সাময়িক ভাবে দেশের প্রধানের দায়িত্ব প্রাপ্ত আদলি মনসুর ইজিপ্টের সমস্ত রাজনৈতিক শক্তিদের সহযোগিতার জন্য আহ্বান করেছেন, তাদের মধ্যে “মুসলমান ভাইদের” দলও রয়েছে. বাস্তবে এই দলের সমস্ত বড় নেতারা ও বেশ কয়েকশো সক্রিয় কর্মী গ্রেপ্তার বরণ করেছেন. ঐস্লামিকদের অধীনে থাকা টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে. কিন্তু “মুসলমান ভাইদের” দলের সমর্থকরা ও ক্ষমতা থেকে অপসৃত মুহাম্মেদ মুর্সি ঠিক করেছেন মিছিল করা চালিয়ে যাওয়া ও নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির আইন সঙ্গত হওয়ানোর চেষ্টা জারী রাখার, প্রসঙ্গতঃ কায়রো শহরের এক মহিলা বলেছেন:

“সামরিক বাহিনীর লোকরা জনগনকে ঠকিয়েছে. প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আস-সিসির ক্ষমতা পরিবর্তনের ঘোষণার অব্যবহিত পরেই সমস্ত ঐস্লামিক টেলিভিশনের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে. এটা কি স্বাধীনতা”?

প্রসঙ্গতঃ, “মুসলমান ভাইয়েরা”, যদিও অস্বীকার করেছে ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া লোকদের স্বীকার করে নিতে, তবুও তারা ঘোষণা করেছে যে, তাদের সঙ্গে সশস্ত্র যুদ্ধে নামবে না. আর সামরিক বাহিনীর লোকরা গ্যারান্টি দিয়েছে যে, তারা জন সমাবেশ করায় বাধা দেবে না, যদি তা জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়ে কোন রকমের হুমকিতে পরিণত না হয়. এটা আশার কথা, কারণ দুবছর আগের রক্তক্ষয়ের ঘটনা এখন আর ঘটবে না, এই কথা উল্লেখ করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের কর্মী আন্দ্রেই করতায়েভ বলেছেন:

“দুঃখের বিষয় হল যে, এখনও কড়া ঘটনা পরম্পরা ও গৃহযুদ্ধের দিকে চলার রাস্তায় চলার সম্ভাবনা বাতিল করে দেওয়া যাচ্ছে না. কিন্তু আমি, সত্যি করে বলতে কি, খুবই আশা করছি এই পরিস্থিতিতে “মুসলমান ভাইদের” নেতৃত্বের জ্ঞানগম্যির উপরে. কারণ, তাদের জন্য নীতিগত ভাবে এখন লাভজনক হবে বিরোধীদের অসমান্তরাল ভাবে উত্তর দেওয়ার ও আইন সঙ্গত বিরোধী হিসাবে চেষ্টা করার. আগামী মাস গুলিতে “মুসলমান ভাইয়েরা” শুধু তাতে পয়েন্টই বেশী করে পাবে. ঠিক এখনই পরিস্থিতি এই রকমের যে, যদি যথেষ্ট তাড়াতাড়ি নির্বাচন করা হয়, তবে এখনকার ঢেউয়ে “মুসলমান ভাইয়েরা” তা হেরে যাবে. কিন্তু যদি এই প্রক্রিয়া দেরীতে হয়, তবে “মুসলমান ভাইয়েরা” আবার ক্ষমতায় আসতে পারে একেবারেই আইন সঙ্গত ভাবে”.

রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর ইজিপ্টের সমস্ত রাজনৈতিক শক্তিকে আহ্বান করেছে ধৈর্য ধরতে ও সারা জাতির স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই কাজ কর্মের নীতি স্থির করতে, আর তারই সঙ্গে সমস্ত রাজনৈতিক ও সামাজিক-অর্থনৈতিক সমস্যাকে গণতান্ত্রিক ভাবেই সমাধান করার দিকে চেষ্টা করতে. রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব বান কী মুন দাবী করেছেন যত দ্রুত সম্ভব ইজিপ্টে অসামরিক প্রশাসন পুনরুদ্ধার করার, যা গণতন্ত্রের নীতির সঙ্গে সহমতে করা যাবে. প্যারিস নতুন প্রশাসনকে পদ থেকে অপসৃত মুহাম্মেদ মুর্সির সঙ্গে যথেষ্ট মর্যাদার সঙ্গে ব্যবহার করতে বলেছে. তুরস্ক মনে করেছে ঘটে যাওয়া ঘটনা সামরিক হস্তক্ষেপ আর তা জনগনের ইচ্ছানুরূপ নয়.