রাশিয়া ৯ই জুলাই রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব বান কী মুনকে এক প্রামাণ্য দলিল হস্তান্তর করেছে, যাতে সিরিয়াতে জঙ্গীরা যে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে, তার সমর্থনে তথ্য দেওয়া হয়েছে. এতে বলা হয়েছে যে, সরকারি ফৌজ এই অস্ত্র ব্যবহার করে নি. বাশার আসাদের প্রশাসনকে বর্বর পদ্ধতিতে যুদ্ধ করা নিয়ে অভিযোগ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কিছু দেশের জন্য কারণ হয়েছিল, যাতে সিরিয়ার জঙ্গীদের অস্ত্র সরবরাহ করার উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা সম্ভব হয়.

রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা প্রমাণ করেছেন যে, সিরিয়ার যোদ্ধারাই এই বছরের ১৯শে মার্চ জারিন গ্যাস সমেত বোমা আলেপ্পো শহরের উপকণ্ঠে বিস্ফোরণ করেছে. রাশিয়ার থেকে পাঠানো তথ্য আমেরিকা থেকে সেই একই সমস্যা নিয়ে পাঠানো তথ্যের তুলনায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক বিষয়ে আলাদা. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই বিষয়ে পরীক্ষার মাল মশলা পেয়েছে মধ্যস্থদের সূত্রে. রাশিয়ার পক্ষ থেকে বিশ্লেষণ করা হয়েছে একেবারে এই বোমা পড়ার জায়গাতেই. তা রাশিয়ার সেই ল্যাবরেটরীতে পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে, যা রাসায়নিক অস্ত্র নিরোধ সংস্থার দ্বারা স্বীকৃত. এই সংস্থার কড়া নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ, পরিবহন ও সংরক্ষণ এবং সেগুলির পরীক্ষা করা হয়েছে.

অনুসন্ধানের জায়গায় খুবই খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে দেখতে পাওয়া গিয়েছে যে, জঙ্গীরাই এই নিয়ন্ত্রণ অযোগ্য জারিন গ্যাস সহ বোমা “বাশাইর – ৩” ছুঁড়েছিল, এই কথা জানিয়েছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রসঙ্ঘের স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিন. এই বোমার আঘাতে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল, মৃতদের মধ্যে ১৬ জন সিরিয়ার সেনা. ৮৬ জন মানুষ বিভিন্ন স্তরে কড়া বিষে আক্রান্ত হয়েছিলেন. রাশিয়ার পক্ষ থেকে পরীক্ষার প্রধান সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, এই জারিন গ্যাস, কারখানা অথবা রাসায়নিক শিল্প থেকে পাওয়া যায় নি, তাই ভিতালি চুরকিন বলেছেন:

“এই পরীক্ষার প্রমাণ একেবারে স্পষ্ট করেই দেখিয়ে দেয় যে, এখানে ব্যবহৃত যুদ্ধাস্ত্র কোন সামরিক শিল্পে উত্পাদিত নয়, আর তা জারিন গ্যাস দিয়েই ভর্তি করা হয়েছিল. জারিন গ্যাসের প্রযুক্তিগত বিশেষত্ব নির্দেশ করে যে, সেই গ্যাসও কারখানায় তৈরী করা হয় নি. রাসায়নিক ভাবে স্থিতিশীল করার জন্য কোনও উপাদান এই বিষাক্ত দ্রব্যের নমুনায় না পাওয়া যাওয়াতে, তা নির্দেশ করে যে এই গ্যাস বেশী দিন আগে তৈরী করা হয় নি. আর সে গোলা বা বোমা সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল যে, এটা রাসায়নিক ভাবে ব্যবহারের জন্য মান অনুযায়ী তৈরী করা হয় নি. ব্যবহৃত হেক্সোজেন বা আরডিএক্স বোমার মশলাও... সাধারণ ভাবে ব্যবহার হওয়া বোমা বা গোলার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় না”.

এই তথ্য দামাস্কাসের বিরুদ্ধে সেই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভাবে নস্যাত করে দেয় যে, সরকারি ফৌজ রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে. সামরিক বাহিনীর এই ধরনের অস্ত্রের ক্ষেত্রে একেবারেই অন্য সমস্ত মাল মশলা থাকে.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করেছে যে, তারা এখনও রাশিয়ার সিদ্ধান্ত পায় নি, কিন্তু আগে থেকেই তার সততা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে. এই বিষয়ে অংশতঃ হোয়াইট হাউসের সরকারি মুখপাত্র জে কার্নি ঘোষণা করেছেন, তিনি বলেছেন:

“আমরা এখনও এই ধারণার স্বপক্ষে বলা কোন তথ্য পাই নি যে, সিরিয়ার সরকার বা সরকারি ফৌজ ছাড়া কেউ রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে অথবা তা করার সম্ভাবনা রাখে. আমরা খুবই গুরুতর ভাবে সন্দেহ করছি যে, সিরিয়ার সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে সেখান রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে বলে”.

রাসায়নিক অস্ত্র নিরোধ সংস্থা রাষ্ট্রসঙ্ঘের সহযোগিতায় তৈরী করা হয়েছিল ১৯৯৭ সালে. তাদের মুখ্য কাজ – রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের উপরে নিষেধাজ্ঞা পালন করা হচ্ছে কি না তা দেখা ও তা নষ্ট করে দেওয়ার বিষয়ে সাহায্য করা. এটা মুখ্য আন্তর্জাতিক সংস্থা, যাদের অধিকার রয়েছে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার হয়েছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখার ও সিদ্ধান্ত দেওয়ার. সিরিয়া ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে, এই সংস্থা ও রাষ্ট্রসঙ্ঘের প্রতিনিধিদের, তারা দেশে আমন্ত্রণ করছে জঙ্গীরা যে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে, তা খুঁটিয়ে তদন্ত করার জন্য.