গুয়ান্তানামো কারাগারে বন্দীরা নিজেরাই খাবার খায়, যদি সেই সময়ে তাদের একই কামরার বন্দীরা না থাকে – বলছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধি.

মঙ্গলবার থেকে পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার পর থেকে গুয়ান্তানামো বে জেলে জোর করে বন্দীদের দিনের বেলায় খাওয়ানোর বিষয়টা সংবাদ মাধ্যমের শিরোনামে চলে এসেছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঐস্লামিক সমাজের নেতারা চারজন বন্দীর উকিলের সঙ্গে একজোট হয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রপতির প্রশাসনকে এই বিতর্কিত নীতি পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদনের সময়ে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণের বাহিনীর তথ্যসচিব এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ অফিসার গ্রেগোরী জুলিয়ান “রেডিও রাশিয়ার” সঙ্গে গুয়ান্তানামো জেলের বর্তমান পরিস্থিতি, বন্দীদের স্বাস্থ্য ও সম্ভাব্য বিদ্রোহ নিয়ে আলোচনা করেছেন.

দিনের বেলায় পাহারদাররা গুয়ান্তানামো জেলে জোর করে খাওয়াবে না বলে যে আশ্বাস দিয়েছিল, তা কি পালন করা হচ্ছে বলে কোন খবর আছে?

এটা একেবারেই ঠিক খবর, খাওয়া পান সবই হচ্ছে সূর্যাস্তের পরে ও সূর্যোদয়ের ঠিক আগে, আর এটাও সত্যি যে, সেই সমস্ত লোকের বেশীর ভাগই, যারা এই খাওয়ার তালিকায় রয়েছে, তারা নিজেরাই আলাদা করে খাদ্যের পরিপূরক অথবা নিজেদের খাবার খাচ্ছে, যখন চারপাশে তাদের একই কামরার বন্দীরা থাকছে না.

যদি জোর করে খাওয়ানো চলতে থাকে, তাহলে কি হবে ? আরও একটা বিদ্রোহ কি হতে পারে?

এটা করার কোনই দরকার নেই. আমরা আমাদের কাজের রুটিন পাল্টে ফেলেছি, যা আমরা প্রত্যেক বছরেই রমজান মাসে করে থাকি, যাতে ধর্মীয় আচারের সঙ্গে মিল রাখা সম্ভব হয়.

আপনি কি আমাদের সেই সব বন্দীদের সম্বন্ধে কিছু বলতে পারেন ? তারা কি রকম বোধ করছেন? তাদের অবস্থা কি?

আমি বলতে পারি যে, যারা এই উপবাস করার তালিকায় আছেন, তাদের মধ্যে ১০২ জন, গত পরশু একেবারে নিশ্চিত ভাবে খাওয়াদাওয়া করেছেন. আমি গতকালের সন্ধ্যা নিয়ে খুব একটা নিশ্চিত নই, কিন্তু আসলে এটা এমন কিছু বেশী সংখ্যক মানুষ নন, যারা এই উপবাস করা নিয়ে খুবই গোঁয়ার্তুমি করে থাকেন.

বিতর্কের প্রধান কারণ কি ছিল যে, ১০০ জনেরও বেশী উপবাস শুরু করেছিলেন ?

আমার পক্ষে ঠিক হবে না সেই নিয়ে কোন ধারণা করতে যাওয়া যে, কেন বন্দীরা উপবাস ঘোষণা করেছে ও তারা কি ভাবছে. এটা আমার অধিকারের মধ্যে পড়ে না, কিন্তু আমি আপনাদের বলতে পারি যে, আমরা ৯০ দিন ধরে বন্দীদের কামরার মূল্যায়ণ করে দেখেছি, আর আমরা আবার করে তাদের আলাদা একক বন্দীর কামরায় রেখেছি, যদি তারা কামরার ভিডিও ক্যামেরা ভাঙে বা তা ঢাকা দিয়ে রাখার চেষ্টা করে অথবা এই রকমের কিছু করে. এখন আমরা ৪০ জনেরও বেশী লোককে আবার একসাথে থাকার কামরায় ফেরত এনেছি, আগের মতই যেমন ছিল. আরও ৩০ জনকে অংশতঃ সকলের মধ্যে থাকার পরিস্থিতিতে ফিরতে দিয়েছি, কারণ তারা কিছুটা ছাড় দেওয়ার মত ব্যবহার করেছে, আর আমাদের প্রধান কাজ হল তাদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখা.

যদি তাদের উপবাস করার আগের ও এখনকার স্বাস্থ্য তুলনা করা হয়, তবে তাতে কি তফাত দেখা যাবে ?

আসলে, সেটা প্রায় একই রয়েছে. এদের অনেকেরই শতকরা ৯০ ভাগ শরীরের ওজন আদর্শ রকমের, তাদের সব রকমের থাকার মতো অবস্থা রয়েছে, যা তাদের থাকার কথা, আর তাদের সমস্ত সাধারণ সুবিধা দেওয়া হয়ে থাকে. তারা খুবই মানবিক ও নিরাপদ পরিস্থিতিতে বেঁচে আছে.

আপনি তাদের নিয়মিত রুটিনে কোন রকমের পরিবর্তনের কথা কি আলোচনা করেছেন, তাদের প্রাত্যহিক কাজকর্ম নিয়ে ? তা কি পাল্টানোর দরকার রয়েছে? আপনি এই সম্বন্ধে কি ভাবেন?

আগে ছিল অপ্রয়োজনীয় রকমের বেশী সহনশীলতা, যা এই সব সাধারণ কামরাতে দেখানো হত, যা এমন একটা পরিস্থিতিতে নিয়ে এসেছে যে, যখন ভিডিও ক্যামেরা ঢাকা দেওয়া হয়েছে অথবা ভাঙা হয়েছে, আর এটা করতে দেওয়া যায় না, কারণ এটা না থাকলে আমরা তাদের স্বাস্থ্যের দিকে চিকিত্সা শাস্ত্রের দিক থেকেই নজর রাখতে পারবো না. তখন কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে, আর তারা যারা এখানে দল বেঁধে বাস করার পরিস্থিতিতে রয়েছে, তারা কোন রকমের নিয়ম ভাঙলে, তাদের একা থাকার কামরায় পাঠানো হয়. যারা এই ধরনের পরিস্থিতির সঙ্গে একমত, তারা সাধারণ সকলের কামরাতেই থেকে যায়, যা অনেক বেশী ভাল.