এই বছরের গরম কালেই কিরগিজিয়ার প্রশাসন দেশের দক্ষিণের এলাকা গুলিতে সামরিক-রাজনৈতিক পরিস্থিতি তীক্ষ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে পারছেন না আফগানিস্তানের পরিস্থিতির কারণেই. প্রজাতন্ত্রের নিরাপত্তা ও আইন শৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপ প্রধানমন্ত্রী তোকোন মামীতভের কথামতো, কিরগিজিয়ার নেতৃত্ব অবশ্যম্ভাবী পরিস্থিতির জটিলতাবৃদ্ধিকে কয়েকটি কারণের সঙ্গেই যুক্ত করেছেন – আর সেই গুলির সবকটিই আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কিত. এটা আসন্ন আন্তর্জাতিক শক্তির এই দেশ ছেড়ে চলে যাওয়া, আগামী বছরে এখানের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, আর তারই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের পুস্তুন ও পুস্তুন নয় এমন দুটি ভাগে ভাগ হয়ে যাওয়া.

এই প্রসঙ্গে সমীক্ষক পিওতর গনচারভের মন্তব্য দেওয়া হল.

কিরগিজিয়ার লোকদের মনে এখনও ১৫ বছর আগের ঘটনা টাটকা ভাবেই রয়েছে, যা ১৯৯৯ ও ২০০০ সালে কিরগিজিয়ার দক্ষিণে বাতকেন এলাকায় হয়েছিল. তখন বাস্তবে প্রজাতন্ত্রের সামরিক ফৌজের সঙ্গে উজবেকিস্তানের ঐস্লামিক আন্দোলনের যুদ্ধ হয়েছিল, যাদের জঙ্গীরা আফগানিস্তানে ঘাঁটি গেড়েছিল ও সেখানকার তালিবদের সঙ্গে আঁতাত করে চেষ্টা করেছিল কিরগিজিয়ার এলাকা দিয়ে উজবেকিস্তানে প্রবেশ করার. আজ এই উজবেক ঐস্লামিক আন্দোলন, তাইর ইউলদাশের নেতৃত্বে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত এলাকায় রয়েছে ও তারা সুযোগ পেলে আগের বিফল হওয়া প্রচেষ্টার পুনরাবৃত্তি করার ধারণা থেকে নিবৃত্তি পায় নি.

আফগানিস্তান – শুধু কিরগিজিয়ার জন্যেই মাথাব্যথার কারণ নয়. আফগানিস্তানে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হলে তা বাস্তবে সমগ্র মধ্য এশিয়াতেই প্রসারিত হবে. অংশতঃ, এখনই আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকরা খুবই গুরুতর জটিলতা বৃদ্ধি দেখতে পাচ্ছেন তাজিকিস্থান ও আফগানিস্তানের সীমান্ত অঞ্চলে.

আর এই সমস্যাকে আফগানিস্তানের রাজনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা কিভাবে দেখছেন? আফগানিস্তানের পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষের সদস্য সৈদ ইশাক গিলানিকে এই প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছেন:

“আমি মনে করি যে, শুধু মধ্য এশিয়ার রাষ্ট্র গুলিই আফগানিস্তানের বর্তমানে উদ্ভূত সামরিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন নয়, বরং সমগ্র এলাকার রাষ্ট্র গুলিই, আর এমনকি যেগুলি আঞ্চলিকও নয়. তাদের উদ্বেগ বোধগম্য. আফগানিস্তান এমন একটা জায়গায় রয়েছে, যে ঘটনা প্রসঙ্গে তার এলাকা থেকে স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধ বিপদ এই সমস্ত রাষ্ট্রেই ছড়িয়ে পড়তে পারে. আর, শেষমেষ, তার এলাকায় আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ আবার করে মাথা চাড়া দিতে পারে. এই সমস্ত কিছু নিয়েই আমরাও আফগানিস্তানে আলোচনা করছি.

আর যদি আমাদের সম্মানীয় আঞ্চলিক সহকর্মীরা সত্যিই চান যে, আফগানিস্তান স্থিতিশীল হোক, যাতে সেখানে শেষ অবধি একটা রাষ্ট্র ব্যবস্থা গঠন হয়, যা আফগানিস্তানের জাতিগত ইচ্ছাকে পূরণ করবে ও প্রতিবেশীদের জন্য কোন রকমের বিপদের কারণ হবে না, তবে তাদের পক্ষে খারাপ হত না আফগানিস্তানের জনগনের বক্তব্য শোনায়. তার মধ্যে আফগানিস্তানের পার্লামেন্ট সদস্যদেরও, শুধু এই দেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রশাসনেরই নয়.যেমন, আমাদের প্রতিবেশীরা, সেই রকমের দেশ, যাদের আন্তর্জাতিক ভাবে প্রভাব রয়েছে, তারা আফগানিস্তানের সমস্যা নিয়ে সেই সমস্ত আলোচনাতে অংশ নিতে পারতেন, যা শুধু আমাদের মন্ত্রীসভার পৃষ্ঠপোষকতাতেই হচ্ছে না. এটা তাদের বোঝার সুবিধা করে দিত, আফগানিস্তানের জনগন কি চাইছেন, তারা আমাদের সামাজিক গঠনকে কি রকমের দেখতে চাইছেন আর তাদের মতে, কি করে বর্তমানের সমস্যা মেটানো যায়. সব মিলিয়ে, আমি এই এলাকায় আমাদের সমস্ত প্রতিবেশীদেরই আহ্বান করবো সক্রিয় হতে.

আর আপাততঃ দেখা যাচ্ছে যে, রকমের প্রশ্নাবলী নিয়েই আলোচনা করা হোক না কেন, যা আফগানিস্তানের সমস্যাকে স্পর্শ করে, আমাদের প্রতিবেশীরা পছন্দ করেন খুবই সন্তর্পণে চুপ করে থাকতে. আর যখন ছুরি একেবারে হাতল অবধি ক্ষতের মধ্যে ঢুকে গিয়েছে, তখন তারা আফগানিস্তান ও তাদের নিজেদের জন্য অপেক্ষায় থাকা বিপদ নিয়ে চেঁচাতে শুরু করেন. এটা অবশ্যই সবই ঠিক. শুধু আগে আপনারা কোথায় ছিলেন”.

আফগানিস্তানের পার্লামেন্ট সদস্যের ক্ষোভ বোঝা সম্ভব. কিন্তু, সম্ভবতঃ, আফগানিস্তানের পার্লামেন্ট সদস্যদেরও কেউ বারণ করে নি প্রতিবেশীদের সঙ্গে আলোচনার ব্যবস্থা করার – কাছের ও দূরের – নিজেদের, পার্লামেন্টের স্তরেই. আগে থেকে বলা যেতে পারে যে, তাদের আহ্বান শোনা হবে. এখন পরিস্থিতি এই রকমের যে, “খুব বেশী করেই আফগানিস্তান”, তাদের আঞ্চলিক সহকর্মীদের আলোচ্য তালিকায় থাকতে পারে না.

উদাহরণ হিসাবে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর নেতৃত্বের পর্যায়ে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার দেশগুলির সদ্য হওয়া একটি বৈঠকের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে, যা জুন মাসের শেষে রাশিয়ার ইকাতেরিনবুর্গ শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে. এখানে বিনা চশমায় দেখা গিয়েছে যে, মধ্য এশিয়া এলাকার সীমান্তের পরিস্থিতি কতখানি আফগানিস্তানের পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িত. এখানে শুধু মাদক পাচারই নয়, বরং অস্ত্র ব্যবসা, চরমপন্থার কারণ ও অন্যান্য একসাথেই জড়িত রয়েছে. প্রায় একই রকম হয়ে রয়েছে আফগানিস্তানের সামরিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি.

সমস্যা সমাধান করার এখনও দেরী হয়ে যায় নি. কিন্তু যেন এই রকম না হয়, যা গিলানি বলেছেন যে, সমস্যা নিয়ে কথা শুধু তখনই শুরু হবে, যখন “ছুরি একেবারে হাতল অবধি গেঁথে যাবে”.