১৫০ কিলোগ্রামের উপরে খুবই বেশী ঘনত্বের আফগানিস্তানের হেরোইন জুলাই মাসের শুরু থেকে রাশিয়ার জাতীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার কর্মীরা আটক করতে সক্ষম হয়েছে. আর এই সংখ্যা – সেই কারবারের শুধু খুব কম অংশ, যা প্রত্যেকদিন রাশিয়ার এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীরা করছে. রাশিয়ার জাতীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধান ভিক্টর ইভানভ বিশ্বাস করেন যে, রাশিয়াতে আফগানিস্তানের মাদক পাচার বন্ধ করার জন্য যেমন রাশিয়া, তেমনই শুল্ক সঙ্ঘের দেশ গুলি যত শীঘ্র সম্ভব বেশ কিছু কড়া ব্যবস্থা নিতে বাধ্য.

সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রত্যেক বছরে মাদক ব্যবহার থেকে রাশিয়াতে মারা যাচ্ছেন প্রায় এক লক্ষ মানুষ, দেশের প্রায় সাড়ে আট হাজার লোক এই মৃত্যুবাহী বস্তু ব্যবহার করে, আর এক কোটি আশি লক্ষ লোক জীবনে অন্তত একবার এই ধরনের জিনিষ ব্যবহার করে দেখেছে. হেরোইনের এক প্রধান সরবরাহকারী দেশ – আফগানিস্তান. জুলাই মাসের শুরু থেকে দুটি বড় মাদক দ্রব্যের পাচার আটক করা সম্ভব হয়েছে. এই অপারেশনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল প্রায় এক বছর ধরে, এই কথা উল্লেখ করে জাতীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধান ভিক্টর ইভানভ বলেছেন:

“এই দুটি অপারেশনের শুরু হয়েছিল ২০১২ সালের হেমন্তে, যখন উত্তরের রুশ এলাকায় আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছিল এক অপারেশন বাস্তবায়ন করার, যাতে আফগানিস্তান থেকে হেরোইন সরবরাহ করার চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়া যায়. সেই চ্যানেল গুলি ছিল শুধু আংশিক, আরও বড় চ্যানেলের অঙ্গ মাত্র. এই কাজই আমাদের সুবিধা করে দিয়েছে বর্তমানের দুটি অপারেশনের”.

প্রথম ধরপাকড়ের সময়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার পুলিশরা দুটি তাজিকিস্থান থেকে যেন পাম-চেরী বেচতে আসা ভারী ট্রাক, আটক করেছিল. কাঠের প্যালেটের ভিতরে মাদক লুকিয়ে রাখার জায়গা করা হয়েছিল এই ট্রাক গুলিতে. দুই সেন্টিমিটার চওড়া কাঠের মধ্যে এমন করে জায়গা করা হয়েছিল, যাতে তার মধ্যে ১১৫ কিলোগ্রাম ওজনের ৪৮৪টি প্যাকেট লুকিয়ে রাখা যায়, এই গুলিই ধরা পড়েছে. এই কাঠের ভিতরে লুকিয়ে রাখার খাঁজ দেখে মাদক নিয়ন্ত্রণ দপ্তরের পুলিশরা বুঝতে পেরেছেন যে, এবারে মাদক কারবারে একেবারে বড় রকমের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে.

দ্বিতীয়বার মাদক সেই তাজিকিস্তানের নাগরিকই নিয়ে এসেছিল. সুতীর কাপড়ে মাদক দ্রব্যের প্যাকেট মুড়ে, তা রাখা হয়েছিল গাড়ীর পিছনের চাকার মাডগার্ডের ভিতরে করা বিশেষ ধরনের খাঁজে. পুরো বেআইনি জিনিষের ওজন ছিল চল্লিশ কিলোগ্রাম. এই প্রসঙ্গে ভিক্টর ইভানভ বলেছেন:

“এই সব অপরাধীরা জেনে বুঝেই সেই ধরনের গাড়ী বেছে নিয়েছিল, যেগুলোর ভেতরে অনেক জায়গা থাকে. মাদক দ্রব্য কারখানায় যেমন করে গাড়ীর যন্ত্রাংশ ওয়েল্ডিং করে জোড়া দেওয়া হয়, ঠিক সেই ভাবেই জুড়ে দেওয়া হয়েছিল এই সব গাড়ীর ভিতরে, সেখানে বিশেষ রকমের গর্ত করে হেরোইন পুরে, তা খুবই ভাল করে ঝালাই করে, তার ওপরে পালিশ করে দেওয়া হয়েছিল. কোন কুকুরই কোনদিন এই মাদক গন্ধ শুঁকে ধরতে পারতো না, কারণ গন্ধ বের হওয়ার পথই রাখা হয় নি. আর এই গাড়ীর ড্রাইভার শুধু এক সাধারণ তাজিক নাগরিকই ছিল না, বরং সে ছিল এক যোদ্ধা, যে তার সমস্ত যুদ্ধের দল যোগাড় করেছিল রাশিয়াতে মাদক পাচারের চূড়ায় আরোহণ করে. তার পক্ষে সম্ভব হয়েছিল রাশিয়ার মধ্যেও দল তৈরী করার, যারা এই মাদক পেয়ে তা নানা জায়গায় বেচার ব্যবস্থাও করেছিল, দেশের নানা অঞ্চলে হেরোইন সরবরাহ করার”.

জাতীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধান বিশ্বাস করেন যে, তাজিকিস্থান ও আফগানিস্তান থেকে প্রথমে কমানো ও তার পরে সম্পূর্ণ ভাবে মাদক পাচার বন্ধ করার জন্য প্রথমতঃ প্রয়োজন হবে রাশিয়ার অভিবাসনের নীতিই আবার করে দেখার, যা আজ খুবই ভঙ্গুর. মধ্য এশিয়া থেকে অভিবাসনের উদ্দেশ্য নিয়ে রাশিয়াতে আসা লোকেরা শুধু তাদের দেশ থেকে বাইরের দেশের যাওয়ার পাসপোর্ট নিয়েই আসতে বাধ্য, কোন রকমের আভ্যন্তরীণ পাসপোর্ট নিয়ে নয়, যা বর্তমানে চলছে. ভিসা ব্যবস্থাও করা দরকার, আর শুল্ক সঙ্ঘের পরিকাঠামো নিয়েও নতুন করে দেখা দরকার, এই রকম মনে করে ভিক্টর ইভানভ বলেছেন:

“আজকের দিনে মধ্য এশিয়ার দেশ গুলি থেকে আসা জিনিষপত্রের পরিমান ও রকম ভেদ নিয়ে বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে যে, তাতে বিপুল পরিবর্তন হয়েছে. যেমন, শুল্ক সঙ্ঘের বাইরের দেশ থেকে রাশিয়া প্রজাতন্ত্রে, যেমন উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান ও কিরগিজিয়া থেকে আসা কৃষিজাত দ্রব্যের পরিমাণ খুবই কমে গিয়েছে, আর তা দশ থেকে পঞ্চাশ ভাগ কমেছে. এটা বলে দেয় যে, এই সব জিনিষ এখন কাজাখস্থানে এসে শুল্ক বিভাগ পার হয় ও তার পরে আর যেখানে উত্পন্ন হয়েছে, সেই দেশের থাকে না, হয়, ট্রানজিটের দেশের. এটা যারা এই ধরনের জিনিষপত্রের হিসাব রাখেন, তাদের ভুল করতে বাধ্য করে ও নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে দেয়”.

আরও একটি কার্যকরী ব্যবস্থা হতে পারে, এই ধরনের মাদক দ্রব্যের ব্যবহারের জন্যও যদি ফৌজদারী আইন কার্যকরী করা হয়, তাহলে যারা এই ধরনের মৃত্যুবাহী মাদক ব্যবহার করে, তাদের কারাবাস দেওয়া হলে, হয়তো দেশে মাদক ব্যবহার করা লোকের সংখ্যা কমবে ও তার ফলে দেশে মাদক আসা ও তা পাচার হওয়াও বন্ধ হবে. অল্প কিছুদিন আগেই রাষ্ট্রীয় মাদক বিরোধী পরিষদ এক জাতীয় পরিকল্পনা নিয়েছে, যাতে মাদক দ্রব্য ব্যবহার করে যারা অসুস্থ হয়ে পড়েছে, তাদের চিকিত্সা ও সমাজে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে. এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে শুধু বহু পরিবারের সমস্যাই কমবে না, বরং দেশে কম করে হলেও তিন লক্ষ কোটি রুবল সাশ্রয় করবে দেশের জন্য.