ইজিপ্টের সাময়িক রাষ্ট্রপতি আদলি মনসুর দেশের প্রধানমন্ত্রীর পদে নিযুক্ত করেছেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী হাজেম এল-বেবলাভি- কে. উপ প্রধানমন্ত্রীর পদ পেয়েছেন আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রাক্তন প্রধান মোহাম্মেদ আল-বরাদেই. নতুন ইজিপ্টের প্রশাসনের ধর্মনিরপেক্ষতার প্রমাণ আবার করে দিয়েছে দেশের মন্ত্রীসভার মুখ্য পদে লিবারেল রাজনীতিবিদ ও লিবারেল অর্থনীতিবিদের নিয়োগ. সাময়িক প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে, আগামী তিনদিনের মধ্যে দেশের অন্তর্বর্তী কালীণ মন্ত্রীসভা বাছাই করা শেষ হবে. দেশের মুখ্য রাজনৈতিক বিচারক সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে, তারা এই পদ নিয়োগ করাকে সমর্থন করে ও তারা এর চারপাশ ঘিরে কোন রকমের রাজনৈতিক দিক পরিবর্তন সহ্য করবে না.

ইজিপ্টের মন্ত্রীসভায় মনে হচ্ছে যে, একজনও ঐস্লামিক থাকবে না. যদিও আদলি মনসুরের দপ্তর থেকে মুসলমান ভাইদের পক্ষ থেকে মন্ত্রীসভায় নিজেদের প্রতিনিধিদের পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল, তার উত্তরে পাওয়া গিয়েছে খুবই কড়া আপত্তি. এই আন্দোলনের প্রতিনিধি বলেছে যে, তারা সামরিক অভ্যুত্থানের লোকদের সঙ্গে কোন সহযোগিতা করে না.

ভাইয়েরা এবারে একেবারে সম্পূর্ণ রকমের বিরোধী দলে পর্যবসিত হয়েছে. তারা নতুন প্রশাসনের আইন সঙ্গত হওয়া ও রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে সাংবিধানিক পরিবর্তনের পরিকল্পনা মানতেই রাজী নয়, যেখানে বলা হয়েছে নতুন সংবিধান প্রস্তুত করা নিয়ে, তা নিয়ে জনমত গ্রহণের কথা, ২০১৪ সালে পার্লামেন্ট নির্বাচনের কথা ও ঠিক তা গঠনের পরেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পরিকল্পনাকেও তারা অস্বীকার করেছে. মুসলমান ভাইয়েরা এবারে এমনকি নতুন প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান করার হুমকি দিয়েছে.

ইজিপ্টের বিশেষজ্ঞরা সন্দেহ করেন যে, ভাইদের মোটেও সম্ভাবনা হবে না এই ঘনঘন বিপ্লব থেকে ক্লান্ত ইজিপ্টের লোকদের নতুন করে ব্যারিকেডের পাশে টেনে বার করে আনার. দেশ মনে তো হয় না সিরিয়া অথবা লিবিয়ার দুঃখজনক ঘটনা পরম্পরার পুনরাবৃত্তি করবে, এই রকম মনে করে ইজিপ্টের আল-মার্সি আল-ইয়াউম খবরের কাগজের প্রধান সম্পাদক ইহাব আজ-জিলাকি বলেছেন:

“আমি মনে করি না যে, সিরিয়ার মত করেই পরিস্থিতি বদলাবে. তাও ইজিপ্টের লোকরা একেবারেই হিংসার বিরুদ্ধে. যা সব আমরা সম্ভবতঃ দেখতে পাবো, - এটা আলাদা করে সংঘর্ষ, যার পেছনে রয়েছে কট্টরপন্থী ও আরও সমস্ত অন্ধকার ব্যক্তিত্ব. কিন্তু এটা – সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, এক আধটা ঘটনাই হবে. সম্পূর্ণ মাপের গৃহযুদ্ধের দিকে ব্যাপার গড়াবে না”.

“মুসলমান ভাইদের” হিসাব থেকে সম্পূর্ণ ভাবে বাদ দিতে যাওয়া অবশ্যই এখনই তাড়াহুড়ো হয়ে যাবে, এই রকম কথা উল্লেখ করেছেন রুশ প্রাচ্য বিশারদ সিমিওন বাগদাসারভ. কারণ প্রশাসন পাল্টানোর প্রস্তুতি তাদের একেবারে চোখের সামনেই হয়েছে, আর তারা বোধহয় কোন একটা বাধা দেওয়ার ভিত্তি তৈরী করতে পেরেছে. কিন্তু তাদের পক্ষে বিদেশে বাইরে কারও উপরে তাদের নির্ভর করা কঠিন হবে, এই বিশ্বাস নিয়ে বাগদাসারভ বলেছেন:

“মুসলমান ভাইদের কোনও আন্তর্জাতিক সমর্থন নেই. সৌদী আরব ও এমনকি কাতারের নতুন আমীর সামরিক বাহিনীর লোকদের সমর্থন করে কথা বলেছেন. এটা অবশ্যই ঐস্লামিকদের পক্ষে যেতে পারে না. অন্য বিষয় হল সামরিক বাহিনীর উপরে এই বিরোধীদের কোনও প্রভাব রয়েছি কি না? যদি এমনকি জুনিয়র অফিসার অথবা একেবারে সাধারণ সেনারাও তাদের সমর্থন করে, তবে ইজিপ্টের ঘটনা একেবারেই অন্যদিকে মোড় ফিরতে পারে”.

নতুন প্রশাসনের পক্ষে অনেকটাই সমর্থনের কারণ হয়েছে হঠাত্ করেই সৌদী আরবের পক্ষ থেকে ইজিপ্টের অসুস্থ অর্থনীতিতে পাঁচশো কোটি ডলার সহায়তা দানের প্রস্তাব. তার মধ্যে দুশো কোটি দেওয়া হচ্ছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ককে বিনা সুদে ঋণ হিসাবে, এক-শো কোটি দেওয়া হচ্ছে ইজিপ্টের অর্থনীতিতে এই রাজতন্ত্রের পক্ষ থেকে সরাসরি অনুদান হিসাবে. সৌদী আরব তারই সঙ্গে ইজিপ্টকে খনিজ তেল ও গ্যাস দিতে চলেছে আরও দুশো কোটি ডলার অর্থের.

অন্তর্বর্তী কালীণ মন্ত্রীসভাতে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রাক্তন প্রধান ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মোহাম্মেদ আল- বরাদেই পররাষ্ট্র নীতি সংক্রান্ত প্রশ্ন গুলি দেখাশোনা করবেন. তাঁকেই মনে করা হয়েছে আগামী বছরে ইজিপ্টের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সবচেয়ে সম্ভাব্য প্রার্থী বলে.