মস্কোর কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক এলাকার শোভাবর্ধনকারী ১৬২টি স্মৃতিস্তম্ভের তালিকায় বাড়লো আরও একটি. উন্মোচণ করা হল দাগেস্তানের প্রখ্যাত কবি ও সমাজকর্মী রসুল গামজাতভের স্মৃতিমূর্তি. এই বছরে তাঁর বয়স হতে পারতো ৯০ বছর.

        ১৯২৩ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর দাগেস্তানের একটি পার্বত্য বসতিকেন্দ্রে জন্মগ্রহণ করা কবিকে শুধু ভালোবাসতো, ভক্তি শ্রদ্ধা করতো দাগেস্তান প্রজাতন্ত্রের ২৯টি আদি উপজাতির জনগণই নয়, গামজাতভ ছিলেন রাশিয়া সহ প্রাক্তন সোভিয়েত সব প্রজাতন্ত্রের মানুষের কাছে আপন ও প্রিয় কবি. -

        দাগেস্তান প্রজাতন্ত্রের সংস্কৃতি মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী মাগোমেদরসুল মাগোমেদরসুলভ বলছেন, যে তাঁর দীর্ঘ শাসনকালে একমাত্র যে ব্যক্তিটির সাথে রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন টানা গোটা একটা দিন আলাপচারিতায় অতিবাহিত করেছেন, ছিলেন রসুল গামজাতভ. অনেকেই বিস্মিত হয়েছিলঃ মানুষটি এত ব্যস্ত, তাসত্বেও টানা ২৪ ঘন্টা কাটালেন কবির সাথে! আর সেই সাক্ষাতের পরে  স্বয়ং  ভ্লাদিমির পুতিন বলেছিলেন - "রসুল গামজাতভ অসাধারণ প্রাজ্ঞ ব্যক্তি, তাঁর সাথে পরিচয় করে আমি গর্ববোধ করছি". রাষ্ট্রপতির সাথে কবির সাক্ষাতকার অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৩ সালে রসুল গামজাতোভের ৮০-বছর পূর্তি দিবসে. তখন ভ্লাদিমির পুতিন গামজাতভকে স্বদেশের সামনে অবদান রাখার জন্য রাষ্ট্রীয় পুরষ্কারে ভূষিত করেন. নয় বছর বয়স থেকে কবিতা লিখতে শুরু করা কবি তাঁর জীবত্কালে অসংখ্য পুরষ্কার লাভ করেছিলেন বহু রাষ্ট্র ও সংস্থার কাছ থেকে.  'বিংশ শতাব্দীর সেরা কবি' নামক আন্তর্জাতিক পুরষ্কার, 'লোটাস' নামক এশিয়া ও আফ্রিকার সাহিত্য পুরষ্কার, জওহরলাল নেহরু পুরষ্কার ও ফিরদৌসি পুরষ্কারের প্রাপক ছিলেন তিনি. গামজাতভ বলতেন -  "জাতি, প্রজন্ম নির্বিশেষে কবি সকলের জন্য".

        সুদীর্ঘ কাব্যিক জীবনে গামজাতভ ইউরোপ, এশিয়া, আফ্রিকা, আমেরিকা মহাদেশের ৫২টি দেশ সফর করেছিলেন. তাঁকে অভ্যর্থণা জানিয়েছেন রাজন্যবর্গ ও রাষ্ট্রপ্রধানেরা.

        দাগেস্তানের সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বলছেন, যে রসুল গামজাতভের ৯০-তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁর কবিতা সন্ধ্যার আয়োজন করা হবে গ্রেট ব্রিটেনে, অস্ট্রিয়ায়, এস্তোনিয়ায়, তুরস্কে -

        "সেপ্টেম্বরে ইউনেস্কোর তত্বাবধানে আমাদের প্রজাতন্ত্রে অনুষ্ঠানাদির আয়োজন করা হবে. এখন আমরা খুঁজছি এমন লোকেদের, যাদের গামজাতভের সাথে ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল, যারা তাঁর কবিতা অনুবাদ করেছেন. অনুষ্ঠানসূচীর শুরুতেই থাকবে গামজাতভের জীবিত বন্ধুদের ফোরাম - মূলতঃ রাশিয়া, পুরনো সোভিয়েত ইউনিয়ন ও বিদেশের প্রবীন প্রজন্মের মানুষদের. দাগেস্তানের মানুষের কাছে আতিথেয়তা সবার উপরে, তাই যারা কবিকে ভালোবাসেন, তাদের সকলকে আমরা ডাকছি সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য জয়ন্তী উত্সবে".

        রসুল গামজাতভ বলতেন - "কবিতা হচ্ছে প্রেম. কবিতায় অবশ্যই থাকতে হবে জন্মভূমি, নিজের কাল, নারী".  এই সবকিছুই ছিল তাঁর লেখা কবিতায়, আর তাই, তাঁর প্রতি ভালোবাসাও অগাধ.