মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে সর্বব্যাপী অনুসরণের কেলেঙ্কারি রবিবারে (৩০শে জুন) একটা নতুন, ইউরোপীয় মোড় নিয়েছে আর তা হোয়াইট হাউসের জন্য খুবই অপ্রিয় পরিণামের দিকে গড়াচ্ছে. ব্রাসেলস ওয়াশিংটনের তরফ থেকে ইউরোপে সর্বব্যাপী গুপ্তচর বৃত্তির নবতম তথ্য সংযোজনের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের এবারে সম্মুখ সমরে আহ্বান করতে চলেছে. জার্মানীর জার্নাল “শ্পিগেল” ২৯শে জুন শনিবারে জানিয়েছে যে, ওয়াশিংটন শুধু নিউইয়র্কে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সদর দপ্তরে ইউরোপীয় সঙ্ঘের অফিসকেই আর ওয়াশিংটনে ইউরোপীয় সঙ্ঘের প্রতিনিধি অফিসকেই নিজেদের আড়িপাতা ও উঁকি মেরে দেখার সদা উপস্থিত খোলসের নীচেই রাখে নি, এমনকি তারা ব্রাসেলসের ইউরোপীয় সঙ্ঘের সদর দপ্তরের অফিসকেও নিজেদের নজরে রেখেছে.

ইউরোপে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে, নিজেদের জোট সঙ্গীদের উপরেই নজরদারি করছে, সেই তথ্য এত বিরক্তির সঙ্গে নিয়েছে যে, তারা নতুন কাজের সপ্তাহ শুরু হওয়া অবধিও অপেক্ষা করতে চায় নি. যেমন, জার্মানীর আইন মন্ত্রণালয় রবিবার ৩০শে জুনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কেলেঙ্কারি হওয়া ঘটনা নিয়ে ব্যাখ্যা দাবী করেছে.

৩০শে জুন বিশেষ ঘোষণা নিয়ে ভাষণ দিয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রধান মার্টিন শুলত্স. তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, সিআইএ, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা ও অন্যান্য মার্কিন গুপ্তচর সংস্থার ন্যক্কারজনক কাজের পদ্ধতি উপযুক্ত জবাব ছাড়া পার পাবে না. “এই সবই খুব গুরুতর ব্যাপার. যদি এই তথ্য প্রমাণিত হয়, তবে এটার খুবই গুরুতর পরিণাম হতে চলেছে, তার মধ্যে ইউরোপীয় সঙ্ঘ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের বিষয়ও থাকবে”, - উল্লেখ করেছেন শুলত্স. ব্রাসেলস ঠিক করেছে জুন মাসের মাঝামাঝি এই বিষয় নিয়ে ইউরোপীয় সঙ্ঘের আইন মন্ত্রীদের মধ্যে আলোচনা করার.

“শ্পিগেল” জার্নালে বের হওয়া খবর এডওয়ার্ড স্নোডেনের দেওয়া তথ্যের উপরেই ভিত্তিকরে হয়েছে, সেই সিআইএ ও জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার প্রাক্তন কর্মী, যে জুন মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পালিয়ে গিয়ে এই সব খবর ফাঁস করে দিয়েছে খবরের কাগজে আর যে খবরে বোঝা গিয়েছে কি করে মার্কিন সরকার সারা দুনিয়ার উপরে বৈদ্যুতিন ভাবে আড়ি পাতছে. যে সমস্ত দলিল প্রকাশিত হয়েছে, তা অনুযায়ী আমেরিকার গুপ্তচর সংস্থা তিনটি ভবনের টেলিফোন ও কম্পিউটার নেটওয়ার্কে গোপনে প্রবেশ করেছে: রাষ্ট্রসঙ্ঘে আর ওয়াশিংটনে ইউরোপীয় সঙ্ঘের ভবনে এবং ব্রাসেলসের ইউরোপীয় সঙ্ঘের সদর দপ্তরে. শেষ ভবনটি ব্যবহৃত হয় ইউরোপীয় সঙ্ঘের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকের জন্য, যেগুলিতে দেশ গুলির নেতারা ও ইউরোপীয় সঙ্ঘের দেশ গুলির প্রশাসনের কর্ণধাররা আলোচনা করেন ও মুখ্য সিদ্ধান্ত গুলি গ্রহণ করেন, তার মধ্যে অর্থনীতি ও পররাষ্ট্র নীতি নিয়েও. অফিস গুলিতে বসানো হয়েছিল “আড়ি পাতার যন্ত্র”. ইউরোপীয় সঙ্ঘের সমগ্র নেতৃবর্গের কথাবার্তাই শোনা হয়েছে, ইউরোপীয় সঙ্গের মন্ত্রীদেরও. ইউরোপীয় সঙ্ঘের নেতৃত্বের একে অপরকে দেওয়া চিঠি পত্রের অনেকাংশই পড়ে দেখা হয়েছে.

ওয়াশিংটন এমনকি নিজেদের জোট সঙ্গীদের সম্বন্ধেও শুধু একেবারে সাধারণ কূটনৈতিক ভদ্রতার নিয়ম রক্ষা করে না, বরং জোট সঙ্গীদেরই কোন রকমের সম্মান করে না, এই রকম মনে করে রাশিয়ার পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক কাজকর্ম বিষয়ক পরিষদের সদস্য আলেকজান্ডার বাবাকভ বলেছেন:

“এটা স্পষ্টই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে দেশ গুলির মধ্যে সম্পর্ক নির্মাণের বিষয়ে সর্ব গ্রাহ্য নিয়ম রীতির প্রস্থচ্ছেদ দিয়েই ও তাদের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে সদিচ্ছাকেই সন্দেহের বিষয় করে তোলে”.

“শ্পিগেল” জার্নালের তথ্য অনুযায়ী ইউরোপের নিরাপত্তা বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা ধরতে পেরেছেন যে, ইউরোপীয় সঙ্ঘের টেলিফোন লাইনের উপরে আক্রমণ করা হয়েছে ব্রাসেলসের সেই এলাকা থেকে, যেখানে ন্যাটো জোটের সদর দপ্তর রয়েছে, যেখানে কাজ করেছেন এই জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার কর্মচারীরা. সবচেয়ে বেশী করে নজরদারি করা হয়েছে ২০১০ সাল থেকে.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্যে খুবই অনুপযুক্ত এক সময়ে এই “স্নোডেনের মামলাটা” ঘিরে কেলেঙ্কারি “ইউরোপের দিকে মোড়” ফিরেছে. ওয়াশিংটনের পক্ষে প্রায় সম্ভব হয়েছিল সর্বব্যাপী গুপ্তচর বৃত্তি থেকে এই মামলার মোদ্দা কথাকে স্নোডেনের বিশ্বাসঘাতকতার দিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই শুধু নিজেদের স্নোডেনের কারণে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত বলে মনে করে নি, বরং প্রায় সমাজের একাংশকে বুঝিয়ে দিতে পেরেছিল যে, সে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসের সঙ্গে লড়াইকে ভণ্ডুল করে দিচ্ছে.

কিন্তু এখন, মনে হচ্ছে ওয়াশিংটনকে আবার করে সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষা করতে হবে. নতুন সপ্তাহ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন রকমের অপ্রিয় বিষয়কে নিয়ে আসতে চলেছে. এবারে ইউরোপের দিক থেকে.