সংবাদ মাধ্যমগুলি জানাচ্ছে, যে রাশিয়া জুন মাসে খনিজ তেল নিষ্কাশনের রেকর্ড সৃষ্টি করেছে.  প্রত্যেক দিন দেশে গড়ে সাড়ে দশ মিলিয়ন ব্যারেল নিষ্কাশন করা হয়েছে, যখন সৌদি আরবে সেই সংখ্যাটা সাড়ে নয় মিলিয়ন.

       বিশেষজ্ঞরা বিগত কয়েক বছরে দ্রুত খনিজ তেল নিষ্কাশনের মাত্রা বৃদ্ধি লক্ষ্য করছেন. কোনো কোনো কোম্পানী  সংকটের আগেই লগ্নি করেছিল বিভিন্ন প্রকল্পে, এখন সেগুলি প্রত্যাশিত উত্পাদন হারে গিয়ে পৌঁছেছে. নিষ্কাশন বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছে বিশ্বের বাজারে খনিজ তেলের উঁচু দর. ফেব্রুয়ারী মাসে দর সর্বোচ্চ - ব্যারেল প্রতি ১১৯ ডলারে গিয়ে পৌঁছেছিল, আর এমনিতে গত অর্ধবর্ষে তেলের গড় দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ১০৮ ডলার. 'আইএফডি ক্যাপিটালের' বিশ্লেষক ভিতালি ক্রুকভ বলছেন, যে এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে একমাত্র কারণ নয়. -

      রাশিয়ায়   খনিজ পদার্থ নিষ্কাষণের ক্ষেত্রে নির্ণায়ক হচ্ছে সরকার প্রবর্তিত করনীতি এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে সরকারি নীতিকে খাপ খাইয়ে নেওয়ানোর সদিচ্ছা. কোম্পানীগুলি নতুন নতুন খনি আয়ত্ত করছে, তার জন্য কিছু পরিমাণ কর মকুব করা আবশ্যক.

      বছর দুয়েক আগে পর্যন্তও বিশেষজ্ঞরা নিষ্কাশনের পড়তির পূর্বাভাস দিচ্ছিলেনঃ মূল ভান্ডার - পশ্চিম সাইবেরিয়ার ভূগর্ভস্থ রসদ ফুরিয়ে আসছে, নতুন খনিগুলি আয়ত্ত করা পড়তায় পোষাবে না. দুরূহ খনিগুলির জন্য বিশেষ ছাড় দানই পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে - বলছেন জাতীয় জ্বালানী শক্তি ইনস্টিটিউটের আধিকারিক সের্গেই প্রাভোসুদভ. -

      খনিজ দ্রব্য নিষ্কাশনের ক্ষেত্রে করের বিভিন্ন হার জারি করে সরকার ঠিক কাজ করেছে. দুরূহ খনি থেকে তেল নিষ্কাশন করতে গেলে করে বিশেষ ছাড় দেওয়া হচ্ছে. তাই এতদিন যে সব খনি অধরা পড়ে ছিল, সেখানে নিষ্কাশন শুরু হয়েছে অথবা হচ্ছে. এর সুবাদেই আমাদের দেশে খনিজ তেল নিষ্কাশনের পরিমাণ বাড়ছে.

      বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যে খনিজ তেল নিষ্কাশনের উর্দ্ধগতি অব্যাহত থাকবে. রাশিয়ার এই ক্ষেত্রে অগাধ সম্ভাবনাঃ কর  ছাড়ের সুবাদে নিষ্কাশন বাড়তেই থাকবে. চাহিদাও থাকবে আগের মতোই, তবে ইউরোপের কারণে নয়, দ্রুত উন্নয়নশীল চীন ও ভারতের দৌলতে. পিটার্সবার্গ ফোরামে এমন এক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যাকে পর্যবেক্ষকরা নজিরবিহীন বলে অভিহিত করছেনঃ  রসনেফত্  আগামী ২৫ বছর ধরে চীনের সিএনপিসি কোম্পানীকে বার্ষিক ৪৬ মিলিয়ন টন খনিজ তেল সরবরাহ করবে.