অক্সিজেনের ঘাটতিতে মস্তিষ্কের কোষগুলির অসময়ে মৃত্যু রোধ করা সম্ভব. রাশিয়ার চিকিত্সকেরা অভূতপূর্ব চিকিত্সা পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন – রোগীকে কয়েকবার কিছুক্ষণের জন্য ব্যারো চেম্বারে ঢোকানোই যথেষ্ট, যেখানে বায়বীয় চাপ পাঁচ হাজার মিটার উচ্চতায় প্রকৃতির বায়বীয় চাপের সমান. এই পদ্ধতি যে কোনো স্নায়ু বাঁচানো ওষুধের থেকে বেশি কার্যকরী.

      বাড়তি চাপে পোস্ট কন্ডিশনিং নাম দেওয়া এই নতুন চিকিত্সা পদ্ধতি ভেবে বার করেছেন সেন্ট-পিটার্সবার্গের পাভলভ ফিজিওলজি ইনস্টিটিউটের গবেষকরা. শল্যপচারের পরে রোগীকে ব্যারো চেম্বারে পাঠিয়ে তারা মস্তিষ্কে অক্সিজেনের বুভুক্ষা ও রক্ত প্রবাহের অনিয়মের পরিণতি দূর করার প্রস্তাব দিচ্ছেন.

      মনে হতে পারে, উল্টো পথে হাঁটা ? একেবারেই নয় – আত্মপ্রত্যয়ী ফিজিওলজি ইনস্টিটিউটের উপ-অধিকর্তা মিখাইল সামোইলভ. –“নির্দিষ্ট পর্বে পরিমিত চাপবৃদ্ধি মস্তিষ্কের প্রতিরোধ শক্তি মজবুত করে. মস্তিষ্ক সম্ভাব্য আক্রমণ, যেমন করোনারি থ্রম্বোসিসের পুনরাবৃত্তি বা অক্সিজেনের অভাবের মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত হয়ে যায়. কিছু মাত্রায় অক্সিজেনের ঘাটতি শরীরযন্ত্রের পক্ষে এমনকি উপযোগী, তার প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে” – বলছেন গবেষক.

      যে সব ছুঁচোদের গবেষকরা পাঁচ কিলোমিটার উচ্চতায় পার্বত্য অঞ্চলে পাঠিয়েছিলেন, অল্পায়াসেই সব সমস্যা তারা অতিক্রম করতে পেরেছে. তিন পর্বে ব্যারো চেম্বারে যাওয়া প্রমাণ করেছে, যে প্রোটীনের সংশ্লেষকে সংঘবদ্ধ করে তা নিউরোনগুলির বিলুপ্তি রোধ করে.

     দেখা গেছে, যে পোস্ট কন্ডিশনিং শুধুমাত্র নিউরোনগুলিকেই রক্ষা করে না, আরও বাঁচায় হৃদপিন্ড, ফুসফুস ও রেটিনার কোষগুলিকেও, যেগুলি রক্ত চলাচলের অনিয়মতার কারণে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের ঘাটতিতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে.

     পরিমিত চাপ বৃদ্ধির নিরীক্ষা এখন করা হচ্ছে বানরদের উপর. মিখাইল সামোইলভ বলছেন, যে এই নিরীক্ষা দেখাবে, যে মানুষের উপর ব্যবহার করবার জন্য এই পদ্ধতিতে কি সংশোধন করা দরকার. তবে ইতিমধ্যেই এটা পরিষ্কার, যে সর্বাধুনিক যে কোনো ওষুধের তুলনায় পোস্ট কন্ডিশনিং বেশি কার্যকরী. ডঃ সামোইলভ বলছেন, যে খুব শীঘ্রই তাদের ল্যাবোরেটরির গবেষণা সম্পন্ন হবে.