0১২ই জুন প্যারিসে এক্সপো -২০২০ আয়োজন করার অধিকার পাওয়ার লড়াইতে থাইল্যান্ডের শহর অযোধ্যা (আউত্থায়া) ছিটকে যাওয়ার পরে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে রয়ে গিয়েছে ৪টি শহর. সংযুক্ত আরব আমীরশাহীর একটি বৃহত্তম শহর – দুবাই, ব্রাজিলের সাও পাওলো, তুরস্কের ইজমির ও রাশিয়ার ইকাতেরিনবুর্গ বিশ্ব প্রদর্শনী আয়োজনের অধিকার পাওয়ার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে.

শেষ ভোটাভুটির জন্য বাকী আছে আর কয়েকটা হাতে গোনা মাস. এই বছরের নভেম্বর মাসে প্যারিসে ১৬৬টি দেশের প্রতিনিধিরা নিজেদের ভোট দেবেন সেই শহরকে, যা তাদের পছন্দ হতে চলেছে.

“রেডিও রাশিয়ার” সঙ্গে বাক্যালাপের সময়ে ইকাতেরিনবুর্গ ২০২০ বিশ্ব প্রদর্শনী আয়োজক কমিটির ডেপুটি জেনারেল ডিরেক্টর সের্গেই কলুশেভ উল্লেখ করেছেন যে, প্রত্যেকটি শহর, যারা আবেদন করেছে, তাদের একটা শক্তিশালী দিক রয়েছে. কিন্তু তাও রাশিয়া, তাঁর মতে অন্যান্যদের চেয়ে বেশী করেই বিশ্ব প্রদর্শনী আয়োজনের অধিকার রাখে, তাই তিনি বলেছেন:

“রাশিয়া এই প্রদর্শনী নিয়ে বিশ্বজোড়া কাজকর্মে অনেক অবদান রেখেছে একেবারে এক্সপো শুরু হওয়া প্রথম বছর থেকেই. ইকাতেরিনবুর্গ নিয়ে যা বলা যেতে পারে, তা হল যে, এই শহর জিততে পারলে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য অনেক বড় সুযোগ করে দেবে, ব্যবসায়িক সহযোগিতার. ইকাতেরিনবুর্গে এই শহর আয়োজনের বিষয়ে জয়ী হতে পারলে, অনেক অর্থ বিনিয়োগ করা হবে এর পরিকাঠামো তৈরী করার জন্য, হোটেল ব্যবস্থাও তৈরী করা হবে, হবে প্রদর্শনী এলাকার পরিকাঠামো তৈরী. আর এটা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য খুব বড় ধরনের একটা গতি এনে দেবে. তারই মধ্যে ইজমির ও দুবাই ভাল রকম ভাবেই তৈরী হয়ে রয়েছে, তাদের ইতিমধ্যেই পরিকাঠামো তৈরী. এই কারণ, যেমন ইতিবাচক হতে পারে, তেমনই নেতিবাচক হতেও পারে”.

রাশিয়ার আয়োজক কমিটির প্রতিনিধির মতে বাকী প্রত্যেক আবেদক শহরই ভাল রকম করে বাছাই পর্বের অন্তিম অধ্যায়ের জন্য প্রস্তুত হয়েছে, আর প্রত্যেকেরই নিজেদের একটা করে বিশেষত্ব রয়েছে. সের্গেই কলুশেভ মনে করেছেন যে, ইজমির শহরের আবেদনের ব্যাপারটাও আগ্রহ জনক, তাই তিনি বলেছেন:

“আমরা অবশ্যই ইজমির শহরের প্রার্থী হওয়ার বিষয়কে বড় রকমের সম্মানের সঙ্গেই দেখছি, ওদের আয়োজক হওয়ার প্রতিযোগিতায় যোগদানের অভিজ্ঞতা খুবই সমৃদ্ধ, তারা এবারই প্রথম এই শহরে এক্সপো আয়োজনের জন্য আবেদন করে নি. আমার ইজমির শহরের আবেদনে প্রাথমিক ভাবে ভাল লেগেছে প্রদর্শনীর নাম – এক্সপো – স্বাস্থ্য. আমরা তুরস্কের আবেদন খুবই সম্মানের সঙ্গেই দেখছি আর তাদের সাফল্য কামনা করছি”.

ফাইনাল ভোটের জন্য আর চার মাসের অল্প বেশী দিন বাকী. পেছনে ফেলে আসা হয়েছে বহু শত প্রস্তাব, প্রদর্শনী আর ভাষণ. আর প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীই চায় নিজেদের জয়, তাই সের্গেই কলুশেভ বলেছেন:

“হতে পারে যে, সুযোগ সম্বন্ধে বলাটা এখন তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে. কিন্তু বাস্তবে আমরা এবারে শেষের সোজা দৌড়ের জায়গায় পৌঁছে গিয়েছি. আমি মনে করি যে, আমরা ভোট পাওয়ার জন্য সঠিক ভাবেই প্রচার অভিযান চালাচ্ছি, সমস্ত রকমের সম্ভাব্য পথ দিয়েই, যা এই প্রচার কাজের জন্য নেওয়া যেতে পারে. আর আমাদের সুযোগ খুব একটা খারাপ নয়. সুতরাং আমরা আশা নিয়েই নভেম্বর মাসের দিকে তাকিয়ে রয়েছি, যখন প্যারিসে ভোট হবে”.

একই সঙ্গে হঠাত্ করেই ইজমির শহরের আবেদন নিয়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে সেই ইজমির শহরেই. এক্সপো ২০২০ উপলক্ষে যে সমস্ত ভবন, প্রদর্শনীর জায়গা ও ব্যবসায়িক কেন্দ্র তৈরী করার পরিকল্পনা রয়েছে, তা ইজমির শহরের স্থপতিদেরই খুব নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরী করেছে. তুরস্কের স্থপতিদের সংগঠনের ইজমির শাখা ঘোষণা করেছে যে, ভিডিও ও ছবি, যা প্যারিসে দেখানো হয়েছে, তা শহরের সামগ্রিক স্থাপত্য পরিকল্পনার বিরোধী.

কয়েকদিন আগে তুরস্কের স্থপতিদের সংগঠনের ইজমির শাখার সভাপতি হাসান তোপাল বলেছেন যে, “সাধারণতঃ এক্সপো সেই সমস্ত শহর গুলিকে সুযোগ দিয়ে থাকে, যারা তা করে থাকে, যাতে নতুন করে উন্নতি করার ও সৃষ্টি করার বিষয়ে উত্সাহ পায়.আর তাই আমরা খুবই কট্টর ভাবে ইজমির শহরের ইনঝিরাল্টী এলাকায় এক্সপো করার বিরুদ্ধে, যা একটা সমুদ্র বেলা ভূমি ও প্রকৃতি সংরক্ষণের তালিকায় প্রথম সারিতে রাখা এলাকা. প্রদর্শনীর কমপ্লেক্স পরিকল্পনা করা হয়েছে সেই জায়গায়, যেটা শহরের মধ্যের বন কেটে পাওয়া যাবে, এটা যেমন এক্সপো ব্যাপারটার সংজ্ঞার বিরুদ্ধে, তেমনই ইজমির শহর এর জন্য যে বিষয় বেছে নিয়েছে অর্থাত্ “সকলের জন্য স্বাস্থ্য”, তারও বিরুদ্ধে”.

যদি তাঁর মত শহরের নাগরিকদের সমর্থন পায়, তবে প্যারিসে ভোটের আগে ইজমির শহরের সুযোগের উপরে তা খুবই প্রভাব ফেলতে পারে.