ইজিপ্টের (মিশরের) রাষ্ট্রপতি মুহাম্মেদ মুর্সি জনগনের দাবী মেনে নেওয়া জন্য সর্ব্বোচ্চ সামরিক পরিষদের চরম হুঁশিয়ারিকে অগ্রাহ্য করেছেন. একই সময়ে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সহমত ঘোষণা করেছে ইজিপ্টের পুলিশ বাহিনীও. দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান ইস্তফা দিয়েছেন, আর অন্যান্য উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মীরাও নিজেদের পদত্যাগ করছেন.

এর আগে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আবদেল ফাত্তাহা আস-সিসি একটি ঘোষণা নিয়ে রেডিও মাধ্যমে বক্তৃতা দিয়েছেন, যাতে দেশের সমস্ত রাজনৈতিক শক্তিকেই দুদিনের মধ্যে জনগনের দাবী মানার জন্য দু’দিন সময় দিয়েছেন, তিনি বলেছেন:

“দেশের সমস্ত রাজনৈতিক শক্তিই ৪৮ ঘন্টা সময়ের মধ্যে জনগনের দাবী মানতে বাধ্য ও এই সঙ্কট থেকে বের হওয়ার পথ নিতে বাধ্য. অন্যথায়, উপস্থিত পরিস্থিতির জটিলতা হিসাব করে, সামরিক বাহিনী নিজেদের কাজের পরিকল্পনা পেশ করবে, যা বর্তমানে বিপ্লবের আহ্বান করা যুব সমাজ সহ আমাদের জনগনের সমস্ত স্তরের মানুষদেরই স্বার্থের কথা ভেবে প্রস্তাব করা হবে”.

ইজিপ্ট – নাগরিক রাষ্ট্র ও তা পুরনো সময়ে ফিরে যেতে দেওয়া হবে না – এই রকম ভাবেই আজ সকালে রাষ্ট্রপতি মুহাম্মেদ মুর্সির দপ্তর সামরিক নেতৃত্বের চরম হুঁশিয়ারির জবাব দিয়েছে.

বর্তমানে দেশের সমস্ত বড় শহর গুলিই ব্যাপক ভাবে গণ সমাবেশে উত্তাল হয়ে রয়েছে – আলেকজান্দ্রিয়াতে, পোর্ট সঈদে ও এমনকি রাষ্ট্রপতি মুর্সির নিজের জন্ম শহর এজ-জাকাজিকে. কায়রো শহরে মুসলমান ভাইদের সদর দপ্তর দখল করে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে. এই জায়গা দখলের লড়াইতে আট জনের প্রাণ গিয়েছে. বিশৃঙ্খলা শুরু হওয়ার পরে থেকে মারা গিয়েছেন ১৬ জন ও আহত হয়েছেন প্রায় ৬০০ জন.

বিরোধী পক্ষ মুর্সিকে দোষ দিয়েছে যে, দেশের ক্ষমতা মুসলমান ভাইয়েরা সম্পূর্ণভাবে করায়ত্ত করেছে, তাদেরই এক দলছুট রাষ্ট্রপতি নিজেই. তাঁকে একই সঙ্গে প্রাক্ নির্বাচনী আশ্বাস পূর্ণ না করার জন্য ও দেশ অপটু হাতে চালানোর জন্য দোষ দেওয়া হয়েছে. বিরোধীদের মতে দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সঙ্কট হওয়ার কারণ হয়েছে এটাই.

সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধিরা বিশেষ করে উল্লেখ করেছে যে, সরকারকে চরম হুঁশিয়ারি দেওয়া সামরিক অভ্যুত্থানের চেষ্টা নয় আর তাঁরা কাজ করবে দেশের সমস্ত রাজনৈতিক শক্তির স্বার্থের কথা ভেবেই. কিন্তু বিরোধী পক্ষ সামরিক বাহিনীর ঘোষণাকে বিনা শর্তে সমর্থন বলেই ধরে নিয়েছে. বিরোধী পক্ষের জাতীয় ত্রাণ সংগ্রাম দলের প্রতিনিধি খালিদ দাউদ বলেছেন:

“সামরিক বাহিনী আমাদের আরও কিছুটা সময় দিচ্ছে, যাতে জনতার দাবীর সঙ্গে আমাদের দাবী সমঝোতায় আনা যায়, যা এমনিতেই আমাদের দাবীর মতোই. জাতীয় ত্রাণের ফ্রন্ট, রাস্তার আরও সব মানুষের মতই চায় যে, মুর্সি যেন ইস্তফা দেয় ও এই স্বৈরতান্ত্রিক প্রশাসনের অবসান হয়, যা সে মুসলমান ভাইদের সাথে তৈরী করেছে”.

নিজেদের পক্ষ থেকে বর্তমানের প্রশাসনের পক্ষের লোকরাও ইজিপ্টে রাস্তায় নেমেছে, যাতে রাষ্ট্রপতিকে নিঃশর্তে সমর্থন প্রকাশ করা যায়. কিন্তু এই সব লোকদের মিছিল, যারা বিরোধী, তাদের চেয়ে আকারে অনেক কম.

বর্তমানের রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধেই সময় বয়ে যাচ্ছে. ইজিপ্টের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ইতিমধ্যেই সামরিক বাহিনীর সঙ্গে নিজেদের সহমত ঘোষণা করেছে. মন্ত্রকের ঘোষণায় বলা হয়েছে যে, আমরা রাস্তায় দল বেঁধে বার হওয়া নাগরিকদের একলা রাখব না, যাঁরা এখন নিজেদের ইচ্ছার কথাই প্রকাশ করতে এসেছেন. প্রধানমন্ত্রী হিশাম কান্দিলের মন্ত্রী সভাতেও কাজ না করার কথা ঘোষণা করেছেন ইজিপ্টের পাঁচজন মন্ত্রী – পর্যটন, যোগাযোগ, পরিবেশ, আইন ও জল সম্পদ মন্ত্রী.