রাশিয়া এবারে সমৃদ্ধতম দেশের তালিকায় পড়েছে. বিশ্ব ব্যাঙ্ক বাত্সরিক রেটিং বিচারের সময়ে রাশিয়াকে জনগনের মাথাপিছু আয়ের হিসাবে “মাঝারির বেশীর” চেয়ে এবারে “উচ্চ আয়ের স্তর সম্পন্ন” রাষ্ট্রগুলির মধ্যে তুলেছে.

বছরে প্রত্যেক রুশ ব্যক্তির গড় আয় ১২ হাজার ৭০০ ডলার হয়েছে. আর উচ্চ আয়ের স্তর সম্পন্ন রাষ্ট্রের মধ্যে সেই সব রাষ্ট্র রয়েছে, যাদের এই গড় আয় মাথাপিছু ১২ হাজার ৬১৬ ডলারের বেশী. এই প্রসঙ্গে হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্সের প্রফেসর ওলগা কুজিনা বলেছেন:

“আমাদের এই ক্ষেত্রে ... সমস্ত গোষ্ঠীর জনগনেরই আয় বৃদ্ধি হচ্ছে. বাস্তব আয় তা দিয়েই করা সম্ভব হচ্ছে কারণ আমাদের মূল্যবৃদ্ধি রয়েছে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে. নিয়মিত ভাবে বেতন ও পেনশনের বৃদ্ধিও একটা বড় অবদান রেখেছে. সবচেয়ে মোদ্দা কথা হল যে, আয় শুধু সংখ্যার ক্ষেত্রেই বাড়ছে না, বাড়ছে বাস্তবিক ভাবেই: মূল্যবৃদ্ধি জিনিষ পত্রের দাম বাড়িয়ে বেতনকে গ্রাস করতে পারছে না”.

বিশ্ব ব্যাঙ্ক উল্লেখ করেছে: নিজেদের ফলাফল ভাল করে, রাশিয়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থায় যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে ত্বরাণ্বিত করেছে. তার মধ্যে দেশের সমৃদ্ধতম রাষ্ট্রের তালিকায় প্রবেশও – সরকারি ভাবে দেশের জনগনের জীবন যাপনের উন্নতির বিষয়ে সাফল্যকেই স্বীকার করার প্রমাণ. তাই অর্থনীতিবিদ সের্গেই খেস্তানভ বলেছেন:

“বিশেষ করে মূল্যবান হল যে, এই স্বীকারোক্তি করেছে রাশিয়াকে যথেষ্ট সমালোচনার চোখে দেখা এক প্রভাবশালী সংস্থার পক্ষ থেকে. যদি আমাদের জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্র গুলিকেও উঠিয়ে আনা সম্ভব হয়, প্রাথমিক ভাবে, দুর্নীতির স্তরকে কমানো সম্ভব হয় ও আদালতের কাজকর্মের স্বচ্ছতার স্তরকে বাড়ানো সম্ভব হয়, তবে ২০১৫ সালের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থায় যোগ দেওয়ার প্রক্রিয়াকে যথেষ্ট বাস্তব বলেই মনে হচ্ছে”.

0রাশিয়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থায় যোগ দিতে চায় প্রাথমিক ভাবে উন্নত অর্থনীতি বলে স্বীকৃতী পাওয়ার জন্যেই. বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্যে রাশিয়ার এই সংস্থায় যোগদান হবে এমন একটি সঙ্কেত যে, এই দেশ ব্যবসার মানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করার জন্য তৈরী ও তার জন্য অভ্যস্ত নিয়মানুযায়ী কাজ করতে প্রস্তুত. প্রাথমিক ভাবে সেই সূচকের দিকেই দেখা হবে যেমন বিনিয়োগের পরিবেশ, ধনী ও দরিদ্রদের মধ্যে আয়ের তফাত, শ্রমের উত্পাদন ক্ষমতার স্তর ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তিকে প্রশ্রয়ের মাত্রা. রাশিয়ার সামনে রয়েছে অনেক কাজ, কিন্তু পথ ঠিকই বাছা হয়েছে. সবচেয়ে ধনী দেশের তালিকায় রয়েছে ৭৫টি দেশ. এতে প্রথম জায়গা রয়েছে মোনাকো দেশের, প্রথম পাঁচের মধ্যে আরও রয়েছে লিখটেনস্টাইন, বারমুডা দ্বীপপূঞ্জ, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ড.