ভলগা নদী পারের একদল মানুষ আজ খুব খুশীর কারণে আশ্চর্য হয়েছেন: সকাল বেলা থেকেই তাদের শহরের রাস্তায় সকলকে দেওয়া হয়েছে রঙীণ আর উজ্জ্বল মসজিদের ছবি সমেত বাক্স, যার উপরে লেখা “মিষ্টি হোক রমজান”.

খেজুর ও মিষ্টি সমেত বাক্স নিয়ে স্থানীয় মুসলিম সংস্থার মেয়েরা ঠিক করেছে পবিত্র রমজান মাসের শুরুতে শহরের লোকদের খাওয়াতে.

মস্কো শহরে পবিত্র মাসের শেষ দশ দিন সমস্ত ইচ্ছুক লোকরাই সন্ধ্যাবেলা গুলিতে বিশাল রমজান শিবিরে ফিতরে অংশ নিতে পারবেন. এবারে এই নিয়ে সপ্তমবার মস্কো শহরে এই শিবিরের আয়োজন করছেন রাশিয়ার মুফতি সভা. আমাদের সাংবাদিক প্রতিনিধিকে রাশিয়ার মুফতি সভার উপসভাপতি রুশান-হজরত আব্বিয়াসভ বলেছেন

“রমজানের শিবিরে মাসের শেষ দশ দিন নানারকমের অনুষ্ঠান হবে. আমরা শিবিরের আয়োজন বিশেষত এই কারণেই করি যে, যাতে মুসলমানেরা একে অপরকে ভাল করে জানতে পারেন. শিবিরের অনুষ্ঠান সূচীতে পরিকল্পনা রয়েছে তুর্কমেনিয়া, তুরস্ক, আজারবাইজান, রাশিয়ার দাগেস্তান ও চিচনিয়া রাজ্য, এই সব জায়গার জাতীয় দিবস পালন করা. আগামী রমজান শিবিরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা হতে চলেছে চতুর্দশ আন্তর্জাতিক কোরান পাঠ প্রতিযোগিতার বাছাই পর্ব আয়োজন করা. মস্কো শহরে এই বছরে সেপ্টেম্বর মাসে এই প্রতিযোগিতা হবে, আর রমজান মাসের পবিত্র দিন গুলিতে আমরা বাছাই করবো রাশিয়ার সেরা হাফিজ. তিনিই আগামী প্রতিযোগিতায় আমাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন. তাছাড়া, মস্কোর উপকণ্ঠে বাচ্চাদের মধ্যে কোরান পাঠের প্রতিযোগিতাও হবে. তারা কোরানের ২৯ ও ৩০ তম সুরা সম্বন্ধে জ্ঞান নিয়ে প্রতিযোগিতা করবে. আর এটাও ঠিক যে, ইফতার – দেশের সমস্ত মসজিদেই এখন চলতে থাকবে”.

রাশিয়ার বহু এলাকাতেই রমজান মাসের শুরুতে নতুন মসজিদ উদ্বোধন করা হচ্ছে: চিচনিয়া রাজ্যে – রাজধানী গ্রোজনি শহরে – তার নামকরণ করা হয়েছে প্রথম খলিফা আবু বকর সিদ্দিকীর নামে (যাঁকে বলা হত সবচেয়ে সত্), এখানে একসাথে তিন হাজার লোক প্রার্থনা করতে পারেন.

আর কাজানে, তাতারস্থানের রাজধানীতে, যেখানে এখন ইউনিভার্সিয়াড হচ্ছে, সেখানে কাছেই এক মসজিদ খোলা হচ্ছে, যেখানে দৃষ্টিহীণ মুসলমানদের জন্য রাশিয়াতে একমাত্র প্রশিক্ষণ ও সমাজে পুনরায় প্রবেশের ব্যবস্থা করা হচ্ছে.

রমজান মাস – ধর্ম মত অনুযায়ী প্রার্থনার মাস, তাতে আগে ঐতিহ্য অনুযায়ী সারা বছর ধরে যুদ্ধ বিরোধ করার পরে মুসলমানরা রক্তপাত-রক্তক্ষয় বন্ধ রাখতো, আর এখন সারা বিশ্বেই মুসলমানরা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে মারামারি - কাটাকাটি করছে, আর সেগুলো হচ্ছে এই সব ঐস্লামিক রাষ্ট্রেই, তাই উত্তর ককেশাসের মুসলমানদের যোগাযোগ কেন্দ্রের প্রথম ডেপুটি চেয়ারম্যান মাগোমেদ আলবোগাচিয়েভ “রেডিও রাশিয়ার” সাংবাদিক প্রতিনিধিকে বলেছেন:

“এখন – কঠিন সময়, বিশেষ করে ঐস্লামিক বিশ্বের জন্যই. আমরা দেখতেই পাচ্ছি সিরিয়া, ইজিপ্ট ও অন্যান্য ঐস্লামিক রাষ্ট্রে কি হচ্ছে. কিন্তু আমি আমার একই ধর্মের মানুষদের কাছে আহ্বান করব যে, আমাদের হজরত যেমন বলেছেন জোট বাঁধতে. একে অপরের ভুল ও খুঁত ধরার দরকার নেই. সেগুলি খোঁজা দরকার সবার আগে নিজের মধ্যে. ক্ষমা করতে শেখা দরকার, একে অপরের প্রতি দয়াবান হওয়া দরকার, এর ফলে রক্তক্ষয় এড়ানো যেতে পারে”.

রাশিয়ার ৮ হাজার মসজিদে গত কাল সন্ধ্যা থেকে আলাদা করে মধ্যরাতের নামাজ পড়া হচ্ছে, তাই রুশান-হজরত আব্বিয়াসভ বলেছেন:

“আমরা অবশ্যই রমজান মাসের দিন গুলিতে সিরিয়াতে শান্তির জন্য প্রার্থনা করবে, প্রার্থনা করবো যাতে ইজিপ্টে সবকিছু গৃহযুদ্ধের দিকে না গড়ায়, যাতে তুরস্কে বিরোধী পক্ষরা শান্ত হন. আমি আশা করবো যে, পরমেশ্বর আমাদের প্রার্থনা শুনবেন. কারণ সৃষ্টিকর্তা পবিত্র কোরানে নিজের দাসদের যে কোন রকমের জটিল পরিস্থিতি থেকেই বের হওয়ার পথের আশা দিয়েছেন. পথ রয়েছে সব সময়েই: প্রধান হল – একে অপরকে শোনার চেষ্টা করা, ধৈর্য ধরা. আর মনে রাখা – যে কোন রকমের ভাল কাজ, যা রমজানের দিনগুলিতে করা হয়, তা পরমেশ্বর বহু গুণে বাড়িয়ে দেন, কিছু কাহিনী অনুযায়ী সাতশো গুণ অবধি. তাই – ভাল কাজই করুন”!