বুধবারে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা বিষয়ে পরামর্শদাতা বিলাল শেখের হত্যা সমস্ত রকমের তীক্ষ্ণ ভাবেই নতুন প্রশাসনের কাছে এক প্রশ্নের উদয় করেছে, কি করে সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের জঙ্গীদের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরী করা হবে – প্রাথমিক ভাবে পাকিস্তানের তালিবান আন্দোলনের সাথে. মনে হয় এই প্রশ্নে কোন রকমের সহমতে পৌঁছনোর উপায় নেই, কিন্তু এই রকমের সন্ত্রাসবাদী কাজকর্ম চলতে থাকলে তা খুবই গুরুতর পরিণাম দেবে ও এমনকি দেশ বহু খণ্ডে বিভক্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে.

নির্বাচনে উপস্থিত হয়ে পাকিস্তানের মুসলিম লীগের নেতা নওয়াজ শরীফ, আরও এক অতি জনপ্রিয় নেতা তেহরিক –এ-ইনসাফ দলের ইমরান খানের মতোই সেই সম্ভাবনাকে বাদ দেন নি যে, পাকিস্তানের তালিবদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা যেতে পারে, এই ক্ষেত্রে অবশ্য এদের একই নামের আফগানিস্তানের তালিবদের মতো বলে মনে করা ঠিক হবে না.

কিন্তু ক্ষমতায় পৌঁছে নওয়াজ শরীফ এই প্রশ্নে দুটি প্রধান সমস্যার সামনে পড়েছেন বলে উল্লেখ করে রাশিয়া স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“প্রথমটি হল – তেহরিক-এ-তালিবান পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদীরা এই সমস্ত শান্তিপূর্ণ আহ্বানে কোন পাত্তা দেয় নি ও তাদের অপরাধমূলক কাজকর্ম বজায় রেখেছে. নাশকতা মূলক কাজকর্ম চালিয়ে গেছে. করাচী শহরে বুধবারে করা অন্তর্ঘাত – যাতে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা সংক্রান্ত পরামর্শদাতা বিলাল শেখ নিহত হয়েছেন – তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ.

দ্বিতীয় সমস্যা রয়েছে তারই মধ্যে যে, যদিও পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বিগত বছর গুলিতে খুবই উল্লেখযোগ্য ভাবে প্রকাশ্য রাজনীতিতে অংশ নিচ্ছে না (অংশতঃ, এমনকি নওয়াজ শরীফের ক্ষমতায় আসাতেও তারা কোন বিরোধ করে নি), তা স্বত্ত্বেও রাজনৈতিক ভাবে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এখনও সামরিক বাহিনীর গুরুত্ব অপরিসীম. এই পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে সেই কারণে যে, এই বছরের শেষে বর্তমানের সেনা প্রধান জেনারেল পারভেজ আশফাক কায়ানির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে, আর তখন নওয়াজ শরীফ সেনা বাহিনীর সর্ব্বোচ্চ পর্যায়ে এমনভাবে কি নেতৃত্বের বদল করতে পারবেন, যাতে তা প্রাথমিক ভাবে দেশের সাংবিধানিক নিয়ম ভঙ্গ না করে, দ্বিতীয়তঃ, তাঁর নিজের স্বার্থের পক্ষে অনুকূল হয় ও তৃতীয়তঃ, সামরিক বাহিনীর থেকেই বিরোধের কারণ না হয়, - এটাই আপাততঃ একটা বড় প্রশ্ন”.

তেহরিক-এ-তালিবান পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে যা বলা যেতে পারে, তা হল যে, এখানে সামরিক বাহিনীর লোকরা সবচেয়ে জোর দিয়ে নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেছে, তারা রাজনৈতিক নেতাদের পক্ষ থেকে বিগত সময়ে ক্রমবর্ধমান প্রচেষ্টা, যা তালিবদের আলোচনাতে বসানোর জন্য করা হচ্ছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছে, তাই বরিস ভলখোনস্কি আরও বলেছেন:

“এই পরিপ্রেক্ষিতে বাইরের শক্তিরাই সক্রিয় হয়েছে, যাদের পাকিস্তানের পরিস্থিতিকে সেই ভাবে দেখাতে পারলেই ভাল হয়, যেন এই দেশ একটা “অসম্পূর্ণ রাষ্ট্র” অবস্থাতেই রয়েছে. ঠিক এই লক্ষ্যই কয়েকদিন আগে পশ্চিমের সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের পেছনে ছিল যে, পাকিস্তানের শৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা ওসামা বেন লাদেনকে আমেরিকার তরফ থেকে অপারেশন করে হত্যার কয়েকদিন আগে “অসাবধানী” হয়ে ছেড়ে দিয়েছিল: একটা গাড়ী করে নাকি বেন লাদেন যাচ্ছিল ও সেটাকে ট্রাফিক পুলিশ জোরে চালানোর জন্য ধরে দাঁড় করিয়েও ছিল, কিন্তু পুলিশরা নাকি বেন লাদেনকে চিনতে পারে নি, অথবা চিনতে চায় নি”.

প্রশাসনের অক্ষমতার অন্য আরেকটি প্রমাণ হিসাবে সন্ত্রাসের বিষয়কে বাড়িয়ে বলা হচ্ছে, যা পাকিস্তানের তালিবরা করছে. এখান থেকেই সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছনো দূর অস্ত নয় যে, সন্ত্রাসবাদীদের হাতে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে পাকিস্তানের পারমানবিক অস্ত্র, আর সেটা নিয়ে পশ্চিমে নিয়মিত ভাবে চেপে ধরে বোঝানোর চেষ্টা হচ্ছে.

এই সবই করা হচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে সেই চিত্র তৈরী করার জন্য – একটা ভয় ধরানো বিষয় নিয়ে: পাকিস্তান – এটা এমন একটা দেশ, যেখানে সমস্ত কিছুর মূল সুর দেয় সন্ত্রাস, যেখানে নাগরিকরা ও তাদের সরকার সামরিক বাহিনীর লোকদের সঙ্গে সমঝোতায় আসতে পারে না, আর এটা আবার, সামরিক অভ্যুত্থানের বিপদের কারণ হয়ে রয়েছে, যেখানে দেশের পুলিশ বাহিনী অক্ষম, আর সন্ত্রাসবাদীরা এই বুঝি পারমানবিক বোমা আয়ত্বে নিয়ে ফেলল.

আর যতই এই ছবি বাস্তব থেকে দূরবর্তী হোক না কেন, পশ্চিমের জনসাধারণের চোখে তা ভবিষ্যতে যে কোন রকমের শক্তি প্রয়োগের ঘটনার জন্য প্রামাণ্য হতে পারে, আর সেটা এই সেদিনের সহযোগী দেশের ক্ষেত্রে, যারা বিগত কয়েকদিন হল একেবারেই আর বাধ্য মনে হচ্ছে না.