এক-শো কুড়ি কোটি মানুষ, অর্থাত্ বিশ্বের সমস্ত জনতার একের পঞ্চমাংশ লোক এমন সব জায়গা থাকেন, যেখানে জলের সংকুলান হয় না. আরও এক-শো পঞ্চাশ কোটি মানুষ বাধ্য হন জলের ব্যবহার কমাতে, কারণ প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নেই.

এই সমস্যা বিশ্বের নানা কোণে জানান দিচ্ছে, তার মধ্যে মধ্য এশিয়াতেও. এখানে বিরোধের পক্ষ হিসাবে এগিয়ে রয়েছে উজবেকিস্তান, কিরগিজিয়া ও তাজিকিস্তান. শেষ দুই প্রজাতন্ত্রের এলাকায়, এই অঞ্চলের প্রধান জলের উত্স গুলি রয়েছে – তিয়ানশান ও পামীর হিমবাহ. এখানেই শুরু হয় আমুদরিয়া ও সিরদরিয়া – যা মধ্য এশিয়ার মূল জলের ধমনী. শুধু কয়েকটি জলবিদ্যুত প্রকল্প তৈরী করেই কিরগিজিয়া চাইছে নিজেদের সমস্ত বিদ্যুতের চাহিদা মিটিয়ে ফেলতে, আর এই পরিকল্পনা উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তানকে উদ্বিগ্ন করেছে, যারা মনে করেছে যে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দুই দেশই প্রয়োজনীয় জলের উত্স হারাবে. বলা দরকার, যে জল নিয়ে সমস্যা এই দুই দেশের মধ্যেও রয়েছে.

এই ধরনের বিবাদ অন্যান্য এলাকাতেও হচ্ছে. যেমন, বেজিং ও দিল্লী ব্রহ্মপুত্রের জল নিয়ে বিবাদ করছে. চিনের এলাকায় এই নদী শুরু হয়ে ভারতে এসে মহাসাগরে তা পড়েছে. বেজিং পরিকল্পনা করেছে ব্রহ্মপুত্র নদীতে এক সারি জলবিদ্যুত কেন্দ্র বসানোর, যা দিল্লীর মতে ভারতের অর্থনৈতিক ও পরিবেশ গত সমস্যার কারণ হতে চলেছে. নীল নদীর জল কায়রো ও আদ্দিস আবাবার মধ্যে সম্পর্কে উত্তেজনার কারণ হয়েছে. ইথিওপিয়া নীল নদীর উপরের অববাহিকাতে ঠিক করেছে বড় জলবিদ্যুত কেন্দ্র বসাবে. ইজিপ্টে আশঙ্কা করা হয়েছে যে, এর ফলে তাদের একের চতুর্থাংশ জল কমে যাবে বাঁধ দেওয়ার জন্য.সেই দেশ, যাদের শতকরা ৯৬ ভাগ এলাকা হল মরুভূমি, তাদের জন্য এটা বিপর্যয়ে পরিণত হতে পারে. একমাত্র শান্তিপূর্ণ ভাবে এই গুলিকে মিটিয়ে ফেলার উপায় হতে পারে নিরপেক্ষ কোন বিচারককে ডেকে আনা. এই মর্মে রাষ্ট্রসঙ্ঘ কাজ করতে পারে, এই রকম মনে করে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষজ্ঞ ও রাশিয়ার রাজনৈতিক আকৃতি কেন্দ্রের ইভগেনি ভইকো বলেছেন:

“এখানে প্রয়োজন হবে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গুলির কাছে অ্যাপীল করার, কারণ এই সব রাষ্ট্ররা নিজেরা এই সমস্যা সমাধান করতে সমর্থ নয়, কারণ কোন এক পক্ষের সুবিধা করে অন্য পক্ষের ক্ষতি করে ফেলা হবে. তার ওপরে যেমন, ভারত ও চিনের মধ্যে শুধু জলসম্পদ নিয়েই লড়াই চলছে না, বরং চলছে এই এলাকার সর্বত্র প্রভাব নিয়েও. তাই এখানে জলসম্পদের প্রশ্ন দেশ গুলির মধ্যে রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ে পরিপ্রেক্ষিতে একটা কারণ হয়ে রয়েছে”.

অকল্যান্ড শহরের প্রশান্ত মহাসাগরীয় ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বিশ্বে ৪১টি সশস্ত্র যুদ্ধ হয়েছে জলের জন্য. একটি হয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের এলাকায়, ছয়টি এশিয়াতে, আটটি – লাতিন আমেরিকায় ও ১১টি – আফ্রিকাতে আর ১৫টি – নিকটপ্রাচ্যে. এই সংঘর্ষ নানা কারণে উস্কে দেওয়া হয়েছে: ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক, কিন্তু শেষ অবধি যুদ্ধ হয়েছে জলের উত্স পাওয়ার জন্যই. যেমন, কাশ্মীর রাজ্যের বিচ্ছিন্নতাবাদী লোকরা বহু বছর ধরে এখানে জলের পাইপ লাইন বসাতে দিচ্ছে না, যা তাদের রাজনৈতিক লড়াইয়ের অংশ হয়েছে. আর ব্রাজিলের মাতো-গ্রোসো এলাকায় লাতিফুন্দিস্ট লোকরা স্থানীয় আদিবাসীদের জলের উত্স মুখ বিষাক্ত করে দিয়েছে, যাতে তাদের জমির দখল নেওয়া যায়. গবেষকরা জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই ধরনের বিরোধ আগামী বছর গুলির সঙ্গে খালি বাড়তেই থাকবে.