া নামে একটা পেঁচা আছে, যে খুব বদমেজাজী, কিন্তু তার অতুলনীয় রসবোধ ( সেন্স অফ হিউমার). যখন আমাদের দৈনিক ওয়ার্কিং মিটিংয়ে প্রবল তর্কাতর্কিতে আবহাওয়া উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, তখন সোফিয়া বিশ্রীভাবে শিস দিতে থাকে. অবশ্যই সেটা তার প্রতি মনোযোগ দিতে বাধ্য করে এবং পরিবেশ স্বাভাবিক হয়ে আসে". পালিত পশুপাখিদের এমনকি 'স্নায়ু শিথিলকারী ম্যানেজারে'র আখ্যা দেওয়া হয়েছে - বলছেন মনস্তত্ববিদ ইরিনা রোমানোভা. -

      এটা চমত্কার, যে মানুষের মনোযোগ অন্যদিকে ঘোরানো যায়. কাজে মনোনিবেশ মস্তিষ্কের বিশেষ কিছু কোষের ওপর চাপ ফেলে ও বাড়তি চাপের সৃষ্টি হয়. আর যখন মানুষ মনোনিবেশ সরায়, তখন তার মস্তিষ্ক হাল্কা হয়. যেমন ধরুন, আপনার অফিসে মাছসুদ্ধ এ্যাকুয়ারিয়াম আছে, যখন আপনি মাছগুলোর দিকে চেয়ে থাকেন, আপনার স্নায়বিক উত্তেজনা শিথিল হয়.

     শুধু যে সব কর্মচারীর এ্যালার্জি আছে, তাদের জন্য অফিসপালিত পশুপাখি রাখা যাবে না. আর দ্বিতীয়তঃ, এমন একজন কাউকে থাকতে হবে, যে নিয়মিত তাদের যত্নআত্যি করবে.