কোয়ান্টাম তথ্য সেভ ও প্রসেসিং করার জন্য মস্কোর পদার্থবিদরা সুপার সেমিকন্ডাক্টর -  কিউবিট সৃষ্টি করেছেন. এটা কোয়ান্টাম কম্পিউটারের হৃদপিন্ড. এই তো সেদিনও কোয়ান্টাম সুপার মেশিন ছিল কেবল ধারণা মাত্র. অতঃপর তা রূপায়িত হতে চলেছে এবং অবিশ্বাস্য ক্ষমতা নিয়ে.

       প্রায় বড় অ্যাড্রোন্ কোলাইডারের মতোই কোয়ান্টাম কম্পিউটার নিয়ে দীর্ঘকাল ধরেই মাতামাতি চলছে. কিন্তু কোয়ান্টাম মেকানিক্সের নিয়মে কাজ করতে সক্ষম সুপার ইলেকট্টনিক মেশিন ছিল না. এবং সেরকম বৈপ্লবিক সুপার মেশিন এক লহমার মধ্যে লক্ষ লক্ষ হিসাব করে দিতে পারবে - বিজ্ঞানীদের এই দাবী ছিল অনুমানমাত্র.

       অতঃপর মস্কোর পদার্থবিদদের নতুন উদ্ভাবনার দৌলতে ঐ দৃঢ় ধারণাকে ব্যবহারিক ক্ষেত্রে যাচাই করে নেওয়ার সুযোগ আসবে. অধ্যাপক আন্দ্রেই উস্তিনভের নেতৃত্বে জাতীয় গবেষণামুলক প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও রাশিয়ান কোয়ান্টাম সেন্টারের একঝাঁক বিজ্ঞানী কোয়ান্টাম কম্পিউটারের হৃদপিন্ড তৈরি করে তা নিরীক্ষা করেছেন.  এটা সুপারফাস্ট সেমিকন্ডাক্টর কিউবিট.

       আন্দ্রেই উস্তিনভ বলছেন - কোয়ান্টাম কম্পিউটারের 'অবিশ্বাস্য ক্ষমতা'. এটা তথ্যের সাংখ্যরূপ দেওয়ার বিজ্ঞান - ক্রিপ্টোগ্রাফিতেও এক বিপ্লব.

       কিউবিট হচ্ছে একটা ছোট মসৃন এ্যালুমিনিয়ামের রিং, যার ভেতরে ২-৩ ন্যানোমিটার প্রস্থের খাদ করা রয়েছে. যাতে সেটা অঙ্কের জিনিয়াসে পরিণত হয়, সেজন্য তাকে পৌঁছে দিতে হবে কোয়ান্টাম অবস্থায়. তাকে সুপারফাস্ট সেমিকন্ডাক্টরে রূপান্তরিত করার জন্য পৃথিবীর নিম্নতম তাপমাত্রায় (মাইনাস ২৭৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে) ঠান্ডা করতে হবে.

      তবে কিউবিট মাত্র কয়েক মাইক্রোসেকেন্ড বেঁচে থাকতে পারে কোয়ান্টাম অবস্থায়, তারপরেই ফিরে আসে স্বাভাবিক অবস্থায়. কিন্তু ঐ লহমাই নির্ধারক, কিউবিট তার মধ্যেই  কয়েক লক্ষ হিসাব করে ফেলে.

      আন্দ্রেই উস্তিনভ ব্যাখ্যা করে বলছেন - রাশিয়ার কিউবিট দীর্ঘজীবিঃ কোয়ান্টামে কয়েক মাইক্রো সেকেন্ড অনেকটা সময়. এই উদ্ভাবনের সুবাদে প্রযুক্তির জগতে রাশিয়া বিশ্বের বিপ্লবীদের প্রথমসারিতে স্থান করে নেবে, কারণ পুরোমাত্রার কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরি করা একবিংশ শতাব্দীতে মুখ্য কর্তব্য.