সেন্ট পিটার্সবার্গের মেশিন বিল্ডিং ফ্যাক্টরী “মালাখিত” – এর কনস্ট্রাকশন ব্যুরোর জেনারেল ডিরেক্টর ভ্লাদিমির দরোফিয়েভ ভারতীয় সংবাদপত্র ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস কাগজকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ঘোষণা করেছেন যে, ভারতীয় নৌবাহিনী বর্তমানে রাশিয়ার কাছ থেকে লিজ হিসাবে আরও একটি ৯৭১ প্রকল্পের বহু লক্ষ্য সাধনে সক্ষম পারমাণবিক ডুবোজাহাজ নেওয়ার কথা বিচার করে দেখছে. রাশিয়া থেকে বাড়তি ডুবোজাহাজ লিজ হিসাবে নিলে ভারতের চিনের থেকে পারমাণবিক ডুবোজাহাজ সংক্রান্ত নৌবহরে পিছিয়ে থাকা কম হওয়ার সুবিধা করে দেবে – এই রকম মনে করেন স্ট্র্যাটেজি ও প্রযুক্তি কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ভাসিলি কাশিন.

বর্তমানে ভারতীয় নৌবহরের কাছে এই ধরনের একটি ডুবোজাহাজ রয়েছে, যা ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে ভারতীয়দের দেওয়া হয়েছে ও তা ভারতীয় নৌবহরে “চক্র” নামে রয়েছে. ৯৭১-বি অথবা “শ্যুকা-বি” প্রকল্পের পারমাণবিক ডুবোজাহাজ প্রাক্তন সোভিয়েত দেশে ও পরে রাশিয়াতে ১৯৮৩ সাল থেকে তৈরী করা হয়েছে. এই ধরনের শক্তিশালী ও খুবই কম আওয়াজ করা পারমাণবিক ডুবোজাহাজ আমেরিকার “লস অ্যাঞ্জেলেস” প্রকল্পের ডুবোজাহাজ গুলিকে প্রতিহত করার জন্য তৈরী করা হয়েছিল. এই ধরনের ডুবোজাহাজের সারি তৈরীর সময়ে একাধিকবার সেই গুলিতে মডেল পাল্টানো হয়েছে. এই ধরনের ডুবোজাহাজ অতলান্তিক সমুদ্রে ও ভূমধ্যসাগরে যাত্রার সময়ে প্রমাণ করেছে আমেরিকার সর্বাধুনিক জাহাজ প্রতিরক্ষা করার ব্যবস্থাকে প্রতিহত করার ক্ষমতা. এই ধরনের ডুবোজাহাজ সব মিলিয়ে ১৫টি তৈরী করা হয়েছে, তাদের মধ্যে শেষটি ছিল “চক্র”.

বর্তমানে আমুর এলাকার কমসোমোলস্ক না আমুরে নামের কারখানায় আরও একটি না তৈরী হওয়া এই ৯৭১ সিরিজের ডুবোজাহাজ – “ইরবিস” রয়েছে. এটা তৈরী করা শুরু হয়েছিল ১৯৯৪ সালে. প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল ১৯৯৬ সালে. এই ডুবোজাহাজ বর্তমানে শতকরা ৪২ শতাংশ তৈরী হয়ে রয়েছে. না তৈরী হওয়া জাহাজের সম্পূর্ণ ভাবে তৈরী রয়েছে শক্ত খোলস. ২০১১ সালে ঘোষণা করা হয়েছিল যে, কারখানা আর এই ধরনের পারমাণবিক ডুবোজাহাজ তৈরী করবে না. তবে ভারতীয় নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে “ইরবিস” জাহাজের প্রতি আগ্রহ থাকলে, এই সিদ্ধান্ত আবার করে পাল্টানোর চিন্তা করা হতে পারে.

ভারত তারই সঙ্গে নিজেদের তৈরী পারমাণবিক ডুবোজাহাজ আরিহান্ত পেয়েছে, যা ২০১১ সালে দেশের নৌবহরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আর এখনও তার খুবই প্রসারিত ভাবে পরীক্ষা করা চলছে, প্রাথমিক ভাবে, তাতে লাগানো রকেট ব্যবস্থা সাগরিকা নিয়ে. আরিহান্ত জাহাজের ঠিকঠাক করা চলার সময়ে ও এই ধরনের আরও জাহাজ তৈরীর সম্ভাবনা (মনে করা হয়েছে যে, ২০২৩ সালে ভারতের এই ধরনের ডুবোজাহাজ থাকবে চারটি) ভারতীয় পক্ষের জন্য ডুবোজাহাজে কাজের উপযুক্ত কর্মীর প্রয়োজনীয়তাও বাড়িয়ে দিয়েছে. তাছাড়া, রাশিয়ার ৯৭১ প্রকল্পের পারমাণবিক ডুবোজাহাজ ভারতীয় ডুবোজাহাজের চেয়ে জলের নীচের লক্ষ্যের সঙ্গে যুদ্ধের বিষয়ে বহু গুণে এগিয়ে রয়েছে.

চক্র ভারত ৯৭ কোটি ডলারের বিনিময়ে ১০ বছরের জন্য ভাড়ায় নিয়েছে. সম্ভাবনা রয়েছে যে, নতুন ডুবোজাহাজের লিজ করার দাম এর চেয়ে বেশী হবে – তা আরও বড় ধরনের নির্মাণ কাজের প্রয়োজন বোধ করে. তাছাড়া, রাশিয়ার পক্ষ থেকে ভারতীয়দের প্রস্তাব করা হয়েছে এই প্রকল্পকে সংশোধন করে দেওয়ার. তাতে ৮৮৫ নম্বর প্রকল্প বা “ইয়াসেন” পারমাণবিক ডুবোজাহাজ প্রকল্পের প্রযুক্তি ব্যবহার করার ব্যবস্থা করে. ২০০৮ সালে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতা পরিষেবার প্রধান মিখাইল দিমিত্রিয়েভ ঘোষণা করেছিলেন যে, ভারতকে বেশ কয়েকটি ডুবোজাহাজ লিজ শর্তে দেওয়া হতে পারে.

বাড়তি ডুবোজাহাজ লিজ হিসাবে নেওয়া হলে ভারতের পক্ষে চিনের পারমাণবিক ডুবোজাহাজের বিষয়ে পিছিয়ে থাকা কম হয়ে যেতে পারে. চিন বর্তমানে নিজেদের নৌবহরে চারটি পারমাণবিক রকেট ছোঁড়ার উপযুক্ত ডুবোজাহাজ ও পাঁচটি পারমাণবিক বহু লক্ষ্য সাধনে সক্ষম ডুবোজাহাজ নিজেদের প্রকল্প অনুযায়ী তৈরী করে ফেলেছে. তিনটি পারমাণবিক ডুবোজাহাজ, যা রকেট ছোঁড়ার উপযুক্ত, যা ০৯৪ প্রকল্পের ও দুটি বহু লক্ষ্য সাধনে সক্ষম এমন পারমাণবিক ডুবোজাহাজ, যা ০৯৩ প্রকল্পের – তা তুলনামূলক ভাবে নতুন করে তৈরী করা জাহাজ, যেগুলিতে এখন পরীক্ষা করা ও ব্যবস্থা ঠিকঠাক করার কাজ হচ্ছে. সম্ভবতঃ, সেই গুলি এখনও সম্পূর্ণ ভাবে যুদ্ধপোযোগী নয়, যেমন ভারতের আরিহান্ত জাহাজ. এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার ৯৭১ প্রকল্পের ডুবোজাহাজ গুলি নিজেদের অস্ত্র ব্যবস্থা ও গোপন থাকার ক্ষমতায় ভারতীয় ও চিনের একই ধরনের জাহাজ গুলির চেয়ে বহু গুণে উন্নত. এই ধরনের দুটি ডুবোজাহাজ ভারতীয় নৌবহরের থাকলেই, তা ভারতের জন্য ভারত মহাসাগর এলাকায় সামরিক অবস্থানকে মজবুত করতে পারবে.