রাশিয়ার ব্যাঙ্ক ক্ষেত্র সুদের হার কমাতে বাধ্য আর ব্যবসা ও অন্তিম গ্রাহকদের জন্য বিনিয়োগের রসদকে আরও সহজলভ্য করতে বাধ্য. অর্থনৈতিক বৃদ্ধির হার বাড়ানোর জন্য এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা হওয়া উচিত্. কিন্তু এটা প্রশাসনিক উপায়ে না করে, করা উচিত শুধুমাত্র বাজারের নীতিতে, এই রকমই মনে করেন ভ্লাদিমির পুতিন. এই নিয়ে কথা হয়েছে মন্ত্রীসভার অধিবেশনে, যা এই সেদিন ক্রেমলিনে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি আহ্বান করেছিলেন.

রাশিয়ার উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ আছে – বছরের প্রথমার্ধে অর্থনৈতিক উন্নয়নের গতি অনেকটাই ব্যাহত হয়েছে. এর একটি প্রধান কারণ হয়েছে ইউরোপীয় সঙ্ঘের সঙ্কট: রুশ প্রজাতন্ত্র থেকে আমদানী অনেকটাই তাদের নেতৃস্থানীয় সহকর্মীরা কমিয়ে দিয়েছে. এই পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা পথ খুঁজছেন অর্থনীতির উন্নতির হারকে গতি দেওয়ার জন্য.

ব্যবসা ও বিনিয়োগের কারবারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্রয় দিতে পারে ঋণ. তারই মধ্যে রাশিয়াতে ঋণের উপরে সুদের হার খুবই উচ্চ মাত্রায় রয়ে যাচ্ছে. এমডিএম ব্যাঙ্কের বোর্ড অফ ডিরেক্টর্সের চেয়ারম্যান ওলেগ ভিউগিন মূল্যায়ণ করে বলেছেন, যে, ব্যাঙ্কগুলি প্রায় ছয় থেকে সাত শতাংশ হারে ঋণ পায় – অর্থাত্ সেই মূল্যবৃদ্ধির হারের কাছেই. এই প্রসঙ্গে ব্যাঙ্কগুলি আবার ব্যবসার জন্য ঋণের দামের সঙ্গে ঝুঁকির দাম শতকরা তিন থেকে চার শতাংশ যোগ করে, আর আরও চার থেকে পাঁচ শতাংশ লভ্যাংশের মাত্রা রাখে. ফলে বড় কর্পোরেশনের জন্যই সর্বনিম্ন ঋণের উপরে সুদের হার হয়ে দাঁড়ায় শতকরা ১৪ শতাংশ. প্রসঙ্গতঃ, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এই সংখ্যার সঙ্গে একমত নয়. তাদের তথ্য অনুযায়ী রাশিয়াতে ব্যবসার জন্য ঋণ দেওয়া হচ্ছে শতকরা ১১ শতাংশ হারে, কিন্তু তাও সেটা খুবই বেশী.

ব্যাঙ্ক গুলির জন্য এখন সময় এসেছে নিজেদের ঋণের নীতি পাল্টানোর, এই কথা বিশেষ করে উল্লেখ করে মস্কোর রাষ্ট্রীয় ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের রেক্টর আন্দ্রেই মার্গোলিন বলেছেন:

“রাশিয়াতে মূল্য বৃদ্ধির গতি অনেকটাই কমে গিয়েছে, কিন্তু গৃহ ঋণের জন্য ক্রেতার সুদের হারে কোনও পরিবর্তন হয় নি. এর অর্থ হল যে, ব্যাঙ্কগুলি নিজেদের লাভের কিছু অংশকে ঝুঁকির উপরে রেখে দিয়েছে. বাস্তবে মূল্যবৃদ্ধি কম হওয়ার সাথে ব্যাঙ্কগুলি এবারে অনেক বেশী লাভ করতে শুরু করেছে এই ঝুঁকি সংক্রান্ত অংশের ভাগ পাওয়া থেকে আর নিজেদের লাভের খিদেও বাড়িয়েছে. বোধহয়, সরকারের হাতে নিয়ন্ত্রণের জন্য বোধগম্য অস্ত্র তাকা দরকার, যা এই ধরনের খিদে কমাতে পারত ও অন্তিম ঋণ গ্রহিতাকে, ব্যবসায়ীকে বাঁচার সুযোগ দিতে পারতো”.

প্রসঙ্গতঃ, ভ্লাদিমির পুতিন বুঝতে দিয়েছেন যে, রাষ্ট্রের চাপে ব্যবসার জন্য ঋণের হার কমানো হবে না. ব্যবহার করা হবে বাজারের ব্যবস্থা. এই নীতি অনুযায়ী অনেক ফলপ্রসূ হত প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি করলে. রাশিয়াতে প্রায় ৯০০ ব্যাঙ্ক নথিভুক্ত রয়েছে – ফলে গ্রাহকের জন্য লড়াই করার মতো লোকের অভাব নেই.

অর্থনীতিকে উদ্যোগ দেওয়ার জন্য ঋণের হার কম করা ছাড়াও অন্য পথও রয়েছে – এটা দীর্ঘস্থায়ী প্রকল্পে বিনিয়োগ করা, এই কথা উল্লেখ করে হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্সের প্রফেসর ইওসিফ দিসকিন বলেছেন:

“প্রাথমিক ভাবে, বড় গোছের বিনিয়োগ প্রকল্প করার জন্য আগে সিদ্ধান্ত নিতে হবে. একেবারে সামনের সারিতে রয়েছে পরিকাঠামো সংক্রান্ত প্রকল্প: এটা রেলপথ, গৃহ সংস্থান সংক্রান্ত প্রকল্প, আঞ্চলিক বিমান বন্দর গুলিকে পুনরুজ্জীবিত করা. তাছাড়া, গৃহ ঋণের ক্ষেত্রেও হয় কমানো নয়তো তার ক্ষতি পূরণ করা দরকার, যাতে ঘর বাড়ী নির্মাণকেও উদ্যোগী করে তোলা যায়”.

এই প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, পরিকাঠামো সংক্রান্ত প্রকল্প গুলিও বিনিয়োগের পরিমাণের ব্যাপারে অনেক রকমের পার্থক্য রাখে, তাতে বিনিয়োগ ফেরত আসার সময়ের দৈর্ঘ্য, ঋণের পরিমান ও বাড়তি ঝুঁকি থেকেই যায়. তাই ভাল হয়, সেই গুলি সরকার ও ব্যবসার পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হতে পারে.