সুইডেনে ১৫-১৬ই জুলাই আবহাওয়ার পরিবর্তন নিয়ে আরও একটি সম্মেলন হতে চলেছে. বহু ডজন বিশেষজ্ঞ মানুষের আবহাওয়ার উপরে প্রভাব নিয়ে আলোচনা করছেন, বিশ্বের উষ্ণায়ন ও এই সমস্যা সমাধানের জন্য খরচ নিয়েও. তারই মধ্যে বিজ্ঞানীরা এই প্রথমবারই উল্লেখ করছেন না: সূর্য বিশ্বের আবহাওয়ার উপরে মানুষের চেয়ে অনেক বেশী গুনেই প্রভাব ফেলে থাকে. এখন এই নক্ষত্রের উচ্চ সক্রিয়তার অধ্যায় শেষ হওয়ার পথে, আর এর অর্থ হল যে, এবারে আর উষ্ণায়ন হওয়ার অপেক্ষা না করে শীতল হওয়ার অপেক্ষা করাই ভাল.

এই বিষয়ে শেষ গবেষণা রাশিয়ার বিজ্ঞানী সের্গেই আভাকিয়ান করেছেন. রাষ্ট্রীয় অপটিক্স ইনস্টিটিউটে তিনি একটি ল্যাবরেটরীর প্রধান, যেটি সূর্যের সক্রিয়তার প্রভাব নিয়ে গবেষণা করে ও তার মধ্যে আবহাওয়ার উপরে এই সক্রিয়তার প্রভাবও রয়েছে. শেষ হওয়া গবেষণা অনুযায়ী, এই সৌর কারণই বিশ্বময় উষ্ণায়নের কারণ হয়েছে, মোটেও তা মানুষের কাজের ফলে হয় নি. সক্রিয় সূর্য, বিশ্বের ভূমির উপরে মেঘ জমিয়েছে – অর্থাত্ স্বাভাবিক ভাবেই গ্রীন হাউস এফেক্ট হয়েছে, তাই “রেডিও রাশিয়াকে” সের্গেই আভাকিয়ান বলেছেন:

“সূর্যের সক্রিয়তার নানা রকমের ধরন রয়েছে, আর রয়েছে এই সক্রিয়তার চক্রও – এটা প্রতি এগারো বছরে অথবা প্রতি শতকে হয়ে থাকে. আর এই শতকের চক্রে ১৯৮৫ সালে সূর্যের সক্রিয়তা সবচেয়ে বেশী বৃদ্ধি পেয়েছিল. প্রচুর পরিমাণে অতি বেগুনী রশ্মি ও এক্স-রে রশ্মি এমন করে দিয়েছিল যে, আমাদের গ্রহের ওজোন গ্যাসের স্তর খুবই বেশী পরিমানে উত্তেজিত হয়েছিল, আর তা থেকে খুবই সক্রিয়ভাবে মাইক্রো ওয়েভ তরঙ্গ বের হয়েছিল. এই কারণেই সেই সমস্ত ঘনীভূত বাষ্পের মেঘপূঞ্জ জমে গিয়েছিল”.

এই কারণ ছাড়াও বিশ্বময় উষ্ণায়নের উপরে প্রভাব ফেলেছিল অন্য একটি কারণ – সেটি মেঘের পরিমান. তার উপরেই বিশ্বের ঠাণ্ডা ও গরম হওয়ার দ্রুততা নির্ভর করে. এমনই একসঙ্গে হয়েছিল যে, সেই ১৯৮৫ সালেই তার এলাকা সবচেয়ে বেশী হয়েছিল. কিন্তু গত তিরিশ বছরে মেঘে ঢাকা এলাকার পরিমান ক্রমাগত ভাবেই কমে যাচ্ছে. আর এটাও সেই ঘটনার কারণ হচ্ছে যে, আরও বেশী করেই সূর্যের আলো বিশ্বের উপরে পড়ছে ও তা গরম করে তুলছে, তাই তিনি বলেছেন:

“মাটি সূর্যের থেকে শক্তি পায়, যা জীবন ধারণে সহায়তা করে, সেটা প্রধানতঃ- রশ্মি অবস্থায় পাওয়া শক্তি হিসাবেই আসে. গত কুড়ি বছরে আমাদের বিশ্বের জমির উপরে বেশী করেই এই ধরনের বিকিরণ হয়েছে. ১৯৮৫ থেকে ১৯৮৭ সালে বিশ্বের শতকরা ৭০ ভাগ ভূমির উপরে মেঘ ছিল, গত তিরিশ বছরে এর পরিমান কমে গিয়েছে. আর তার ফলে পৃথিবীর মাটির উপরে সূর্যের বিকিরণ বেশী পরিমানে হয়েছে”.

কিন্তু মেঘের পরিমান কমে যাওয়ার ফলে প্রধান যে পরিনাম হয়েছে, তা হল যে, বিশ্ব আরও তাড়াতাড়ি ঠাণ্ডা হতে শুরু করেছে. গত ২০ বছরে বিশ্বের জমির উপর থেকে যে পরিমানে তাপ বিকিরণ হয়ে থাকে, আর তার মধ্যে আমাদের বায়ুমণ্ডলের নীচের স্তর থেকে, তা শতকরা ৮ ভাগ বেড়েছে. ১৯৯৮ সালে সবচেয়ে বেশী তাপমাত্রা হয়েছিল সারা পৃথিবী জুড়েই. আর এখন তাপ কমতে শুর করেছে, বলেছেন বিজ্ঞানী. এখন বিশ্বময় উষ্ণায়ন নিয়ে আর বলা যাচ্ছে না. আর এই দিক থেকে, আভাকিয়ান উল্লেখ করেছেন যে, মানুষের কাজকর্মের কারণের প্রভাব - পরিবেশের উপরে পড়ছে বলাটা হবে খুবই বাড়িয়ে বলা. এই ধরনের দৃষ্টিকোণের সঙ্গে একেবারেই একমত হতে পারেন নি বিশ্ব বন্য প্রকৃতি তহবিলের আবহাওয়া সংক্রান্ত প্রকল্পের প্রধান আন্দ্রেই ককোরিন, তিনি বলেছেন:

“আবহাওয়া নিয়ে যে, বিজ্ঞান রয়েছে, তা একেবারেই এই বিষয় নিয়ে তর্ক করে না যে, মানুষে গ্রীন হাউস এফেক্ট বেশী বাড়িয়ে দেয় ও বিশ্বকে গরম করে তোলে. বেশ কয়েকটি, আবহাওয়ার উপরে মানুষের কাজকর্মের প্রভাব সম্বন্ধে অভিজ্ঞতা রয়েছে ও তা প্রমাণ করা হয়েছে যে, তা উল্লেখযোগ্য. এর মধ্যে মুখ্য হল – কার্বন ডাই অক্সাইড. যদি আমাদের শুধু সূর্যই থাকতো, আর অন্য কোনও কারণ থাকতো না – তাহলে এটা বলা যেতে পারতো ঠিক বলে. কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না যে, সূর্য ও মানুষের কীর্তিকলাপ ছাড়াও আরও রয়েছে তথাকথিত মহাসমুদ্রের চক্র – এই জিনিষও খুবই শক্তিশালী. আর বিশ্ব জুড়ে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া আর না থাকার ব্যাখ্যা হল – এটা, খুব সম্ভবতঃ. সামুদ্রিক চক্র ও মানুষের কাজের একটা যৌথ কারণে ঘটছে. হতে পারে যে, আগামী দশক আগের থেকে ঠাণ্ডা হবে. যদিও এটাও বিশ্বময় উষ্ণায়ন শেষ হয়েছে বলে, প্রমাণ করে দেবে না. গবেষণা দেখিয়ে দিয়েছে যে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত করা এখনও তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে”.

যদি মানুষের ভূমিকা নিয়ে আবহাওয়ার পরিবর্তনের বিষয়ে বিজ্ঞানীরা এখনও বিতর্ক করে যেতেও থাকেন, তবুও বিশ্বময় উষ্ণায়ন মোকাবিলা করার সক্রিয়তার মূল্যায়ণ নিয়ে তাঁদের মত, প্রায় অনেকটাই মেলে. এখানে কথা হচ্ছে কিয়োটো প্রোটোকল নিয়ে – সেই চুক্তি, যার মধ্যে শিল্পের কারণে আবহাওয়াতে অন্যান্য গ্যাস ও কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্বন্ধে নেওয়া হয়েছিল, যা গ্রীন হাউস এফেক্টের উপরে প্রভাব ফেলে. প্রধান শিল্পোন্নত দেশ গুলি যেমন চিন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, ব্রাজিল – এই প্রোটোকল শেষ অবধি স্বাক্ষরই করে নি. রাশিয়া এই চুক্তি থেকে ২০১২ সালে বের হয়ে গিয়েছে – তার ফলপ্রসূতা কম বলেই, জাতীয় শিল্পের জন্য এর মূল্য হয়েছে খুবই দামী. ২০১৫ সালের মধ্যে নতুন চুক্তি তৈরী হয়ে যাওয়ার কথা. কিন্তু তার ভবিষ্যত নিয়ে কেউই এখনও মূল্যায়ণ করতে তৈরী নয়.