মিশরে শাসন ক্ষমতা বদলেছে. রাষ্ট্রপতি মুহাম্মেদ মুর্সির বিরুদ্ধে বহুদিন ব্যাপী গণ-আন্দোলনের পরে রাষ্ট্রনেতাকে পদচ্যুত করেছে সেনাবাহিনী. সংবিধান বাতিল করা হয়েছে. সেনাবাহিনী ও বিরোধীপক্ষের কথায়, মিশরে শুরু হয়েছে অন্তর্বর্তী কাল, যা কয়েক মাস চলবে.

   গত সপ্তাহে মুহাম্মেদ মুর্সির পদে অধিষ্ঠানের বার্ষিকীর সময়ে দেশে শুরু হয়ে যায় তাঁর শাসনে অসন্তুষ্টদের ব্যাপক প্রতিবাদ আন্দোলন, মিশরের সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ পরিষদ বিরোধীদের পক্ষ গ্রহণ করে.ফলে রাষ্ট্রপতি মুর্সি ক্ষমতাচ্যুত হন, যা ঘোষণা করেন মিশরের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আব্দেল ফাত্তাহ আল-সিসি –

   আমরা আশা করেছিলাম জাতীয় আপোষের, আস্থার এবং স্থিতিশীলতার. কিন্তু রাষ্ট্রপতি ইঙ্গিত দেন যে, তিনি জনগণের কথা শুনতে পাচ্ছেন না. সেনাবাহিনীর অধিনায়কমন্ডলী মিশরের জনসমাজের সমস্ত প্রতিনিধিদের সাথে পরামর্শের পরে মিশরে ঐক্যবদ্ধ সমাজ গঠনের জন্য ভবিষ্যত্ পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে.

   এ কর্ম-পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়: সাময়িকভাবে রাষ্ট্রনেতার দায়িত্ব পালন করবেন সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালতের সভাপতি আদলি মানসুর. দেশে নতুন রাষ্ট্রপতি এবং পার্লামেন্টের নির্বাচন হবে, আর বিশেষ কমিশন সংবিধানে পরিবর্তন আনবে.

   সেনাবাহিনী নিজের উপর অসহজ দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, মনে করেন আন্তর্জাতিক নব্য রাষ্ট্র ইনস্টিটিউটের “নিকট প্রাচ্য – ককেশাস” গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর স্তানিস্লাভ তারাসভ –

   প্রথমত, সেনাবাহিনীর সামনে রয়েছে রাষ্ট্র পরিচালনার দল – টেকনোক্রাটিক সরকার গঠনের কর্তব্য. দ্বিতীয়ত, সংস্কারের প্রকল্প প্রণয়ন করা. তারপর তার বাস্তবায়ন শুরু করা, অর্থনৈতিক জীবনকে সুস্থ করে তোলা, কারণ মিশরের অর্থনীতি বিপর্যয়কর অবস্থায় রয়েছে. সেনাবাহিনী যদি ফলপ্রসূ টেকনোক্রাটিক সরকার গঠন করতে পারে এবং ধর্ম ও রাষ্ট্রকে আলাদা করতে পারে তাহলে মিশর-কে বাঁচানোর সম্ভাবনা আছে.

   প্রসঙ্গত, বৈপ্লবিক উপায়ে শাসন ক্ষমতার নিয়মিত পরিবর্তনের বিপদ বাস্তব হয়েই থাকছে. তা যাতে না ঘটে, সেনাবাহিনীকে, যা নিজেদের উপর দেশে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছে, লক্ষ্য রাখতে হবে, যাতে সবকিছু ঘটে শুধু আইনে সূত্রবদ্ধ মান অনুযায়ী, জোর দিয়ে বলেন মস্কোর রাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের প্রাচ্যতত্ত্ব বিভাগের প্রফেসার মারিনা সাপ্রোনোভা –

   রাজনৈতিক গঠন প্রক্রিয়ার পুরো পুনরারম্ভ চালানো উচিত্ দেশের সাংবিধানিক আদালতের এবং অন্যান্য সাংবিধানিক সংস্থার অতি কঠোর নিয়ন্ত্রণে. কারণ মিশরে মুখ্য সমস্যা হল এই যে, আগে নির্বাচনী প্রক্রিয়া আংশিকভাবে লঙ্ঘিত হয়েছিল. আর তা সাংবিধানিক আদালতকে ভিত্তি জুগিয়েছিল প্রথমে পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষ ভেঙ্গে দেওয়ার আর তারপর উচ্চ কক্ষকে বেআইনী বলে স্বীকার করার. রাজনৈতিক প্রক্রিয়া যদি সাংবিধানিক আদালতের কঠোর নিয়ন্ত্রণে চালানো হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কোনো রাজনৈতিক শক্তিকে বলার সুযোগ দেবে না যে, নতুন বিন্যাসগুলি বেআইনী.

0   এখন সেনাবাহিনী দেশকে রক্তক্ষয় হওয়া থেকে ধরে রাখতে চেষ্টা করছে. মুর্সির প্রতিপক্ষরা আনন্দ করছে, কিন্তু তাদেরও লক্ষ লক্ষ পক্ষসমর্থক আছে. শুধু বিগত এক দিনে সঙ্ঘর্ষে বেশ কিছু লোক নিহত হয়েছে শতাধিক লোক আহত হয়েছে. প্ররোচনা এড়ানোর জন্য সেনাবাহিনী মুর্সির সমর্থক টেলি-চ্যানেলগুলিকে বন্ধ করেছে. “ভাই মুসলমান” সংস্থার নেতা ও সক্রিয় কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে. আর রাষ্ট্রপতি নিজে, গ্রেপ্তার থাকলেও দেশে ঘটমান পরিবর্তনকে ন্যায্য বলে মানতে অস্বীকার করেছেন.