ইজিপ্টের (মিশরের) রাষ্ট্রপতি মুহাম্মেদ মুর্সি জনগনের দাবী মেনে নিয়ে পদত্যাগ করতে চাইছেন না, তাই জন্য সর্ব্বোচ্চ সামরিক পরিষদের চরম হুঁশিয়ারিকে অগ্রাহ্য করেছেন. একই সময়ে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সহমত ঘোষণা করেছে ইজিপ্টের পুলিশ বাহিনীও. সামরিক বাহিনী তৈরী আছে নিজেদের দেশের মানুষের জন্য রক্ত দিতে. তারা আজ বিকেলের পরে দেশের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিজেদের হাতে তুলে নেবে বলেছে.

সুতরাং এই কথা অস্বীকার করা যায় না যে, রাষ্ট্রপতি মুর্সি দেখা যাবে শান্তিপূর্ণ ভাবে দেশের রাজনৈতিক সঙ্কট সমাধানে অপারগ, তখন দায়ভার হাতে নেবে সামরিক বাহিনীর জেনারেলরা. দেশের সামরিক বাহিনী রাষ্ট্রপতিকে আগেই সাবধান করে দিয়েছে, যে, তারা রাষ্ট্রপতি বিরোধী বিক্ষোভ দমন করতে যাবে না. ইজিপ্টের পুলিশের অবস্থান জনগনের পাশেই. বেশ কিছু মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন ও রাষ্ট্রপতির সমর্থন কমে আসছে.

মুর্সির এক নিকটতম পরামর্শদাতা, “মুসলমান ভাইদের” দলের নেতৃত্বের এক প্রভাবশালী সদস্য ইসাম হাদ্দাদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় সঙ্ঘের কাছে আবেদন করেছেন ইজিপ্টে রাষ্ট্রপতিকে মিছিলের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য আন্তর্জাতিক সামরিক বাহিনী পাঠানোর জন্য. আপাততঃ সেই ব্যাপারে কোনও উত্তর পাওয়া যায় নি, কিন্তু পশ্চিমের উপরে আশা করার কোনও অর্থ হয় না. মুর্সি যে কোনও ক্ষেত্রেই ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবেন না. তিনি হয় উত্খাত হবেন অথবা নিজেই সরে যাবেন, দেশের জন্য এর কোনও বড় সংজ্ঞাবহ অর্থ নেই, এই রকম মনে করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক সহকর্মী দিমিত্রি মারিয়াসিস বলেছেন:

“এর পরে ইজিপ্টে কি শান্তি আসবে – আমি মনে করি যে, না. খুব সম্ভবতঃ, আমরা দেখতে পাবো তথাকথিত আরব বসন্তের দ্বিতীয় অধ্যায়. বিভিন্ন দলের লোকদের তরফ থেকে এই অভ্যুত্থানের ফলকে নিজেদের দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা. ইজিপ্টের জন্য শান্তি ফিরে আসার এখনও অনেক দেরী রয়েছে”.

একই সময়ে ইজিপ্টে ইতিমধ্যেই রক্তক্ষয় হচ্ছে. কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছের এলাকায় মুর্সির সমর্থক ও বিপক্ষ দলের লোকদের মধ্যে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ১৬ জন ও আহত প্রায় ২০০ লোক. গত সপ্তাহের শেষ থেকে ইজিপ্টে যে বিক্ষোভ চলছে, তাতে কম করে হলেও ১ কোটি ৭০ লক্ষ মানুষ অংশ নিয়েছেন, আর বিরোধী পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, এটা কম করে হলেও ৩ কোটি লোকের বিক্ষোভ.