ইজিপ্টের প্রধান অভিশংসক দপ্তর ক্ষমতাচ্যুত রাষ্ট্রপতি মুহাম্মেদ মুর্সির ও “মুসলমান ভাইদের” দলের নেতাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বিবেচনা করে দেখছে. তাদের আপাততঃ গ্রেপ্তার করে রাখা হয়েছে ও দোষ দেওয়া হয়েছে যে, তারা নিরীহ মানুষদের উপরে অত্যাচার করেছে ও অন্যান্য অপরাধের কারণেও দোষী. এর আগে সক্রিয় ঐস্লামিক নেতাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আটক করা হয়েছে. আপাততঃ বিচারের দিন নিয়ে কোন আলোচনা করা হচ্ছে না.

প্রায় দুই সপ্তাহ হতে চলল, ক্ষমতাচ্যুত ইজিপ্টের রাষ্ট্রপতি রয়েছেন বন্দী হয়ে. তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি ভাবে কোন অভিযোগ এখনও করা হয় নি. কিন্তু জানা রয়েছে যে, প্রধান অভিশংসক দপ্তর মুর্সি ও “মুসলমান ভাইদের” দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গুপ্তচর বৃত্তি, প্যালেস্টাইনের “হামাস” ও লেবাননের “হেজবোল্লা” গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসাজশ ও তারই সঙ্গে মিছিলের লোকদের হত্যার চক্রান্ত, রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে গুরুতর ক্ষতি করা আর ২০১১ সালের ঘটনার সময়ে অপরাধীদের জেল ভেঙে পালানোর বিষয়ে সহায়তা করার অভিযোগ আনতে চলেছে. এখন ইজিপ্টের বর্তমানের সরকার ঠিক করছে, কি ভাবে এই মামলা গুলিকে পেশ করা লাভজনক হতে পারে. দেশে খুবই তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক লড়াই চলছে, আর মুর্সির বিরুদ্ধে আইন সঙ্গত ভাবে প্রশ্ন তোলার বিষয়টি বর্তমানে গৌণ হয়ে রয়েছে বলে মনে করে রাজনীতিবিদ ভিক্টর কুভালদিন বলেছেন:

“এটা কোন আইন সঙ্গত মামলা হবে না, বরং একটা রাজনৈতিক দরাদরি হতে চলেছে. এখানে এখন কথা হচ্ছে, কে, কি শর্তে ও কিভাবে ইজিপ্টে ক্ষমতা ভাগ করতে তৈরী রয়েছে. সুতরাং রাষ্ট্রপতি মুর্সির উপরে বিচার – এটা স্রেফ একটা ঘটনা, প্রসঙ্গতঃ, তা তত গুরুত্বপূর্ণও নয় সেই জটিল এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নেপথ্যে চলা রাজনৈতিক লড়াইয়ের পরিপ্রেক্ষিতে, যা এখন ইজিপ্টে হচ্ছে”.

এই প্রসঙ্গে কোন সন্দেহই নেই যে, “মুসলমান ভাইদের” গোষ্ঠীর নেতাদের এবং মুর্সির ভাগ্য নিয়ে যে কোন ধরনের সিদ্ধান্ত – সেটা তাদের জন্য খুবই ভাল অথবা খুব কড়া হলেও – ইজিপ্টের সমাজে ও দেশের রাজনৈতিক উচ্চ মহলে একটা ভাগের সৃষ্টি করবে. এখন কারো পক্ষেই উত্তেজনা বৃদ্ধি করা লাভজনক নয়, তাই যেমন ইজিপ্টের প্রধান অভিশংসক দপ্তর, তেমনই “মুসলমান ভাইদের” প্রতিনিধিরা অপেক্ষায় রয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে রুশ প্রশাসনের অধীনে থাকা বিনিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রাজনীতি বিদ্যা বিভাগের লেকচারার ইভগেনি ভইকো বলেছেন:

“এখন “মুসলমান ভাইদের” অবস্থান এত শক্তিশালী নয় যে, তারা একেবারে সমস্ত বাজী ধরে এগিয়ে যাবে আর বর্তমানের বাস্তবকে স্বীকার করবে না, আর সেটা ঠিক হল – তাদের সঙ্গেই সম্ভাব্য চুক্তি করা, যারা জিতছে, অর্থাত্ ইজিপ্টের সামরিক উচ্চ কোটির লোকদের সঙ্গেই. আমি মনে করি যে, “মুসলমান ভাইয়েরা” ওই বাস্তব বিষয়কে হিসাব করছে. তারা এমনকি ক্ষমতায় থাকার একটা সুযোগ পেতে পারে, যদিও সেটা একেবারে প্রথম সারিতে নয়. তাই খুব পরিস্থিতিতে উত্তেজনা সৃষ্টি করা, তাদের পক্ষে লাভজনক নয়. আমি মনে করি যে, তারা এবারে চেষ্টা করবে মুর্সির থেকে কিছু একটা দূরত্ব বজায় রাখতে”.

এরই মধ্যে মুর্সিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরে সিনাই উপদ্বীপ এলাকায় পরিস্থিতি খুবই সঙ্গীণ হয়েছে. এখানে চরমপন্থীদের গোষ্ঠীরা সক্রিয় হয়েছে. বিভিন্ন শহর থেকে সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মের খবর আসছে. সোমবারে সিনাই উপদ্বীপের উত্তরে বিমানবন্দরের কাছে একটি বাসে জঙ্গীদের আক্রমণে কম করে হলেও ২০ জন নিহত হয়েছেন. সামরিক বাহিনী খুবই প্রসারিত ভাবে এই সব জঙ্গীদের নিরস্ত করার বিষয়ে লড়াই চালাচ্ছে.

এই রকমের একটা পরিস্থিতিতে ইজিপ্টে অন্তর্বর্তী কালীণ প্রশাসন তৈরী করা হচ্ছে. রবিবারে ইজিপ্টের লিবারেল জাতীয় ত্রাণ ফ্রন্টের নেতা মুহাম্মেদ আল-বরাদেই দেশের উপ রাষ্ট্রপতি পদে শপথ গ্রহণ করেছেন. আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রাক্তন প্রধান আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে দেখাশোনা করবেন. সমান্তরাল ভাবেই এখন মন্ত্রী সভার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে. এই প্রথম ইজিপ্টের ইতিহাসে মন্ত্রীসভায় মহিলারা থাকছেন. তাঁরা সংস্কৃতি ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের দেখভাল করবেন. এই সপ্তাহের মাঝামাঝি মন্ত্রীসভার সমস্ত কাঠামোর কথা ঘোষণা করা হতে চলেছে.