রাশিয়ার মানবাধিকার কর্মীরা সিআইএ সংস্থার প্রাক্তন কর্মীকে মুক্তিযোদ্ধা বলে মেনে নিয়ে, তাকে রক্ষা করতে বলেছে. বুধবারে জানা গিয়েছে যে, রাশিয়ার মানবাধিকার রক্ষা সভার সদস্যরা দেশের নেতৃত্বের কাছে স্নোডেনকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার জন্য উদ্যোগ নিয়েছে.

আমেরিকার বিশেষ বাহিনীর ২৯ বছরের তথ্য ফাঁস করে দেওয়া এডওয়ার্ড স্নোডেন ইতিমধ্যেই চার দিন হল মস্কোর শেরেমেতিয়েভো বিমান বন্দরের ট্রানজিট এলাকায় রয়েছে. এর আগে এই খবর সমর্থন করেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন. এই প্রসঙ্গে দেশের প্রধান বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, স্নোডেন মস্কো এসেছে এক ট্রানজিটের যাত্রী হিসাবে আর রাশিয়ার সীমান্ত পারও হয় নি. তাই রাশিয়ার প্রতি সমস্ত রকমের দোষ দেওয়ার কোনও ভিত্তি নেই.

তা স্বত্ত্বেও যখন জানা গিয়েছিল যে, স্নোডেন হংকং থেকে মস্কো এসেছে, তখন থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন রাশিয়াকে পলাতক এই লোককে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য দাবীর বন্যা বইয়ে দিয়েছিল. “এটা অর্থহীন ব্যাপার” – উল্লেখ করে রাশিয়ার অ্যাডভোকেট, আইন বিদ্যায় প্রফেসর ও রুশ প্রাকৃতিক বিজ্ঞান একাডেমীর সদস্য- প্রতিনিধি ইয়ানিস ইউকশা বলেছেন:

“এই প্রশ্নে কয়েকটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে. এক নম্বর বিষয় হল: আমাদের, রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই ধরনের লোককে দেওয়া নিয়ে কোনও চুক্তি নেই. দ্বিতীয়তঃ: আমাদের পক্ষে সেই লোককে দেওয়া কঠিন, যে রাশিয়ায় আইনত ভাবে নেই, কারণ ট্রানজিট এলাকা রাশিয়ার এক্তিয়ারের বাইরে. প্রসঙ্গতঃ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেরাই প্রায়ই রাশিয়া সম্বন্ধে গঠন মূলক নয়, এমন অবস্থান গ্রহণ করে থাকে, যখন মানবাধিকারের প্রশ্নের উদয় হয়. আমরা দেখেছি রাশিয়ার বেশ কিছু নাগরিককে নিয়ে দৃষ্টান্ত মূলক উল্টো পথে চলার বিষয়ে. এই সব কিছুকে বিচারের মধ্যে এনে ও সেই লোক, যে কোন রকমের অপরাধ আমাদের দেশের মাটিতে করে নি, অথচ যাকে অনুসরণ করা হচ্ছে আমেরিকা রাষ্ট্রের অন্য কোন এক ধারণার ভিত্তিতে, তার প্রতি মানবিক থাকার জন্য, আমি মনে করি যে, এই ধরনের লোককে আমেরিকা রাষ্ট্রের হাতে হস্তান্তর করার কোন শর্তেই দরকার নেই. তার রক্ষার জন্য সম্ভাবনাই বরং তৈরী করে দেওয়া দরকার”.

জুন মাসের শেষে এডওয়ার্ড স্নোডেন গোপনীয় তথ্য সেই বিষয়ে প্রকাশ করেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ও আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা টেলিফোনে আড়ি পাতে আর গ্রাহকদের ই-মেইল খুলে পড়ে, যারা অতি পরিচিত সমস্ত সাইট ব্যবহার করে থাকে, তাদের. মার্কিন সরকার স্নোডেনের উপরে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ এনেছে. তার আজীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড হতে পারে. “এডওয়ার্ড স্নোডেন নিজের কাজ-কারবার দিয়ে, প্রাথমিক ভাবে মানবাধিকার রক্ষা করেছে”, - এই রকম মনে করে মানবাধিকার নিয়ে রাষ্ট্রপতির সভার সদস্য আলেকজান্ডার ব্রোদ বলেছেন:

“স্নোডেন নিজেকে এক মানবাধিকার রক্ষা কর্মী বলেছে. সে সেই সমস্ত প্রশ্ন তুলেছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও অন্যান্য দেশের লোকদের উদ্বিগ্ন করে. সে বলেছে যে, ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অধিকার নিয়ে, সর্ব ব্যাপী অনুসরণের বিরুদ্ধাচরণ করে, আড়িপাতা, উঁকি মেরে দেখা নিয়ে বিরোধ করে. অর্থাত্ বাস্তবে সে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিজের ও অন্যান্য নাগরিকদের স্বার্থ নিয়েই আইনের অবস্থান থেকে বক্তব্য রেখেছে. আর এই প্রশ্ন অন্যান্য দেশের নাগরিকদেরও স্পর্শ করে. এখন সে এক জটিল অবস্থার মধ্যে রয়েছে: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, তাকে অনুসরণ করা হচ্ছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশকেও আহ্বান করেছে, তাকে আশ্রয় না দেওয়ার জন্য. তারই মধ্যে সেই সমস্যা, যা সে তুলেছে, তা নিয়ে চুপ করে থাকা যায় না, আন্তর্জাতিক ভাবে আইন সংক্রান্ত ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে গুপ্তচর বাহিনীর হাত থেকে মানুষের জীবন ও অধিকারকে রক্ষা করা সম্ভব হয়. আমি মনে করি যে, রাশিয়ার উচিত্ হবে স্নোডেনের নিরাপত্তা রক্ষা করার”.

রাশিয়ার মানবাধিকার রক্ষা কর্মীরা রাশিয়ার নেতৃত্বকে আহ্বান করেছে এডওয়ার্ড স্নোডেনকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার জন্য, যদি তার কাছ থেকে এই ধরনের আবেদন আসে, তাহলে.