দুর্নীতির প্রতিকার সম্পর্কিত রাষ্ট্রীয় আইনের সংশোধনমুলক খসড়া পেশ করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় দ্যুমায় সাংসদরা. এর লক্ষ্য - সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে পারিবারিক ধনবন্টনের উত্তরাধিকার লোপ করানো.

      পাপগ্রস্ত পারিবারিক সংযোগ লোপ করানোর জন্য সাংসদরা দু'টি নতুন আইন প্রনয়ণ করতে চাইছেন. প্রথমতঃ যে কোনো রাষ্ট্রীয় ও পৌর দপ্তর যাতে এমন কোনো কোম্পানীর সাথে মির্মাণ বা পরিষেবার ব্যাপারে চুক্তিবদ্ধ না হতে পারে, যেখানে কর্ণধার, উপ-আধিকারিক বা কোষাধ্যক্ষ কোনো সরকারি কর্মচারীর নিকটাত্মীয়. নিকটাত্মীয় বলে সাংসদরা অভিহিত করতে চাইছেন মা-বাবা, দম্পতি, সন্তানসন্ততি, নাতিপুতি, ভাই বোনদের. আর তাছাড়াও স্বামী বা স্ত্রী'র মা-বাবা, ভাইবোনদের, শ্বশুর-শাশুড়িদের. যে এই আইন লঙ্ঘন করবে, তাকে আস্থা হারানোর অভিযোগে অবিলম্বে পদচ্যুত করা যাবে সরকারি কার্যনির্বাহ থেকে.

      দ্বিতীয়তঃ, কোনো সরকারি কর্মচারী তার আত্মীয়ের অধস্তন হয়ে চাকরি করতে পারবে না, কারণ সেখানে বিপুল সুযোগ থাকে দুর্নীতির পাখা গজানোর. 

      রাজনৈতিক প্রযুক্তি কেন্দ্রের উপাধ্যক্ষ আলেক্সেই মাকারকিনের মতে  রাশিয়ার সমাজ জীবন থেকে দুর্নীতি সমূলে উত্পাটন করার জন্য এটা বড় পদক্ষেপ.-

       এটা আদৌ ক্ষমতার অপব্যবহার রোধের গ্যারান্টী নয়.  তবে এই আইন প্রনয়ণ করা হলে অসাধুদের মাথা খাটিয়ে কিছু নতুন ভেদবুদ্ধি বা নক্সা খুঁজে বের করতে হবে. কারণ, তারা বিশ্বাস করে নিকটাত্মীয়দের, আর তার বাইরে সেরকম আস্থাভাজন লোক পাওয়া শক্ত. আলেক্সেই মাকারকিনের মতে, চৌর্যবৃত্তি জটিল হবে.

      পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আজকের দিনে রাশিয়ায় সরকারি কর্মচারীদের সাজানো পারিবারিক নক্সা দেশে গোটা দুর্নীতির ৮০% দখল করে. সরকারের বরাদ্দ করা অর্থ চলে যায় মা-বাবা, শ্বশুর-শাশুড়ি, ভাইবোনের নামাঙ্কিত কোম্পানীতে, কিন্তু আদপে কোনো পরিষেবা দেওয়া হয় না বা কিছুই নির্মাণ করা হয় না, আর জালিয়াতি করে সরকারি পয়সা চুরি করা হয়.