আফগানিস্তান থেকে নিজেদের সেনা বাহিনীকে যত দ্রুত সম্ভব ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বর্তমানে মার্কিন প্রশাসন চিন্তা করে দেখছে, বলে জানিয়েছে “নিউইয়র্ক টাইমস” সংবাদপত্র.

আফগানিস্তানে এই বিষয় নিয়ে কি ভাবা হচ্ছে?

"রেডিও রাশিয়ার" সাংবাদিক প্রতিনিধি জুহাল সারহাদকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে এই পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন আফগানিস্তানের পার্লামেন্টের সদস্য শাহ গুল রেজাই, তিনি বলেছেন:

“কোন সন্দেহই নেই যে, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে প্রথম ও দ্বিতীয় বন কনফারেনসের চুক্তি মানা হয় নি. দেশে এখনও বহু সমস্যা রয়েছে: সন্ত্রাসবাদ, মাদক উত্পাদন. অর্থনৈতিক ও অন্যান্য সমস্যাও রয়েছে. তাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনা বাহিনীকে সময়ের আগেই ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হলে তা বর্তমানের সমস্যাগুলিকে আরও জটিল করে তুলতেই পারে. আমি এই ধারণাকেও সম্ভব বলে মনে করি যে, সেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই এই সিদ্ধান্তের অনেক বিরোধী পাওয়া যাবে.

অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দিয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনা বাহিনী আফগানিস্তান থেকে আগে থেকে প্রকাশ করা পরিকল্পনা অনুযায়ী সময়ের আগে চলে গেলেই, তার পরিণামে বিপর্যয় হতে পারে. যেমন, ইরাক থেকে সেনা বাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরে আর একই সঙ্গে ফ্রান্সের তরফ থেকে আফগানিস্তানের কাপিসা প্রদেশ থেকে সেনা প্রত্যাহার ও ইতালির উরুজগান প্রদেশ থেকে সেনা প্রত্যাহার করার ফলে শুধু নেতিবাচক পরিণতিই হয়েছে. আমার আগে উল্লেখ করা সমস্ত সমস্যা গুলিই খালি তীক্ষ্ণতর হয়েছে.

আফগানিস্তানের বর্তমান প্রশাসনের প্রতিনিধিদের ছাড়াই তালিবদের সঙ্গে আলোচনা করা নিয়ে ওবামা ও কারজাইয়ের মধ্যে মতভেদ নিয়ে যা বলা যেতে পারে, তা নিয়ে আমি বলতে পারি যে, ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র আফগানিস্তান তালিবদের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অধিকার রাখে. আমরা আমাদের দেশ নিয়ে কোন সমস্যা সমাধান আমাদের পিছনে রেখে হতে দেবো না”.

আফগানিস্তানের রাজনৈতিক পর্যালোচনা লেখক আহমাদ জিয়া রাফাত মনে করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তানের উচিত্ হবে প্রাথমিক ভাবে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা নিয়ে চুক্তি করার, যাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একাংশকে আফগানিস্তানে রেখে দেওয়া নিয়ে অংশতঃ সমঝোতা থাকবে, তাই তিনি বলেছেন:

0“এই নিরাপত্তা সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্বেই দুই পক্ষই একে অপরকে ল্যাং মারার চেষ্টা করবে, এমনকি এই চুক্তি স্বাক্ষর না করার ইচ্ছা নিয়েও ঘোষণা করা হতে পারে. প্রসঙ্গতঃ এটা দুই পক্ষ থেকেই. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান নিয়ে এখনও ভাবার সময় রয়েছে, কিন্তু এই চুক্তি স্বাক্ষর করার পরে সম্পূর্ণ ভাবে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে কথা হতেই পারবে না.”