ক্ষমতা থেকে হঠিয়ে দেওয়া ঐস্লামিক রাষ্ট্রপতি মুহাম্মেদ মুর্সির সমর্থকরা শুক্রবারে ইজিপ্টে বিরোধী পক্ষ ও পুলিশের সঙ্গে লড়াই শুরু করেছে. দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা দপ্তরের খবর অনুযায়ী শুধু শুক্রবারেই তিরিশজন মারা গিয়েছেন.

সবচেয়ে নৃশংস লড়াই হয়েছে কায়রোর কেন্দ্রে, আর দেশের উত্তরে রাজধানী আলেকজান্দ্রিয়াতে.রাস্তার লড়াইয়ের সময়ে পাথর, ইঁটের টুকরো ও মলোতভ ককটেল ছাড়াও সক্রিয়ভাবে বন্দুক ব্যবহার করা হয়েছে. সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে হস্তক্ষেপের আগে পর্যন্ত এই লড়াই চলেছে. বর্তমানে সেনারা ১৫০জন লড়াইয়ে উস্কানি দিতে আসা লোককে গ্রেপ্তার করেছে. শহরের কেন্দ্র থেকে মুসলমান ভাইদের সমর্থকদের সামরিক বাহিনী হঠিয়ে দিয়েছে. এই ধরনের লড়াই ছড়িয়ে পড়েছিল ইজিপ্টের আটটি প্রদেশে. সারা দেশে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫০০ জনেরও বেশী মানুষ. গত রবিবার থেকে ইজিপ্টে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ৬০ জন, বিশৃঙ্খলা বেড়েই চলেছে.

শুক্রবারে মুসলমান ভাইদের নেতা মুহাম্মেদ বাদদিয়া ইজিপ্টের লোকদের শান্তিপূর্ণ ভাবে সামরিক অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে বলেছেন ও আইন সঙ্গত ভাবে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে ফিরিয়ে আনা আদায় করতে বলেছেন. বাদদিয়া সামরিক বাহিনীর কাছে আহ্বান করেছেন মিছিলের লোকদের উপরে গুলি চালনা না করতে.

বুধবারে ইজিপ্টের সামরিক বাহিনীর লোকরা রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতা থেকে অপসারণ করেছে, দেশের সংবিধান রদ করেছে ও সাংবিধানিক আদালতের প্রধান বিচারপতি আদলি মনসুর দেশের প্রধানের দায়িত্ব নিয়েছেন. তিনি শুক্রবারে দেশের পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষ পরামর্শ সভা ভেঙে দেওয়ার ডিক্রি জারি করেছেন. সামরিক বাহিনী তারই সঙ্গে ঘোষণা করেছে যে, মুর্সি বিচারের আগে পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া অবস্থাতেই থাকবেন. তাঁকে রাষ্ট্রদ্রোহ, রক্তক্ষয় ও তারই সঙ্গে জেল থেকে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে.