ইজিপ্টের সেনাবাহিনী সোমবারে দেশের রাজধানীতে নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়েছে. কড়া সামরিক প্রহরায় রাখা হয়েছে সমস্ত সরকারি ভবন. এটা কায়রোতে প্রজাতান্ত্রিক প্রহরীদের সদর দপ্তর মুর্সি সমর্থকরা আক্রমণ করে দখলের চেষ্টার পরে করা হয়েছে. সেখানেই কানাঘুষো অনুযায়ী এখন মুহাম্মেদ মুর্সি রয়েছেন. গুলি চালাচালির ফলে প্রায় চল্লিশ জন নিহত হয়েছে.

তারই মধ্যে ইজিপ্টের মুসলমান ভাইদের শাখা আজ নিজেদের সমস্ত সমর্থকদের অভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছে. এই সম্বন্ধে কাতারের টেলিভিশন চ্যানেল আল-জাজিরা, যারা ঐতিহ্য মেনেই ভাইদের সমর্থন করে, তারা প্রচার করছে.

এই ধরনের ঘটনা পরিবর্তনের কথাই রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন সকলকে সাবধান করে ৭ই জুলাই কাজাখস্থানের রাষ্ট্রপতি নাজারবায়েভের সঙ্গে আস্তানা শহরে বৈঠকের সময়ে বলেছিলেন. তিনি বলেছিলেন:

“সিরিয়া এর মধ্যেই গৃহযুদ্ধে রত হয়েছে. খুবই দুঃখের কথা যে, ইজিপ্ট, মনে হচ্ছে, সেই দিকেই চলেছে. ইজিপ্টের মানুষ সম্ভাব্য নেতিবাচক ঘটনা পরম্পরায় পরিবর্তনকে এড়িয়ে যেতে পারবেন, এটাই চাওয়া যেতে পারে.”

কিছু ইজিপ্টের বিশ্লেষকরা বলেছেন যে, পরিস্থিতি এখনও পাল্টানো যেতে পারে. সবই নির্ভর করবে নতুন রাষ্ট্রপতির কাজের উপরে, এই রকম মনে করে রাজনীতিবিদ খানি আইয়াদ বলেছেন:

“যদি নতুন নেতা জনতার দাবী মেনে কাজ করেন, আর লোকে নিজেদের পক্ষ থেকে বুঝতে পারে যে, সরকার মানুষের অধিকারের দিকে মর্যাদার সঙ্গে দৃষ্টি দিচ্ছে, মানুষদের দিকেই আর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের দিকে, তবে সে টিকবে. সবই আগামী রাষ্ট্রপতির কব্জায়. এই প্রসঙ্গে মুহাম্মেদ মুর্সি উদাহরণ শিক্ষণীয় হতে পারে. বহু লক্ষ লোক, যাদের অনেকেই মুসলমান ভাইদের আদর্শ সমর্থন করে নি, তারা নিজেদের ভোট তাঁর জন্য দিয়েছে. তাঁরা এমনকি এতটা আত্ম বিসর্জন দিতেও তৈরী যে, শুধু তিনি যেন জনতার দাবী মেনে চলেন ও স্বৈরাচার বন্ধ করেন”.

অন্যেরা মনে করেন যে, পরিস্থিতি বদল খুবই বিপজ্জনক দিকে হচ্ছে. এই ধরনের মত ইজিপ্টের রাজনীতি বিশেষজ্ঞ, ডক্টর আব্বাস কুনফুদের, তিনি বলেছেন:

“একটা বিপদ রয়েছে যে, ইজিপ্টে শেষ অবধি স্বৈরাচার স্থাপিত হবে, আর সরকার বদল ঘটবে সংবিধানের নীতি অনুযায়ী নয়, বরং, যেমন এখন হচ্ছে, তহরির স্কোয়ারে. আরব দুনিয়াতে গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য না থাকায় এই ধরনের ব্যাপার ঘটছে, এটাই কারণ. ইজিপ্ট বর্তমানে রাজনৈতিক কানাগলিতে. স্রেফ খুব কম লোকই এটা এখন বুঝতে পারছে. এখানে আরব গণতন্ত্রের আরও একটি বিশিষ্ট চরিত্রকে ভুলে গেলে চলবে না, - এটা সন্ত্রাসবাদীদের অনেক বেশী করেই শক্তিশালী হওয়া. বাস্তবে, এই অঞ্চলের দেশ গুলি কৃত্রিম গণতান্ত্রিকরণের ফলই পাচ্ছে, যা বিগত কয়েক বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র করেছে”.

তারই মধ্যে বিনিয়োগ বিশ্লেষকরা সাবধান করে দিয়েছেন যে, ইজিপ্টের অর্থনীতি এখনই একটা গভীর খাদের কিনারায় ঝুলে রয়েছে. ২০১৩ সালের শেষ অবধি ইজিপ্টের প্রয়োজন তিন হাজার তিনশো কোটি ডলার, দেশের ভিতরের ও বাইরের ঋণ পরিশোধ করার জন্য. দেশের সোনা ও বিদেশী মুদ্রার সঞ্চয় প্রায় তিনভাগ কম হয়েছে: হোসনি মুবারকের সময়ে তিন হাজার ছশো কোটি ডলার থেকে ২০১৩ সালে এক হাজার তিনশো পঞ্চাশ কোটি ডলার. ধীরেধীরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এলে এই সমস্যার সমাধান করা যাবে বিনিয়োগ বাড়িয়ে. আর যদি স্থিতিশীলতা ব্যাপারকেই পরের জন্য রেখে দেওয়া হয়, ইজিপ্টের অর্থনীতির জন্য একটা কঠিন সময়, তাহলে অপেক্ষা করছে.