“একলা রেঞ্জার” নামের সিনেমা এবারে মস্কোয় এসেছে. আমেরিকার অভিনেতা ও চিত্র পরিচালক জনি ডেপ এখানে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উত্সবের দিন গুলিতে আসাতে, তা স্থানীয় জনতার খুবই আগ্রহের উদ্রেক করেছে. হলিউডের তারকা এই উত্সবের বাইরে এক অনুষ্ঠানের কারণে এখানে এসেছেন. রাশিয়াতে সিনেমা হল গুলিতে “একলা রেঞ্জার” সিনেমা দেখানো শুরু হতে চলেছে ৪ঠা জুলাই, তাই ডেপ এসেছেন নিজের অভিনয় করা ছবির শুভ মহরত উপলক্ষে.

সাংবাদিক সম্মেলনে জনি ডেপ “একলা রেঞ্জার” সিনেমায় অভিনয়ের সময়ে সবচেয়ে বেশী মনে রাখার মতো ঘটনা বলেছে প্রকৃতির সঙ্গে মেশাকে – তিনি অভিনয় করেছেন কলোরাডো এলাকার ক্যানিয়ন ও প্রেইরি এলাকায়. তাই তিনি বলেছেন:

“আমি স্বীকার করতে বাধ্য: সেই বাস্তব ঘটনা যে, আমাকে আমেরিকার আদিবাসীদের সবচেয়ে পবিত্র এলাকায় যেতে দেওয়া হয়েছিল – এটা ছিল আমার জন্যে সবচেয়ে বেশী আনন্দের ও সম্মানের ঘটনা. মনে করি যে, সেখানে বাইরের কাউকে ঢুকতে দেওয়ার পর থেকে অনেক বছর কেটে গিয়েছিল, যখন আমাকে তারা এখানে যেতে দিয়েছে তার আগে পর্যন্ত. কিন্তু আমাদের তারা ভরসা করতে পেরেছিল, সমর্থন করেছিল, এটাই সুখের কথা”.

“একলা রেঞ্জার” – সেই একই সিনেমা কোম্পানীর ছবি, যারা আগে তুলেছিল “ক্যারিবিয়ান সমুদ্রের জলদস্যূ” সিনেমা ও যা দেখে বিশ্বে অনেকেই আনন্দ পেয়েছেন. মস্কো শহরে তারা সকলেই একসাথে এসেছেন. একই সঙ্গে এনেছেন আর্মি হাম্মেরকে, যিনি এই সিনেমাতে সেই রেঞ্জার বা সোজা কথায় বললে পুলিশের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন – সেই সব লোকের একজন, যারা উনবিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে বন্য পশ্চিমে চেষ্টা করেছিল শৃঙ্খলা বজায় রাখতে. সিনেমার ঘটনা ঠিক এই সময়েই ঘটেছে. রেঞ্জার – এক অল্প বয়সী চট করে উত্তেজিত হওয়া ও সরল মানুষ. আর তার মাথা গোটা রাখাই কঠিন হত, যদি না এক রেড ইন্ডিয়ানের সে সমর্তন পেত, যে ব্যক্তির ভূমিকায় অভিনয় করেছেন জনি ডেপ. তাঁর রেড ইন্ডিয়ান খুবই আজব রকমের আর একেবারেই পূর্বানুমান অযোগ্য, এমনকি ক্যারিবিয়নের জলদস্যূ ক্যাপ্টেন জ্যাক স্প্যারো তার তুলনায় সহজেই অনুমেয় ব্যক্তি, যদিও বলা যেতে পারে যে, দুটি সিনেমাতেই ভূমিকা গুলি খুবই কাছাকাছি.

রেড ইন্ডিয়ান টন্টো স্রেফ একটা গভীর নাটকীয় চরিত্র বলতে গেলে মুখে কথা ফুটবে না. সে বরং বলা যেতে পারে একটা হাস্যস্কর চরিত্র. তা সে যাই হোক না কেন, জনি ডেপ নিজের ভূমিকার বিষয়ে খুবই সিরিয়াস, তাই তিনি বলেছেন:

“এটা আমেরিকার আদিবাসীদের সঙ্গে আমাদের একটা আলাপচারিতা, যাদের প্রথম থেকেই বলা হয়েছে মানব সদৃশ জীব বলে – ঠিক ততদিন অবধি, যতদিন না কলম্বাস তাঁদের ইন্ডিয়ান বলেছিলেন. আর এটাও ঠিক যে, তাঁরা সত্যিই ছিলেন খুবই আশ্চর্য ইতিহাস ও সংস্কৃতির ধারক এক মানব সদৃশ জীব.তাঁদের সঙ্গে খুবই নিষ্ঠুর আচরণ করা হয়েছে শতাব্দী ধরেই. আর আমকে উত্সাহ জুগিয়েছে সেই ধারণা যে, আমি কোন এক রকম ভাবে সিনেমার মাধ্যমে সেই হিংসাকে, বিশ্বাসঘাতকতাকে একটু হলেও পাল্টাতে পারবো, যা তাঁদের সঙ্গে একসময়ে করা হয়েছিল”.

যদিও এই সিনেমার দর্শকদের অবশ্য এই সব প্রশ্ন খুবই কম উদ্বেলিত করবে. এই সিনেমা – স্রেফ মজার. তবে এই মজা খুবই গুণমান সম্পন্ন ও খুব ভাল করেই তোলা হয়েছে.