ইজিপ্ট ৮ই জুলাই সোমবারে নতুন “পথনির্দেশ” পেয়েছে. যাতে ভবিষ্যতে দেশের সম্ভাব্য সঙ্কট থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যেতে পারে. দায়িত্বভার প্রাপ্ত দেশের রাষ্ট্রপতি আদলি মনসুর এক সাংবিধানিক ঘোষণা প্রকাশ করেছেন, যেখানে স্পষ্ট করে নিয়ন্ত্রণের অধ্যায়গুলি সম্পর্কে লেখা রয়েছে. এটা – দুই মাসের মধ্যে নতুন সংবিধানের প্রস্তুতি, তা নিয়ে জনমত গ্রহণ, তারপরে ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে পার্লামেন্ট নির্বাচন আর পার্লামেন্ট গঠনের পরে ছয় মাসের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন.

এই “পথনির্দেশে” মনে হতে পারে যে, সবই ভেবে রাখা হয়েছে, খুঁটিয়ে দেখে ও সহমতে আসা হয়েছে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বের সাথেও. আর আদর্শগত ভাবে তা দেশের আভ্যন্তরীণ অসুখগুলির সঙ্গে মোকাবিলার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারাই উচিত্. শুধু একটা বিষয়েই অবস্থা করুণ: এই পথনির্দেশ অনুযায়ী পথ চলার জন্য খুবই সময়ের অভাব রয়েছে.

বিরোধী “মুসলমান ভাইদের” গোষ্ঠীর লোকরা ইতিমধ্যেই খোলাখুলি ভাবে নিজেদের পক্ষের লোকদের অভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছে আর বলেছে গ্রেপ্তার হওয়া ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি মুহাম্মেদ মুর্সিকে মুক্ত করার. তার ওপরে, “মুসলমান ভাইদের” গোষ্ঠী এই এলাকার সমস্ত নিজেদের দলের লোকদের সাহায্যের জন্য আহ্বান করেছে. ইজিপ্টের ও পশ্চিমের সংবাদ মাধ্যমের খবর অনুযায়ী ইতিমধ্যেই কায়রো, আলেকজান্দ্রিয়াতে, সিনাই এলাকায় সিরিয়া থেকে আসা সশস্ত্র জঙ্গীরা কাজ করছে, যেখানে মুসলমান ভাইদের নিজেদের দপ্তর রয়েছে. নতুন ইজিপ্টের প্রশাসনের সমালোচনা করে ঘোষণা করেছে প্যালেস্টাইনের “হামাস” গোষ্ঠী. সব মিলিয়ে এই বিরোধ এখন আন্তর্জাতিক স্তরে পৌঁছতে চলেছে ও ইজিপ্টের সম্ভাব্য দ্বিতীয় সিরিয়াতে পরিণত হওয়া, যেখানে সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করবে বিদেশী ভাড়া করা সেনাদের গোষ্ঠী.

এই কথা সত্য যে, দেশের সমস্ত রাজনৈতিক নেতারাই এই ধরনের বিষন্ন পূর্বাভাসের সঙ্গে একমত নন. ইজিপ্টের ন্যাশনাল প্রোগ্রেসিভ (ইউনিয়নিস্ট) পার্টির চেয়ারম্যান সৈদ আবদ আল-আল “রেডিও রাশিয়াকে” দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন যে, “মুসলমান ভাইদের” গোষ্ঠী নিজেদের সম্পূর্ণ ভাবেই মুখ নষ্ট করেছে. তাঁর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ইজিপ্টে মুসলমান ভাইদের প্রভাবের সূর্যাস্তের সঙ্গে সঙ্গেই সমগ্র অঞ্চলেই তাদের প্রভাবের শেষ হবে. কিন্তু তার জন্য সময় দরকার. তিনি বলেছেন:

“আমি আশা করি যে, “মুসলমান ভাইদের” পতনের পরেই ইজিপ্টের সাথে অন্যান্য দেশেও এই প্রোজেক্টের হার হবে. তার মধ্যে সিরিয়া, প্যালেস্টাইন, ইরাক ও অন্য সমস্ত জায়গাতেই, যেখানে “ভাইদের” পক্ষে আগে সম্ভব হয়েছিল পশ্চিমের গুপ্তচর বাহিনীদের সহায়তা পেয়ে নিজেদের চৌকী বসানোর”.

সব মিলিয়ে এই ধরনের মূল্যায়ণের সঙ্গে রাশিয়ার নিকটপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের সভাপতি ইভগেনি সাতানোভস্কি একমত. তিনি অবশ্য, মনে করেন না যে, এখনই নিকট প্রাচ্যে এই আন্দোলনের সমস্ত শাখা প্রশাখা ধ্বংস নিয়ে কিছু বলা যেতে পারে, তাই তিনি যোগ করে বলেছেন:

আরব বসন্তেরদেশ গুলিতে এটা (মুর্সিকে ক্ষমতাচ্যুত করা) “মুসলমান ভাইদের” অবস্থানের উপরে খুবই শক্তিশালী আঘাত. বিরোধী পক্ষের সমস্ত শক্তিই সেই সব দেশে রয়েছে, যেখানে এই মুসলমান ভাইয়েরা ক্ষমতায় রয়েছে, আর তারা ক্ষমতায় রয়েছে টিউনিশিয়া ও এই এলাকার আরও কিছু দেশে, এটা তাদের লড়াই করতে উদ্বুদ্ধ করছে. আর তারা নিজেদের দখল করা জায়গাগুলিতে এবারে নতুন করে আক্রমণ করবে”.

আদলি মনসুর যে নতুন সাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন, তাতে নিজের আইন প্রণয়ন করার ক্ষমতার ব্যবস্থা রেখেছেন. তিনি মন্ত্রীসভা ও সামরিক বাহিনীর সঙ্গে পরামর্শ করে, যে কোনও রকমের আইন নিতে পারেন. সামরিক বাহিনী এখন খুবই শক্ত অবস্থান নিয়েছে. ৯ই জুলাই থেকে সামরিক বাহিনীর সেনারা কায়রো ও দেশের অন্যত্র সমস্ত স্ট্র্যাটেজিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলিকে কড়া পাহারা দেওয়া শুরু করেছে.