১লা জুলাই নবম আন্তর্জাতিক মুসলিম চলচ্চিত্র উত্সবে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন পত্র নেওয়া শেষ হয়েছে: সেপ্টেম্বরে এই উত্সব হতে চলেছে কাজান শহরে.

৩০টি দেশ ঠিক করেছে এখানে নিজেদের নতুন চলচ্চিত্র দেখানোর জন্য – আর সেই গুলির সংখ্যা ৩০০রও উপরে – তাতারস্থানের রাজধানীতে. নিয়মানুযায়ী বাছাই পরিষদ ৫০টি চলচ্চিত্র এখানে মুখ্য প্রতিযোগিতার জন্য বেছে নেবেন, যেগুলি ২০১১ সালের আগে তোলা হয় নি আর তার মধ্যে ২০টি কাহিনী চিত্র (১০টি পূর্ণ দৈর্ঘ্যের ও ১০টি স্বল্প দৈর্ঘ্যের), ২০টি তথ্য চিত্র ও ১০টি অ্যানিমেশন সিনেমা, এই প্রসঙ্গে রেডিও রাশিয়ার সাংবাদিক প্রতিনিধিকে উত্সবের কার্যকরী ডিরেক্টর মারাত দাভলেতভ বলেছেন:

“ঐতিহ্য অনুযায়ী আমরা ৩৫০ থেকে ৪০০টি আবেদন পেয়ে থাকি. আগের বছর গুলির মতই এখানে বেশী করে থাকে মুসলিম অধ্যুষিত এলাকার সিনেমা. কিন্তু এই বছরের বিশেষত্ব হল – বেশী করে ছবি এসেছে ইউরোপ থেকে, বিশেষ করে পূর্ব ইউরোপ থেকে. প্রায় শতকরা ৩০ ভাগ ছবিই – এই এলাকার সিনেমা. বিগত বছর গুলির মতই, অনেক আবেদন এসেছে আরব দেশ গুলি থেকে – আরব বসন্তের ঘটনা নিয়ে তোলা ছবিও আছে, তবে এই ঘটনা চলচ্চিত্রের সংখ্যার উপরে কোনও প্রভাব ফেলে নি. বরং বিষয় বস্তুর উপরে প্রভাব ফেলেছে: আমি মনে করি যে, তথ্য চিত্র নিয়ে প্রতিযোগিতায় ২-৩টি আরব দেশ থেকে আসা ছবি জায়গা পাবে”.

মুসলমান চলচ্চিত্র উত্সবের স্লোগান – “সংস্কৃতিগুলির মধ্যে আলোচনা থেকে – আলোচনার সংস্কৃতিতে”. এখানে যে সমস্ত সিনেমা পেশ করা হয়েছে, তা সমগ্র মানব সমাজের মূল্যবোধের পরিচয় দেবে, মানবিক নীতির সঙ্গে খাপ খাবে.

ছবি বেছে নেওয়ার কাজে পেশাদার চিত্র সমালোচকদের সঙ্গে সহায়তা করছেন মুসলমান ধর্মীয় সংগঠনও. কয়েকটি ছবি তাতারস্থান রাজ্যের উলেমা সভার সদস্যরা এখানে না দেখানোর জন্য ইতিমধ্যেই বলেছেন. তাই দাভলেতভ বলেছেন:

“একটা নির্দিষ্ট রকমের সভ্যতার মাত্রা РАВ, Семина О. রয়েছে. এটা ঠিক যে, চিত্র পরিচালকরা মুসলমানদের জীবনের কোনও নেতিবাচক বিষয়কে দেখাতেই পারেন, কিন্তু তা এই সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে না. আমরা এই চলচ্চিত্র উত্সবকে স্রেফ সিনেমা শিল্পের সর্বাধুনিক সাফল্যের নিদর্শন হিসাবেই দেখি না, বরং দেখি মুসলমানদের জন্য সিনেমা বলেই”.

এখানে প্রতিযোগিতার বাইরে যে সব ছবি দেখানো হতে চলেছে তাও খুবই সমৃদ্ধ বলে আশা করা হয়েছে. পরিকল্পনা রয়েছে এখানে সোভিয়েত দেশের পরে নামের একটি বিশেষ প্রোগ্রামের মধ্যে কাজাখস্থান, উজবেকিস্তান, আজারবাইজান ও অন্যান্য প্রাক্তন সোভিয়েত রাজ্যের ছবি দেখানো হবে. এছাড়া হবে ইউরোপের দিকে জানলা নামের বিশেষ সিনেমার সঙ্কলন দেখানো, তাই দাভলেতভ বলেছেন:

“এখানে কারেন শাখনাজারোভের তোলা ছবির রেট্রসপেক্টিভ দেখানো হবে, তিনি এবারে জ্যুরি পরিষদের প্রধান আর হবে ভারতীয় সিনেমার একশ বছর উপলক্ষে বলিউডের ছবি দেখানো, যাতে থাকবে সবচেয়ে আধুনিক বলিউডের সিনেমা ও আমার মনে হয় এটা দারুণ আগ্রহের ব্যাপার হবে”.

প্রধান পুরস্কারের জন্য তাও মনে হয় যে, কাজানের এই নবম আন্তর্জাতিক মুসলমান চলচ্চিত্র উত্সবে, ঐতিহ্য অনুযায়ী ইরান, তুরস্ক ও ইজিপ্টের মতো ঐস্লামিক সিনেমায় অগ্রণী দেশের ছবি গুলিই লড়াই করবে, তাই দাভলেতভ বলেছেন:

“আমি মনে করি যে, ইরান নিজেদের নেতৃত্বের জায়গা হারিয়ে ফেলবে না, আর এবারে তাদের জায়গা কিছুটা তরল হবে ইউরোপ থেকে আসা গুণ মানে সমৃদ্ধ চলচ্চিত্র দিয়েই”.

একমাস পরে বাছাই পরিষদ ঘোষণা করবেন সরকারি ভাবে কারা এই উত্সবে যোগ দিচ্ছেন, তাঁদের তালিকা, আর ৫ থেকে ১১ই সেপ্টেম্বর জ্যুরি পরিষদের সদস্য ও দর্শকরা বিচার করবেন, আধুনিক মুসলমান সিনেমা এটা কি রকমের.