আফ্রিকান সংঘ মিশরের সদস্যপদ আপাতত প্রত্যাহার করেছে. সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দেশে 'অসাংবিধানিক পরিবর্তনে'র কারণে. আফ্রিকান সংঘ মিশরের  সামরিক কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে মুর্শিকে পদচ্যুত করে অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপ্রধান নিয়োগ ও দেশে সংকটরোধী পরিকল্পনা গ্রহণের এই প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে. ওদিকে মুসলমান ভাইদের দিয়ে প্ররোচিত লোকজন দেশে ভাঙচুর করছে.

      মিশরের সামরিক বাহিনী  মুর্সির সমর্থকদের এহেন কাজকর্মের  মোকাবিলা করার জন্য  প্রস্তুত. যদিও হাইকম্যান্ড প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যে সভা-সমাবেশ বিশৃঙ্খল আকার ধারণ না করলে কাউকে আটক করা হবে না,  ইসলামিরা গন্ডগোল  বাধানোর  জন্য মরিয়া.

      অন্তর্বর্তীকালীন কার্যনির্বাহী রাষ্ট্রপতি আদলি মনসুর মুসলমান ভাইয়েরা সহ সবার  কাছে সহযোগিতা  করার আবেদন জানিয়েছেন. একই সময়ে ঐ গোষ্ঠীর কয়েকশো নেতাকর্মী হাজতে, ঐ পার্টির কতৃত্বাধীন সব টেলিচ্যানেল বন্ধ. তবে যদিও মুর্সি ও তার মুসলমান ভাইয়েরা ক্ষমতা দখলকারীদের মেনে নিচ্ছে না, তবে বলছে, যে সশস্ত্র সংঘর্ষে যাওয়ার পরিকল্পনা তাদের নেই. এবং দুই বছর আগেকার রক্তক্ষয়ী ঘটনাবলীর পুনরাবৃত্তি এবারে হবে না - সামরিক শিখন্ডীদের দেওয়া এই প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস রাখা যায় বলে মনে করছেন  অভিজ্ঞ  প্রাচ্যতত্ত্ববিদ আন্দ্রেই কারাতায়েভ.-

     দুর্ভাগ্যক্রমে, রক্তক্ষয় ও গৃহযুদ্ধের চিত্রনাট্যের পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা বাতিল করা যাচ্ছে না. আমি এক্ষেত্রে মুসলমান ভাই পার্টির শীর্ষ  নেতাদের শুভবুদ্ধির উপর বাজি রাখছি. কারণ তারা এখন আইনসিদ্ধ বিরোধীপক্ষ হয়ে দাঁড়াতে পারে. এই অস্থির সময়ে ওদের জনপ্রিয়তা বাড়বেই. ব্যাপারটা হচ্ছে এই, যে যদি অবিলম্বে নির্বাচনের আয়োজন করা হয়, তাহলে  মুসলমান ভাইয়েরা নির্ঘাত হারবে. কিন্তু যদি ভোটের আয়োজন করতে সময় লেগে যায়, তাহলে জমা হওয়া সমস্যার পাহাড় তাদের আবার আইনানুগভাবেই ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনবে. আরব দুনিয়ায় অধিকাংশ দেশেই এখনো শেষ কথা বলে সেনাবাহিনী, মিশরের ঘটনাও আবার সেটা প্রমাণ করলো - বলছেন রাজনীতি বিশারদ কিরিল ভেনেদিক্তভ. -

    বাস্তবে কয়েক দশক ধরেই মিশরে ক্ষমতার দন্ডমুন্ডবিধাতা ছিল সেনাবাহিনী. হয়তো সেটা রাখাঢাকা ছিল, প্রকাশ্যে আসতো না. তবে এটা পরিষ্কার, যে হোসনি মুবারক ছিল সামরিক বাহিনীর নিজের লোক. স্বয়ং মুবারকের পদচ্যুতি  ও এবারের প্রতিবিপ্লব বুঝিয়ে দিচ্ছে,  যে মিশরে  আসল ক্ষমতার কলকাঠি নাড়ছে সেনানায়করাই.

     মিশরে ক্ষমতার হস্তান্তরে প্রতিবেশী দেশগুলি বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে. তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে একান্ত উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন. তার মতে ২০১১ সালের জানুয়ারী মাসে ঘটা বিপ্লবের পরে গণতান্ত্রিক পরিবর্তন রীতিমতো ব্যাহত হবে. সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি একে প্রথাগত ইসলামিদের বিপর্যয় বলে অভিহিত করেছেন. বাশার আসাদ বলে দিয়েছেন, যে রাষ্ট্রের উপর ধর্মের মাতব্বরি মানবেন না. খানিকটা   অপ্রত্যাশিত ছিল সৌদি আরবের রাজা আবদাল্লার আদলি মনসুরকে পদাষিক্ত হওয়া উপলক্ষ্যে অভিনন্দন জানানো. রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রক বলছে, যে মিশরের জনগণের সমৃদ্ধতর জীবনযাত্রার অধিকার সমর্থন করে, তবে কোনোভাবেই সে দেশে আরও রক্তক্ষয় চায় না.