ভারত ও জাপান সক্রিয়ভাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিস্তার করছে. এর প্রমাণ হয়েছে মে মাসে টোকিও শহরে ভারত-জাপান শীর্ষ সম্মেলন. দুই দেশের কাছে আসা, তাদের নতুন “টোকিও – নিউ দিল্লী” নামের এক স্ট্র্যাটেজিক অক্ষ তৈরীর প্রচেষ্টার সঙ্গে যুক্ত. তার ওপরে ভারত মহাসাগর ও পূর্ব চিন সাগরের নিরাপত্তার সমস্যার দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে. আর একই সময়ে এটা সুযোগ করে দেবে ভারতের অবস্থানকে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় মজবুত করতে আর তারই সঙ্গে, জাপানের – দক্ষিণ এশিয়াতে, - এই রকম মনে করেছেন রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের ডেপুটি ডিরেক্টর সের্গেই লুজিয়ানিন.

সিঞ্জো আবে ও মনমোহন সিংহের সাক্ষাত্কার, যা টোকিও শহরে হয়েছে, তা কোন সন্দেহই নেই যে, শুধু “জাপান – ভারত” সম্পর্ক বিকাশে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে, বরং হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়াতে আঞ্চলিক কাঠামো গুলির নতুন করে ঢেলে সাজানোর মত বিষয়ে.

দেখাই যাচ্ছে যে, এই কাছাকাছি আসার পেছনে রয়েছে চিন বিরোধী উদ্দেশ্য, যা “স্বর্গের নীচের এই দেশের ক্রমোন্নতির” সঙ্গেই বৃদ্ধি পাচ্ছে. দুই পক্ষই এই পরিস্থিতিকে বোধহয়, খুব একটা লুকিয়ে রাখার চেষ্টাও করছে না, বিশেষত যখন দুই পক্ষের প্রত্যেকেরই চিনের সঙ্গে নিজেদের আলাদা করে ঝগড়া রয়েছে. দুই নেতার পক্ষ থেকে “স্ট্র্যাটেজিক ও বিশ্ব জোড়া সহযোগিতা” সম্বন্ধে ঘোষণা, “দক্ষিণের সমুদ্র পথে অবাধ জাহাজ চলাচল” বজায় রাখার অঙ্গীকার, সম্মিলিত ভাবে সামরিক নৌবহরের প্রশিক্ষণ, এই সবই, কোন সন্দেহ নেই যে, প্রত্যেক রাষ্ট্রের নিজের অবস্থানকে আরও মজবুত করেছে.

টোকিও শীর্ষ সম্মেলনের ফলাফল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অভিযোজনকে নির্দেশ করেছে. যদি আগে তা বিকশিত হয়েছে শুধু আর্থ- বাণিজ্য স্বার্থের কারণে, তবে বর্তমানে এই তালিকাতে যোগ হয়েছে বিশ্বজোড়া সমস্যা গুলিও. এটা – রাষ্ট্রসঙ্ঘের পরিকাঠামো সংশোধনের জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ, শান্তিপূর্ণ ভাবে পারমানবিক শক্তির ব্যবহার, পরিবেশ সংরক্ষণ, জ্বালানী সংক্রান্ত নিরাপত্তার প্রশ্ন ইত্যাদি. টোকিও দিল্লী মনোযোগ দিয়েছে আঞ্চলিক সমস্যা গুলিকে নিয়ে, অংশতঃ সামুদ্রিক সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্যও.

কিন্তু এই চিনের কারণই হয়েছে ভারত- জাপান সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার জন্য. ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের ঘোষণা যে, “ভারত জাপানের মধ্যে দেখতে পেয়েছে এক স্বাভাবিকও অপরিবর্তনীয় সহকর্মীকে, যাদের সঙ্গে একসাথে এশিয়াতে নিরাপত্তা রক্ষা করা সম্ভব”, তা খুব সম্ভবতঃ বেজিংয়ের ভাল লাগে নি. বহু চিনা বিশেষজ্ঞই ইতিমধ্যে উল্লেখ করেছেন যে, জাপান নিজেদের একটা “ছিঁচকে চোরের” মতো করে দেখাচ্ছে, যারা নাকি গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের কাছ থেকে “সেই রকমের সব বন্ধুকে দেশকে” চুরি করছে, যেমন, ভারত. প্রসঙ্গতঃ, ভারত- চিন বন্ধুত্বের বিষয়ে ভারতের সংবাদ মাধ্যমেও বেজিংয়ের জন্য প্রশংসার নয় এমন অনেক প্রবন্ধ ও মূল্যায়ণ বের হয়েছে. দেখা যাচ্ছে শুধু একটাই, যে এই ধরনের দিল্লী ও টোকিও কাছে আসার ফলে, আর যা হচ্ছে বেজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক টানটান হওয়ার পরিস্থিতিতে, তাতে চিন সময়ের সঙ্গে একটা শত্রু মনোভাবাপন্ন জাপান – ভারত জোট পেতে চলেছে.