দুর্যোগ বীমা কোম্পানীগুলির রোজগারে রীতিমতো ভাগ বসিয়েছে. ‘জেনেভা এ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্সিওরেন্স রিসার্চ’ সতর্ক করে দিচ্ছে – পৃথিবীতে ক্রমশঃই সেই সব অঞ্চলের উদ্ভব হবে, যেখানে প্রাকৃতিক ও পরিবেশগত দুর্যোগ বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিজেদের কাঁধে নিতে অপারগ হবে বীমা কোম্পানীগুলি.

মহাসাগরগুলির জলের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, সাগরের জলের ক্রমাগত উচ্চতা বৃদ্ধি ও হরেকরকম প্রাকৃতিক দুর্যোগে বীমা কোম্পানীগুলি এতটাই জেরবার হয়ে গেছে, যে বৃটেনের কিছু এলাকা ও আমেরিকার ফ্লোরিডা স্টেটকে বীমার অযোগ্য বলে গণ্য করা হচ্ছে.

‘এক্সপার্ট’ নামক রেটিং এজেন্সীর মুখ্য-অধিকর্তা পাভেল সেমিয়েভের মতে, বিগত বিশ বছর ধরেই বীমা কোম্পানীগুলির গাঁটে টান পড়ার প্রবণতা ক্রমঃবর্ধমান. –

বীমা কোম্পানীগুলির দুর্ভোগ বাড়ছে, কারণ, তাদের ক্রমশঃই বেশি করে গাঁটের কড়ি গুণে ফেরত দিতে হচ্ছে. এবং ইদানীং গোটা বিশ্বের বীমা বাণিজ্য মূল্যহার বাড়াচ্ছে, যেহেতু মানুষের জীবন ও চিকিত্সাবীমা, আর তাছাড়াও সম্পত্তি ও পরিকাঠামোর বীমা করার ঝুঁকি প্রাকৃতিক ওলটপালটের কারণে বেড়েই চলেছে.

বিভিন্ন কারণ দেখানো হচ্ছে, বিশেষতঃ পরিবেশবিদরা ঘনঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন. বীমা বাজারের মাতব্বররা বীমা কোম্পানীগুলির স্বার্থহানির জন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের বাড়াবাড়িকে ততটা দোষারোপ করছেন না, যতটা করছেন জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে. অর্থনৈতিক উন্নয়নের ফলে বৃহত্তর জনসাধারণ এমন সব বিপজ্জনক এলাকায় ঠাঁই নিচ্ছে, সেখানে নতুন নতুন অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো গড়ে উঠছে, যে ২০-৩০ বছর আগের তুলনায় আজকের দিনে বীমা কোম্পানীগুলোর জন্য ক্ষতির পরিমাণ কয়েকগুণ বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে.

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে, যে বীমা কোম্পানীগুলি গোটা এক একটা অঞ্চলকে বীমার অযোগ্য বলে ঘোষণা করার হুমকি দিচ্ছে. পাভেল সেমিয়েভের কথায়, ইতিমধ্যেই সমস্যাসঙ্কুল এলাকাগুলিতে সন্ত্রাস এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্য বীমা জমা নেওয়া হচ্ছে না. সম্ভবতঃ এমন সব এলাকার আবির্ভাব হবে, যেখানে প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য বীমা নেওয়া হবে না, অথবা বীমার মূল্যহার এতটাই উঁচু হবে, যে গ্রাহকদের তা পোষাবে না.

বীমা কোম্পানীগুলি জোরজারি করছে, যাতে রাষ্ট্র প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রতিরোধের খাতে আরও বেশি অর্থ ব্যয় করে ও সেইসঙ্গেই ব্যবসায়ীদের ও সাধারণ মানুষজনকে বিপজ্জনক এলাকায় ঘরবাড়ি ও শিল্প পরিকাঠামো পত্তন করা থেকে বিরত করে এমন সব আইন পাশ করিয়ে, যাতে কারো সুবিধা হবে না ঐ সব এলাকায় ঘাঁটি গাড়ায়. কারণ শেষমেষ, সরকারই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কু-পরিণতি দূর করার পেছনে হয় বাজেটবহির্ভুত কোনো তহবিল থেকে খরচা করে অথবা যে কোনো অন্য উপায়ে ক্ষয়ক্ষতি পূরণ করে.