রাশিয়ার অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠতে পারে দূর প্রাচ্যের কুনাশির দ্বীপে অবস্থিত আধাঘুমন্ত ত্যয়াত্যয়া আগ্নেয়গিরি.  ইন্টারনেট ব্যবহারকদের নির্বাচনে এটি দূর প্রাচ্যের প্রখ্যাত উষ্ণ প্রস্রবনের উপত্যকাকেও ছাপিয়ে গেছে জনপ্রিয়তার দিক থেকে.  যদি এই অনুপম প্রাকৃতিক বিস্ময় 'রাশিয়া-১০' প্রতিযোগিতায় প্রথম দশে স্থান করে নিতে পারে, তাহলে তার ক্ষুদ্র সংস্করণ শোভাবর্ধন করবে মস্কোর শহরতলিতে নির্মীয়মান 'রাশিয়া পার্ক' নামক প্রাকৃতিক দৃশ্যপটের সমারোহের, যেখানে সারা দেশের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন প্রাকৃতিক স্থানগুলিকে এক জায়গায় করা হবে.

       স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষা থেকে অনুবাদে ত্যয়াত্যয়া মানে জনক. বাস্তবিকই চারিদিকে পাহাড় পরিবেষ্টিত সুউচ্চ এই পাহাড়টিকে দেখলে কর্তা বলেই মনে হয়.  কুরিল দ্বীপমালায় অবস্থিত আগ্নেয়গিরিগুলির মধ্যে আয়তনে এটি দ্বিতীয়.  সমুদ্রস্তর থেকে এর উচ্চতা ১৮০০ মিটার.  ত্যয়াত্যয়ার বয়স মোটামুটি ১২ হাজার বছর. বড়সড় আগ্নেয় লাভা  উদ্গীরণ ওখানে হাজার বছরে একবার ঘটে. বিজ্ঞানীদের হিসাব মতো, পরবর্তী উদ্গীরণ ঘটার সম্ভাবনা আগামী একশো বছরে নেই.  স্বকীয় আদলের জন্য ত্যয়াত্যয়াকে বলা হয় - 'আগ্নেয়গিরির ভেতরে আগ্নেয়গিরি'.  এই প্রসঙ্গে বলছেন কুরিলস্কি অভয়ারণ্যের বিজ্ঞান কর্মী মাক্সিম আন্তিপিন. -

       আগ্নেয়গিরিটির আদল অস্বাভাবিক, পৃথিবীতে এরকম আগ্নেয়গিরি কেবলমাত্র তিনটি -  ফুজিয়ামা, ভিজুভিয়াস ও ত্যয়াত্যয়া . এদের শিখর নিখুঁত চতুষ্কোণী সমতল ক্ষেত্র.

       ত্যয়াত্যয়া অভয়ারণ্যের ভেতরে অবস্থিত. তার মহিমা উপভোগ করার জন্য বিশেষ অনুমতিপত্র পেতে হয়.  আগ্নেয়গিরিটি চারিদিক থেকে জলে পরিবেষ্টিত - একদিক থেকে আছড়ে পড়ছে প্রশান্ত মহাসাগর, অন্যদিক থেকে তার পা ধুইয়ে দিচ্ছে ওখোত্ সাগর. এখানকার জলে সীল, সিন্ধুঘোটক, সী লায়নদের জমজমাট বসতি. প্রাপ্তবয়স্ক জীবদের দৈর্ঘ্য ২ মিটার পর্যন্ত হয়.  স্থলভূমির জীবজন্তুদের মধ্যে এখানকার বনবাদাড়ের মালিক হচ্ছে ভাল্লুক. অফুরন্ত মাছ আগ্নেয়গিরিটির পাদদেশে. এত মাছ, যে হেসেখেলে হাত দিয়ে বা থাবা মেরে তাদের ধরা যায়, বিশেষ করে সেখানে অঢেল অতি সুস্বাদু স্যামন মাছ. তার লোভেই ভাল্লুকদের সেখানে অনর্গল আনাগোণা. ত্যয়াত্যয়ার শীর্ষে আরোহণের পথে ছেয়ে রয়েছে ভালুকদের যাতায়াতের পদচিহ্ন. অভয়ারণ্যের কর্মচারীরা এমনকি পর্যটকদের দিয়ে নির্দেশপত্র পর্যন্ত স্বাক্ষর করিয়ে নেয়, যে শিকারী জন্তুর সামনে পড়লে তাদের কি করণীয় - সেই সম্পর্কে.

       কুনাশির দ্বীপের এই মুক্তোর শীর্ষদেশে পৌঁছানো আদৌ সহজ নয়. স্থানীয় লোকগাথা আছে - "ওর মুন্ডনে পৌঁছাতে পারে শুধু দুঃসাহসিকরাই". পৌঁছাতে ৩-৪ দিন লাগে, তাও আবহাওয়া অনুকুল হলে তবেই. ৬০০ মিটার উচ্চতাতেই বড্ড ঠান্ডা. কুয়াসা এত ঘন, যে কয়েক মিটার দূরে কিচ্ছু দেখা যায় না.  মাত্র কয়েক বছর আগে মানুষের আরোহণের জন্য কয়েকটি পথ সেখানে বানানো হয়েছে, কিন্তু উত্সুক পর্যটকদের ঢল নেমেছে, ক্রমশঃই বেশি সংখ্যায় তারা যাচ্ছে ত্যয়াত্যয়ায়.

       ত্যয়াত্যয়া 'রাশিয়া পার্কে'র শোভাবর্ধন করবে কিনা জানা যাবে সেপ্টেম্বরে, যখন রাশিয়ার সেরা ৩০টি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যময় বস্তুগুলিকে বেছে নেবে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা.