রাষ্ট্রপতি মুহাম্মেদ মুর্সিকে গদি ছাড়তে হবে – এই চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশে বিরোধী পক্ষ. হয় মঙ্গলবারে তিনি নিজের পদত্যাগ ঘোষণা করবেন, নয়তো প্রজাতন্ত্রে শুরু হবে সর্বজনীন অসহযোগ আন্দোলন. ৩০শে জুন, রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ গ্রহণের বর্ষপূর্তি দিনে কায়রো ও অন্যান্য শহরে বহু সংখ্যক প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে, যা ক্ষমতাসীন প্রশাসনের পক্ষ ও বিপক্ষের মধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষে পরিণত হয়েছে. ফলে ১০ জন নিহত ও বহু শত আহত হয়েছেন. বিশেষজ্ঞরা দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার ভয় পাচ্ছেন.

মুর্সির পক্ষ থেকে দেশে জাতীয় আলোচনার আহ্বান ও প্রথম রাষ্ট্রপতিত্বের বছরে করা ভুল স্বীকার এবং তা সংশোধনের আশ্বাস স্বত্ত্বেও বিরোধী পক্ষ জানিয়েছে যে, তারা কোন রকমের সমঝোতা করতে রাজী নয়. তারা ভয় দেখাচ্ছে যে, জনগনকে রুখে দাঁড়ানোয় উদ্বুদ্ধ করবে ও দুবছর আগের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করবে. সঠিক ভাবে বললে এটা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে, এই কথা রেডিও রাশিয়ার কাছে ঘোষণা করেছেন ইজিপ্টের সমাজতান্ত্রিক দলের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ শাআবান, তিনি বলেছেন:

“বাস্তবে এখন ২০১১ সালের ইজিপ্টের অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় ঢেউ এসেছে. সেই সময়ের ঘটনা “মুসলমান ভাইদের” সুযোগ করে দিয়েছিল ক্ষমতা দখল করার. ধারণা দিতে গেলে, বলা যেতে পারে যে, বিপ্লব শুরু করেছিল একদল আর তার ফল ভোগ করেছে অন্যেরা. এই ধরনের ঘটনা পরম্পরা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিভাবকত্বে দেশের সামরিক বাহিনীর সর্ব্বোচ্চ সভার সঙ্গে মুসলমান ভাইদের দলের চক্রান্তের ফলে. এই প্রশাসন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে নি ও সমস্যার সমাধানও করে নি, যে কারণে মুবারককে গদি হারাতে হয়েছিল. “মুসলমান ভাইয়েরা” দেশটাকেই ঐস্লামিক করে তুলতে চেয়েছিল, সমস্ত রকমের সরকারি দপ্তরে নিজেদের লোকদের বসিয়ে. কিন্তু তারা দেশকে অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে বের করে আনতে পারে নি ও সামাজিক এবং রাজনৈতিক সমস্যারও কোন সমাধান করতে পারে নি”.

যদিও মুহাম্মেদ মুর্সি আনুষ্ঠানিক ভাবে মুসলমান ভাইদের দল ছেড়েছেন, তবুও তাঁর নাম আগের মতই ঐস্লামিকদের সঙ্গে জোড়া হয়ে থাকে. সোমবারে কায়রোতে “মুসলমান ভাইদের” সদর দপ্তর বিরোধীদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিল. ঐস্লামিকদের মধ্যেই রয়েছে মুর্সির সবচেয়ে বেশী সংখ্যক সমর্থক. তারা বিরোধীদের বলে বিপ্লবের শত্রু, আর ক্ষমতাসীন প্রশাসনের সমালোচনার উত্তরে বলে যে, রাষ্ট্রপতি মাত্র এক বছর হল তাঁর আসনে বসেছেন – এই সময়ের মধ্যে পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণভাবে বদলে দেওয়া যেতে পারে না. কিন্তু সেই আশ্বাস যে সব কিছুই ঠিক হয়ে যাবে, তা আর ইজিপ্টের জনতা বিশ্বাস করছে না, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ণ ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক সের্গেই দেমিদেঙ্কো বলেছেন:

“ইজিপ্টে জটিল সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিশাল সংখ্যক সমস্যা, দেশের শতকরা পঞ্চাশ ভাগেরও বেশী লোক দারিদ্র সীমার নীচে বাস করে. এই নিয়ে অনেক সময় ধরে অনেক কথা তাদের বলা যায় যে, এক বছরে কিছু করা সম্ভব নয়, কিন্তু তারা নতুন প্রশাসনের কাছে নিজেদের পরিস্থিতি ভাল হওয়ার দাবীই করেছিল. আর নতুন প্রশাসন এটা করার উপযুক্তই নয়. যদি মুক্তি ও ন্যায় দলের পরিকল্পনা বিশ্লেষণ করা হয়, তাতে দেশের জনগনের জীবনের মান উন্নত করার মতো কিছুই নেই. এই পরিকল্পনা – পরিস্কার জনপ্রিয় হওয়ার কথায় ভর্তি”.

ফলে গত এক বছরে মুহাম্মেদ মুর্সি তাঁর নিজের পক্ষের লোকদেরই হারাতে শুরু করেছিলেন. বিরোধী যুব সম্প্রদায়ের “তামার্রুদ” (বিপ্লব) দলের পক্ষে সম্ভব হয়েছে অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের পদে পুনর্নির্বাচনের ঘোষণার স্বপক্ষে ২কোটি ২০লক্ষ স্বাক্ষর সংগ্রহ করা. এটা প্রায় দ্বিগুণ বেশী, যে পরিমান ভোট পেয়ে মুর্সি নির্বাচনে জিতেছিলেন. তাঁর জয় সেই সময়েও প্রামাণ্য ছিল না, এই কথা উল্লেখ করে মস্কোর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের প্রফেসর মারিনা সাপ্রোনভা বলেছেন:

“মূল সমস্যা হল যে, ইজিপ্টের বর্তমান রাষ্ট্রপতি মুহাম্মেদ মুর্সি একেবারে শুর থেকেই যথেষ্ট বেশী রকমের আস্থা ভোট পান নি, তাঁর নিজের নীতি চালানোর জন্যে. তিনি ভোটে সবচেয়ে কম ব্যবধানেই জয়ী হয়েছিলেন”.

এই ধরনের পরিস্থিতিতে খুবই ভিত্তি সঙ্গত মনে হয়েছে যে ইজিপ্টে রক্তক্ষয় চলতেই থাকবে, যদি না প্রশাসন ও বিরোধী পক্ষ আসন্ন সময়ে সমঝোতা করতে পারে.