মস্কো শহরে নিজের কর্মসূচী অনুযায়ী সফরে রয়েছেন ভারতের জর্জ্জিয়া ও আর্মেনিয়া দেশে রাষ্ট্রদূত ও “দিল্লী পলিসি গ্রুপ” নামের কেন্দ্রের পরিকল্পনা ও গবেষণা বিভাগের ডিরেক্টর অচল কুমার মলহোত্র. তিনি একসারি সাক্ষাত্কারে এখানে করেছেন আফগানিস্তানের বিষয়ে রুশ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে, যেগুলি চলার সময়ে আলোচনা করা হয়েছে খুবই প্রসারিত প্রশ্নাবলী নিয়ে, যা এই দেশে পরিস্থিতি ও তা ঘিরে পরিস্থিতি পরিবর্তন নিয়ে তৈরী হয়েছে পশ্চিমের জোটের সেনাবাহিনী ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরে কি হতে চলেছে, সেই সম্বন্ধে. অন্যান্য প্রশ্নের মধ্যে আলোচনা করা হয়েছে, শুধু আফগানিস্তানেই নয়, বরং এই এলাকার অন্যান্য দেশগুলিরও স্থিতিশীলতা, উন্নয়ন ও শান্তির প্রয়াসে প্রতিবেশী দেশ গুলির প্রভাব বিস্তারের সম্ভাবনা নিয়ে. রাষ্ট্রদূত অচল মলহোত্রর সঙ্গে বিশেষ করে “রেডিও রাশিয়ার” জন্য কথা বলেছেন রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি.

প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন, ভারত কতখানি শক্তি দিয়ে আফগানিস্তানের পরিস্থিতির উপরে, প্রভাব ফেলতে পারে, এখানে কি লক্ষ্য, ভারত সামনে পূরণের জন্য রাখছে ও ২০১৪ সালের পরে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি কিভাবে পাল্টাতে থাকবে, বলে মনে করেন?

উত্তর: আমরা, কম করে বলা হলে, বলা যেতে পারে যে, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন. আমাদের কাছে পুরোটা স্পষ্ট নয়, আফগানিস্তানের নিরাপত্তা রক্ষার শক্তিরা, এই পরিস্থিতির সঙ্গে পেরে উঠবে কি না. তারই সঙ্গে বোঝা যাচ্ছে না, এই দেশে বিদেশী সৈন্য বাহিনীর উপস্থিতি তার পরে থাকবে কি না আর থাকলে কি পরিমানে থাকবে. তা ছাড়া, আমরা খুবই গুরুতর ভাবে ২০১৪ সালের পরে সম্ভাব্য ঘটনা পরম্পরার পরিবর্তন নিয়েও উদ্বিগ্ন: এই বিশৃঙ্খল অবস্থা ছড়িয়ে পড়বে কি না, গৃহযুদ্ধ হবে কি না, তালিবদের সঙ্গে সামরিক বিরোধ চলতেই থাকবে কি না.

প্রশ্ন: কয়েকদিন আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সলমন খুরশিদের ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে, আপনার কি মনে হয় যে, তালিবদের আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে সম্ভাব্য আহ্বান সম্বন্ধে ভারতের কি অবস্থানের পরিবর্তন হয়েছ?

উত্তর: আমাদের অবস্থান কোন ভাবেই পরিবর্তন হয় নি, সেই অর্থে যে, আমরা সব সময়েই হিংসা ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মত দিয়েছি. আর যতক্ষণ পর্যন্ত তালিবরা শক্তির অবস্থান থেকে কাজ করবে, আমরা কোন অর্থ দেখি না, ততক্ষণ তাদের সঙ্গে কোন রকমের আলোচনায় বসার. যদি তারা তৈরী থাকে হিংসার অবসান করতে ও মানবাধিকারের বিষয়ে সম্মান দিয়ে আচরণ করতে, মহিলাদের অধিকারের বিষয়ে সম্মান করে, তবে এটা অন্য কথা, এটা আমাদের জন্য চলতে পারে.

প্রশ্ন: ভারতের আফগানিস্তানের সঙ্গে কোনও সম্মিলিত সীমান্ত নেই. ভারতের পক্ষ থেকে সেখানের পরিস্থিতিতে প্রভাব তৈরী করার কি ধরনের উপায় রয়েছে?

উত্তর: বিগত বছর গুলিতে, আমাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল আফগানিস্তান পুনর্গঠন করা. আমরা ইতিমধ্যেই সেখানে প্রায় দুশো কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছি. আমরা সেখানে হাসপাতাল, স্কুল, রাস্তা ও অন্যান্য পরিকাঠামো সংক্রান্ত প্রকল্প তৈরী করছি. আফগানিস্তানের নাগরিকরা আমাদের দেশে পড়াশোনা করছেন ও বাস্তব কাজে অভিজ্ঞ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন. দেশ ধীরে হলেও ক্রমাগত ভাবে নিজেদের পায়ে উঠে দাঁড়াচ্ছে. কিন্তু আপনি যেমন ঠিকই উল্লেখ করেছেন যে, আমাদের কোন সম্মিলিত সীমান্ত নেই, আর তাই আমরা পরিস্থিতির উপরে নিজেরা সরাসরি কোন প্রভাব ফেলতে পারবো না. তাছাড়া, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সরাসরি সামরিক বাহিনীকে টেনে আনা আমাদের রাজনীতির সঙ্গে খাপ খায় না. আমরা শুধু চেষ্টা করি নিজেদের সীমান্তকে সন্ত্রাসবাদীদের হাত থেকে রক্ষা করতে.

প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন না যে, ২০১৪ সালে আফগানিস্তানের এলাকা থেকে ন্যাটো জোটের সেনা বাহিনী ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরে ভয় রয়েছে যে, আফগানিস্তানের বিরোধ একটা বিশাল আকার ধারণ করতে পারে?

উত্তর: এখন এটা শুধুই কথা, ধারণা. আমরা সত্যই এখনও জানি না যে, ২০১৪ সালের পরে ঘটনার কি পরিবর্তন হতে চলেছে. হতে পারে যে, বেশ কয়েক রকমের ঘটনা বদল হবে, তা যেমন পছন্দসই, তেমনই তা নয়. এটাও সত্যি যে, আরও একটা ঘটনা বদলের সম্ভাবনা রয়েছে – এটা আফগানিস্তানে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য এই এলাকার সমস্ত দেশের সঙ্গে একযোগ হয়ে কাজ করার – আর তা শুধু আফগানিস্তানের জন্যই নয়, বরং সমস্ত এলাকার জন্যই. সবাই মিলে আফগানিস্তানকে শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জন করতে সহায়তা দেওয়া.

প্রশ্ন: দিল্লী পলিসি গ্রুপ বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের সাথে সক্রিয় ভাবে কাজ করছে – তার মধ্যে প্রধানত আফগানিস্তানের প্রতিবেশীদের সঙ্গেই. এই কাজের মাধ্যমে আপনারা কি লক্ষ্য সাধন করতে চাইছেন?

উত্তর: আমরা চাই এই এলাকার দেশ গুলির সঙ্গে সমঝোতা করতে. আমরা খুবই অল্প থেকে শুরু করেছি – ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান দিয়ে. বিগত এক কি দুই বছর ধরে আমরা এই এলাকার দেশ গুলি থেকে প্রতিনিধিদের আহ্বান করেছি, অন্য দেশ থেকেও করেছি, তার মধ্যে রাশিয়া ও চিনও রয়েছে, যাতে বোঝা সম্ভব হয়, প্রতিবেশী দেশ গুলির মধ্যে বোঝাপড়া করা সম্ভব কি না, কোন ক্ষেত্রগুলিতে সহযোগিতা সেই কারণে করা যেতে পারে, যাতে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয় যে, আফগানিস্তানে আবার করে মাত্স্যন্যায় শুরু হবে না আর এই দেশ বাকী সমস্ত বিশ্বের দেশের জন্য আর বিপদের কারণ হবে না. কিন্তু সকলেই আমাদের সাফল্যে বিশ্বাস করে না.

প্রশ্ন: আপনারা নিজেরা কি বিশ্বাস করেন?

উত্তর: এই পর্যায়ে আমরা সমাধানের পথ খুঁজছি. এটা শুধু শুরু. আমরা সকলের সঙ্গেই কথা বলতে চেষ্টা করছি. যদি ইচ্ছা থাকে, তবে সব কিছুই করতে পারা যায়. এটা সত্যি যে, যেমন কিছু অন্য লোকরাও বলেছেন যে, আমাদের আপাততঃ শুধু সর্বজনীন হুমকি আর সমস্যা রয়েছে, কোন সর্বজনীন পরিকল্পনা নেই. আপাততঃ সকলেই আফগানিস্তানের স্বার্থ নিয়ে ভাবছে না, বরং ভাবছে, নিজেদের সঙ্কীর্ণ জাতীয় স্বার্থ নিয়ে.

প্রশ্ন: এই ধরনের সম্পর্ক কি পরিবর্তন করা সম্ভব?

উত্তর: আমি মনে করি, তা সম্ভব.