রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ মনে করেন না যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সিরিয়ার বিরোধীদের সামরিক সহায়তা নিয়ে রাষ্ট্রপতি ওবামার সিদ্ধান্তকে আটকে দেওয়াতে সেই দেশের পরিস্থিতিতে কোন প্রভাব ফেলবে না. তিনি এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন বেলোরাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রধান ভ্লাদিমির মাকের সঙ্গে মস্কো শহরে হওয়া এক বৈঠকের পরে সাংবাদিক সম্মেলনে. তিনি বলেছেন:

“আমি মনে করি না যে, এটা পরিস্থিতির উপরে কোন রকমের প্রভাব ফেলবে, যদি সেই অবস্থানের কথা হিসাবের মধ্যে আনা হয় যা বর্তমানে প্রশাসনের বিরোধী পক্ষ নিয়েছে. তারা যথেষ্ট পরিমানে নানারকমের অস্ত্র সরবরাহ পাচ্ছে, আর তার মধ্যে রয়েছে, সবচেয়ে আধুনিক অস্ত্রও. তারা এই সব অস্ত্র সক্রিয়ভাবে ব্যবহারও করছে. আর তারা তো এমনিই বলছে না যে, তারা সম্মেলনে যাবে, শুধু তার পরেই যখন তাদের দখলে সিরিয়ার এলাকার কোন একটা অংশ আসবে. যদি এই যুক্তিতে চলা হয়, তবে আমা কোন দিনই এই সম্মেলনের আহ্বান করে উঠতে পারবো না, আর আমরা সেই যুক্তি থেকেই কথা বলছি যে, আমাদের পশ্চিমের সহকর্মীরা নিজেদের উপরে একটা দায়িত্ব নিয়েছেন যে, তাঁরা বিরোধীদের একজোট করবেন তাদের মধ্যে সহমত তৈরী করবেন ও জেনেভা সম্মেলনে আসবেন কোন রকমের প্রাথমিক শর্ত ছাড়াই, যাতে, এক বছর আগে নেওয়া জেনেভা কমিউনিকের শর্ত পালন করা সম্ভব হয়”.

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ব্যাখ্যা করে বলেছেন সিরিয়াতে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে তদন্তের পরিণাম সম্বন্ধে, তিনি উল্লেখ করেছেন:

“আমাদের বিশেষজ্ঞরা নমুনা সংগ্রহ করেছেন, তারা সেগুলিকে রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধ করার সংস্থা স্বীকৃত ল্যাবরেটরীতে পরীক্ষা করে দেখেছে ও সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, এই গোলা ও তার মধ্যে থাকা জারিন গ্যাস – হাতে বানানো. সেখানে একেবারেই স্পষ্ট ও কেন রকমের দ্বিমত থাকতে পারে এমন সম্ভাবনা না রেখেই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে, যাতে এই গোলার চরিত্র ও এই জারিন গ্যাসের নমুনা সেই মানের সঙ্গে একেবারেই মেলে না, যা সামরিক শিল্পে বানানোর সময়ে মেনে চলা হয়. আমাদের বাড়তি তথ্য অনুযায়ী এই গোলা ও তার মধ্যের জিনিষ ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে বানানো হয়েছিল সিরিয়ার এলাকাতেই, যা তখন স্বাধীন সিরিয়ার বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল, আর তা বানিয়েছে এক গোষ্ঠী, যারা এই স্বাধীন সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর সঙ্গেই যুক্ত রয়েছে”.

সের্গেই লাভরভ আরও বলেছেন সিরিয়াতে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা নিয়ে কিছু পশ্চিমের দেশের অবস্থান নিয়ে, তিনি যোগ করেছেন:

“আমি শুনেছি, সেই নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধির করা প্রতিক্রিয়া যে, তারা আমাদের সিদ্ধান্তের সঠিক হওয়া নিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারে নি. আমরা সম্পূর্ণ রকমের দলিল পত্র হস্তান্তর করেছি, এটা ৮০ পাতার বেশী, যেখানে ফোটো সমেত নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার বর্ণনাও রয়েছে প্রামাণ্য সংগ্রহের বিষয়ে. তাতে সমস্ত পদ্ধতি ও পরীক্ষার ফলাফল ইত্যাদিও দেওয়া হয়েছে. এই প্রসঙ্গে আমরা গ্যারান্টি দিয়েছি যে, নমুনা সংগ্রহ করেছেন বিশেষজ্ঞরা, যাঁরা ল্যাবরেটরীতে পৌঁছনোর আগে পর্যন্ত এই নমুনা নিজেদের হাত থেকে এক মুহূর্তও বের হয়ে যেতে দেন নি. সেই সব জোর দিয়ে বলা কথা, যা আমাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, গ্রেট ব্রিটেনের সহকর্মীরা বলেছেন যে, তাঁদের কাছে প্রমাণ রয়েছে যে, সিরিয়ার প্রশাসনই রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে, - তা কিন্তু তাঁরা এই ধরনের প্রমাণের ভিত্তিতে বলেন নি. তাঁদের দেওয়া প্রমাণে কোথায় নমুনা নেওয়া হয়েছে, কখন নেওয়া হয়েছে, তার কোনই প্রমাণ দেওয়া হয় নি. তার ওপরে আবার, তাতে বলা হয়েছে যে, সেই সব নমুনা বা তথ্য সংগৃহীত হয়েছে সেই লোকদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই, যারা পরে এর বিশ্লেষণ করেছেন. এই সব নমুনা এক হাত থেকে অন্য হাতে গিয়েছে, আমাদের পশ্চিমের সহকর্মীদের খবর অনুযায়ী, তাঁরা এই সব পেয়েছেন সাংবাদিকদের কাছ থেকে. এই সবই একেবারেই সেই সমস্ত মানের মধ্যে পড়ে না, যা রাসায়নিক অস্ত্র নিষেধ সংস্থার বর্তমানে রয়েছে”.

মন্ত্রীর কথামতো, রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই ৯ই জুলাই রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব বান কী মুনকে এক প্রামাণ্য দলিল হিসাবে হস্তান্তর করা হয়েছে, দেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা পরিষদকে ও কোন রকমের বাধাই নেই যে, এই দলিল এবারে জনসমক্ষে আনা যেতেই পারে.