সন্ত্রাসের ইতিহাসে এক নতুন পাতার সংযোজন হল. ভারতের বিহার রাজ্যে, যেখানে কয়েকটি ধর্মের পূণ্যস্থান রয়েছে, সেখানে বোধগয়া শহরে মহাবোধি মন্দির কমপ্লেক্সে আক্রমণ করা হয়েছে. যদিও এই সন্ত্রাসের জন্য কেউই কোন রকমের দায়িত্ব নিতে চায় নি, তাও ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়েছে ঐস্লামিক চিহ্নের কথা. বিশ্বের বাস্তব ঘটনার সারিতে খুবই বিরল এই বৌদ্ধ মন্দিরে আক্রমণ প্রমাণ করে দিয়েছে: সন্ত্রাসবাদী আন্তর্জাতিক জোট নিজেদের বাস্তবায়নের জন্য এবারে নতুন চত্বর ও রকম খুঁজছে, তারা আরও বেশী করেই দুঃসাহসী কাণ্ড করছে আর নিজেদের কোন রকমের নিয়ম কানুন হীন যুদ্ধে কোন কিছুর সামনেই থামতে চায় না.

মহাবোধি মন্দিরে কয়েকটি বিস্ফোরণের খবর, যা ইউনেস্কো সংস্থার বিশ্ব ঐতিহ্যের একটি, তা সারা পৃথিবীর বহু কোটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী মানুষের ক্ষোভ, হতাশা ও রোষ উত্পন্ন করেছে – কে এই পবিত্র স্থানের উপরে হাত তুলতে পেরেছে আর তা কেন? বিরোধ ও হিংসার বিপক্ষে আহ্বান করা গৌতম সিদ্ধার্থ, কার কাছে অপছন্দের হয়েছেন, যিনি ঐতিহ্য অনুযায়ী ঠিক এই জায়গাতেই বিহারে বোধি লাভ করে বুদ্ধ হয়েছিলেন?

এই প্রসঙ্গে আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“মহাবোধি মন্দির কমপ্লেক্সে একের পর এক আটটি বিস্ফোরণের ঘটনা প্রমাণ করে দেয় যে, এটা একটা খুবই ভাল করে পরিকল্পিত ঘটনা. অকুস্থলে পৌঁছনো বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞরা আরও দুটি না ফাটা বোমাকে নিষ্ক্রিয় করেছেন. দেশের পুলিশ সদ্য ঘটে যাওয়া ঘটনার সূত্রে এই সন্ত্রাসের কাণ্ড করেছে এমন সন্দেহে দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে. যদিও এখনও কেউই এই আক্রমণের ঘটনার দায়িত্ব নিতে চায় নি, তবুও ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে যে, বিহারে সক্রিয় এক ঐস্লামিক গোষ্ঠী আগেও বোধগয়া মন্দিরে হামলা করার হুমকি দিয়েছিল”.

বিগত বছর গুলিতে ভারতের এলাকায় চরমপন্থী গোষ্ঠীরা সক্রিয়ভাবে এই ধরনের সারিবদ্ধ বিস্ফোরণের কায়দা নিয়েছে, তারা এই কারণে বেছে নিচ্ছে সেই সমস্ত জায়গা, যেখানে একসাথে অনেক লোক জমা হয়ে থাকেন – বাজার, স্টেশন, হোটেল. কিন্তু এবারে বিহারে সন্ত্রাসের লক্ষ্য হয়েছে খুবই বিরল সন্ত্রাসের লক্ষ্য – বৌদ্ধ মন্দির, যার দিকে সারা বিশ্বের সমস্ত সন্ত্রাসবাদীরা অল্প কিছুদিন আগেও খুব একটা বিশেষ আগ্রহ দেখায় নি. এই আক্রমণের কথা পরিকল্পনা করে, সেই অজানা গোষ্ঠী, বোধহয়, হিসেব করেছিল সবচেয়ে বেশী আন্তর্জাতিক প্রতিধ্বনি তোলার. এখানে প্রত্যেক বছরে অনেক সংখ্যায় আসেন তীর্থ যাত্রীরা, শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, জাপান ও অন্যান্য দেশ থেকে. সুতরাং বোধগয়াতে বিস্ফোরণ এশিয়া ও তার বাইরে অনেক দূর অবধি একটা দীর্ঘস্থায়ী প্রতিধ্বনি তুলতে বাধ্যই ছিল.

এই সন্ত্রাসের কাজকর্মের আগে বিশ্ব জোড়া প্রতিধ্বনি তোলা একমাত্র এই রকমের ঘটনা ঘটেছিল যখন তালিবরা ২০০১ সালে আফগানিস্তানের বামিয়ান প্রদেশে বিশ্ব বিখ্যাত বুদ্ধ মূর্তি ধ্বংস করেছিল. তালিবরা তাদের ক্ষমতায় থাকার সময়ে পরিকল্পনা করে বুদ্ধের মূর্তি, স্থাপত্য ও অন্যান্য শিল্প নিদর্শন নিয়মিত ভাবেই ধ্বংস করেছে. এই ধরনের কাজ তারা ব্যাখ্যা করেছিল মুসলিম ধর্মে অস্বীকৃত মূর্তি তৈরী করার ও মূর্তি পূজার বিরোধ হিসাবে.

বামিয়ানে বুদ্ধের মূর্তি ধ্বংস করে দেওয়ার তুলনায় বিহারে এই আক্রমণ খুবই সম্ভবতঃ রাজনৈতিক লক্ষ্য করেই করা হয়েছে, কোন সঙ্কীর্ণ ধর্মীয় অনুচ্ছেদ লেখার জন্য নয়. এই অন্তর্ঘাত একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি লক্ষ্য সাধন করেছে: ভারতের ধর্মীয় সমাজ গুলির মধ্যে সম্পর্কের নৌকাকে টলিয়ে দিতে, মনমোহন সিংহের নেতৃত্বে দেশের প্রশাসনকে হেয় করতে, যাঁরা সমস্ত রকমের সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, আর তারই সঙ্গে ভারতের নতুন পর্যটনের ক্ষেত্রে বৃহত্ রাষ্ট্র হওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষার উপরে আঘাত করতে. আরও বেশী করেই স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে: সন্ত্রাসবাদী আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী এবারে নিজেদের উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য নতুন মঞ্চ ও ধরনের খোঁজে নেমেছে, তাদের কাজ কারবার হয়েছে আরও বেশী করেই দুঃসাহসী ও তারা নিজেদের নিয়ম কানুন বিহীণ লড়াইতে কোন কিছু সামনেই থামতে রাজী নয়.