ভারতীয় চলচ্চিত্রের সাথে সোভিয়েত দর্শকদের লাভ স্টোরি অবিরত তাড়া করে ফেরে আধুনিক ফিল্ম নির্মাতাদের. বলিউডের প্রযোজক ও মস্কোয়   'রেট্রো বলিউড' নামে  সোভিয়েত ইউনিয়নে জনপ্রিয় ভারতীয় ফিল্মগুলি প্রদর্শনের অন্যতম সংগঠক প্রকাশ শর্মা দৃঢ় সংকল্প করেছেন আবার নতুন করে বলিউডের ফিল্ম দেখিয়ে রুশী দর্শকদের মন জয় করার ও রুশবাসী নতুন প্রজন্মকে দিয়ে বলিউডের ফিল্ম দেখার জন্য এই দেশের সিনেমা হলগুলি ভরিয়ে দেওয়ার. 

      "আমি বলতে পারি, যে আমাদের 'রেট্রো বলিউড' ফিল্মোত্সব সফল হয়েছে. উদ্দীপণা আছে, লোকজনও আছে এবং আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সামনের বছরে এই ফিল্মোত্সবের কাটতি হবে আরও বেশি. সামনের বছর খোঁজ করবো আরও নতুন পৃষ্ঠপোষকদের ও আরও বেশি দর্শক সিনেমা হলে টানার সংকল্প নিয়েছি" - বলছেন প্রকাশ শর্মা. - "পাশাপাশি আমরা মুম্বাই ও গোয়াতে রুশী ফিল্ম প্রদর্শনীর আয়োজন করতে চলেছি. আমরা চাইছি পৃথিবীর দু'টি অন্যতম বৃহত্ সিনে ইন্ডাস্ট্রিকে একজোট করতে".

      ইন্টারভিউ নেওয়ার মাত্র কয়েক মিনিট আগে ভারতীয় পক্ষের সাথে গোয়ায় 'তারায় ভরা আকাশের নীচে চলচ্চিত্র' নামক ফিল্মোত্সব আয়োজন করার ব্যাপারে পাকাপাকি বন্দোবস্ত হয়েছে মস্কোর প্রখ্যাত দোম কিনোয় (সিনে হাউজে)  খোদ দর্শক হলেই. হয়তো উত্সবের নাম দেওয়া যেতে পারতো - 'তারায় ভরা আকাশে চলচ্চিত্র' - কারণ সংগঠকরা সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে গোয়ার রাতের আকাশে প্রোজেক্টার ব্যবহার করে ফিল্ম দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন.

      'তারায় ভরা আকাশের নীচে চলচ্চিত্র' প্রকল্পের ব্যবস্থাপক অভিনেত্রী ও প্রযোজক নাতালিয়া গনচারোভা এই প্রসঙ্গে আমাদের সংবাদদাত্রীকে বলছেন -

      প্রত্যেকটি রুশবাসী দর্শকের কাছে ভারত - এটা জীবনের প্রথম রোম্যান্টিক ভালোবাসা, আর গোয়া আমাদের কাছে স্বাধীন সৃজনশীল কাজে অনুপ্রেরণা যোগানোর আদর্শ জায়গা. আসন্ন ফিস্মোত্সবের মাহাত্ম হচ্ছে এই, যে সেখানে মুলতঃ নবীন চিত্র পরিচালকদের ছবি দেখানো হবে এবং বেনামে. স্বনামধন্য বিচারকদের পাশাপাশি সাধারণ দর্শকরাও ছবির মূল্যায়ন করবে.

      নতুন বোঝাপড়ায় বিশেষ করে বিগলিত পুরনো জমানার বিশেষজ্ঞরা, যাদের সৌভাগ্য হয়েছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভারতের মধ্যে সহযোগিতার উদ্দাম কলতান প্রত্যক্ষ করার. মস্কোয় 'রেট্রো বলিউডে'  দর্শকদের দেখানো হয়েছে চিত্র পরিচালিকা ভেরা ফেদোরচেনকোর আশির দশকে তোলা তথ্য চিত্র - 'ভারতীয় চলচ্চিত্রের রুপকথার জগত্'. দুর্ভাগ্যক্রমে ফিল্মটি দীর্ঘকাল বাক্সবল্দি হয়ে পড়েছিল অযাচিত থেকে. ভেরা ফেদোরচেনকোর বক্তব্য শুনুন -

       সে ছিল শুধু ভারতীয় চলচ্চিত্র নিয়ে মাতোয়ারা হওয়ারই যুগ নয়, চলচ্চিত্রের সূত্রেই ভারতের ইতিহাস, সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার প্রবল আগ্রহের যুগ. সেই সুবাদেই আমরা পেয়েছি বহু ভারততত্ত্ববিদ ও বাংলাতত্ত্ববিদদের. খোলা হয়েছিল ভাষা শিক্ষায়তন, লোকে শিখতো আমাদের জন্য অনেক দূরের, জটিল সব ভাষা. ফিল্মের মাধ্যমেই জনগণ ভারতীয় নৃত্য ও সঙ্গীতের চর্চা করতো. আমার নিজের চোখে দেখা, যে একসময়ে আমাদের বিশাল দেশটায় অগুন্তি ফিল্ম-ক্লাবের আবির্ভাব হয়েছিল, যেখানে শুধু ভারতীয় চলচ্চিত্র নয়, ভারতকে নিয়ে মুগ্ধ লোকজনই জমা হতো. রুশী সংস্কৃতিতে ভারতীয় চলচ্চিত্রের প্রভাব এখনো পুরোপুরি অধ্যয়ন করা হয়ে ওঠেনি, আমাদের দেশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চলচ্চিত্রায়ণের মর্ম বোঝা যায় বিনা বাক্যেই.

      মনে হচ্ছে, যে রাশিয়া ও বলিউডের পারস্পরিক ভালোবাসার আগুন এখনো নিভে যায়নি. ভারতীয় ও রুশী প্রযোজকরা শুধু দুই দেশে ফিল্ম উত্সবেরই আয়োজন করবেন না, তারা ঠিক করেছেব ঋত্বিক রোশন ও রুশী তারকাসমৃদ্ধ একটা যৌথ ফিল্ম বানানোর.