১৫ই জুলাই নিউইয়র্কে মহাদেশীয় সমুদ্র উপকূল সীমান্ত নির্ণয় করা নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের পরিষদের ৩২তম অধিবেশন শুরু হতে চলেছে. এখনও অবধি একটি দেশও নিজেদের আবেদন পত্রের সন্তোষজনক উত্তর, বলা যাক যেমন, সুমেরু বৃত্তে নিজেদের দেশের বাইরের দিকের সমুদ্র উপকূলের ভাগ নিয়ে পায় নি.

রাশিয়া প্রথম দেশ, যারা এই রকমের আবেদন পত্র সেই ২০০১ সালেই জমা দিয়েছিল. তার পর থেকে ইতিমধ্যেই সেটা দুবার আরও ভাল করে সঠিক ভাবে জমা দিতে বলা হয়েছিল. এখন নতুন আবেদন পত্র তৈরী. তার ভাগ্য কোন দিকে মোড় নেবে – বলা কঠিন. এই সমুদ্র উপকূলের ভাগ নিয়ে সমস্যা আরও বেশী করেই খালি জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে: হিম সাগরের জলের নীচে মূল্যায়ণ অনুযায়ী সারা বিশ্বের প্রায় একের চতুর্থাংশ কার্বন যৌগের ভাণ্ডার রয়েছে বলে মনে করা হয়. যেখানে এই ধরনের ধন সম্পদ রয়েছে, তার সীমান্ত নির্ধারণের বিষয়ে কেউই হিসাবে ভুল করতে চায় না.

রাশিয়া ইতিমধ্যেই ভৌগোলিক গবেষণা সংক্রান্ত বেশ কয়েকটি অভিযান করেছে (তার মধ্যে – শেষটি “আর্কটিকা – ২০১২”). সেই গুলির প্রয়োজন রয়েছে, যাতে প্রমাণ করা সম্ভব হয় যে, এই সমুদ্র উপকূল রাশিয়ার এলাকা থেকে প্রায় একেবারে উত্তর মেরু পর্যন্তই চলে গিয়েছে. রাশিয়া সেই উপকূল এলাকা নিয়েই দাবী করছে, যাতে জল তলের পর্ব্বত শৃঙ্গ লমনোসভ ও মেণ্ডেলেয়েভ রয়েছে, যা শুরুই হয়েছে রাশিয়ার ভূমি ভাগ থেকেই. এই এলাকা – দশ লক্ষ স্কোয়ার কিলোমিটারেরও বেশী – প্রায় দুটি ফ্রান্স দেশের সমান.

রাশিয়া নিজেদের আবেদন পত্রের সন্তোষজনক উত্তর এবারে পাবে কি না, তা নিয়ে রাশিয়ার বিশারদদের মধ্যেই মত সম্পূর্ণ পরস্পর বিরোধী.

রাশিয়ার সমস্ত রকমের সুযোগ রয়েছে এই ব্যাপারে, মনে করেন রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর অধীনে থাকা রাষ্ট্র ও আইন ইনস্টিটিউটের সামুদ্রিক আইন সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ ভাসিলি গুত্সুলিয়াক. রাশিয়ার আবেদনকে স্বীকার করে নেওয়া হলে, মহাদেশীয় উপকূলের বাইরে খনিজ উত্পাদনের কাজকর্ম, আইন সঙ্গত ভাবেই শুরু করা সম্ভব হবে. এখানে অবশ্য বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দিয়েছেন এই উপকূলের বাইরের সীমা নির্ধারণ করার বিষয়কে দেশের এলাকা বৃদ্ধির সঙ্গে গুলিয়ে না ফেলতে, তিনি বলেছেন:

“যখন বলা হয়ে থাকে যে, রাশিয়ার এলাকা কয়েকশো হাজার স্কোয়ার কিলোমিটার বেড়ে যাবে, তা একেবারেই ঠিক নয়. মহাদেশীয় সমুদ্র উপকূল দেশের এলাকা নয়. আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন অনুযায়ী উপকূল এক বা অন্য দেশের অধিকারের মধ্যে পড়ে না. অন্য বিষয় হল যে, এই উপকূল এলাকায় খনিজ নিষ্কাশনের বিষয়ে একমাত্র অধিকার পাবে শুধু উপকূলের তীরবর্তী রাষ্ট্র গুলিই”.

উপকূলের বাইরের সীমানা নিয়ে সমস্যা এতই জটিল যে, তা প্রতিবেশী দেশ গুলির মধ্যে খালি বিতর্কেরই সৃষ্টি করে, তাই একটি অধিবেশনেই তার একটা সমাধান পাওয়াকে একেবারেই অতিসরলীকরণ মনে করেন রুশ মন্ত্রীসভার সামরিক – শিল্প পরিষদের সামাজিক সভার সদস্য মিখাইল খদারেনক. নতুন রাশিয়ার আবেদন সম্পর্কে যা বলা যেতে পারে, তা হল যে, এটা স্ট্র্যাটেজিক ভাবে একটা সঠিক পদক্ষেপ. কিন্তু তার সমর্থনের সম্ভাবনা বাস্তবে প্রায় নেই, এই রকম মনে করে বিশেষজ্ঞ বলেছেন:

“এই উপকূল অঞ্চলের উপরে অধিকার দাবী করা অন্যান্যদের সংখ্যা যথেষ্টের চেয়েও বেশী. দুঃখের বিষয় হল যে, যখন প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের মেরু অঞ্চলের এলাকা নিয়ে সীমান্ত রেখা আঁকা হয়েছিল, তখন এটা করা হয়েছিল একতরফা ভাবেই. আর তা আগ্রহী প্রতিবেশীদের সঙ্গে, প্রয়োজনীয় সমঝোতা দিয়ে, সমর্থন করিয়ে নেওয়া হয় নি. আর এখন আমরা তাই বাধ্য হয়েছি, আমাদের জমি যে আমাদেরই, তা প্রমাণ করতে. এটা করা কঠিন, কারণ এই পররাষ্ট্র রাজনীতিতে ক্রীড়নকের সংখ্যা খুবই বেশী”.

রাশিয়ার উপকূল এলাকায় খনিজ তেল ও গ্যাসের সঞ্চয়ের পরিমানকে মূল্যায়ণ করা হয়েছে প্রায় পাঁচশো কোটি টন তুলনামূলক জ্বালানী হিসাবে. এর মধ্যে প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ গ্যাস. এটা – অন্যান্য প্রয়োজনীয় কঠিন খনিজের হিসাব না করেই.