কাতার রাষ্ট্রে হওয়া আরও একটি তথাকথিত “সিরিয়ার মিত্র” দেশের বৈঠক, আর ঠিক করে বলা হলে – সিরিয়ার জঙ্গীদের বৈঠক, সিরিয়া ও কাতার রাষ্ট্র থেকে অনেক দূরের দেশ গুলির পুলিশ, গোয়েন্দা ও নানা রকমের সামরিক বাহিনীর স্নায়ু বৈকল্যের কারণ হয়েছে. সিরিয়ার যুদ্ধে রত বিরোধীদের মিত্রদের সিদ্ধান্ত যে, জঙ্গীদের লোকবল, অর্থ ও সামরিক অস্ত্র রসদ দিয়ে সাহায্য করা হবে, তা এই ভাবেই মধ্য এশিয়ার দেশ গুলিতে উদ্বেগের কারণ হয়েছে.

কিরগিজিয়ার মসজিদ গুলিতে সিরিয়ার যুদ্ধে অংশ নেওয়ার জন্য যুব সমাজকে দলে ভেড়ানো হচ্ছে মার্কা শোনা কথা, ইতিমধ্যেই স্থানীয় সরকারি কাঠামো গুলিকে কোন রকমের অগ্রিম জানানি দেওয়া ছাড়াই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গুলিতে খোঁজের কারণ হয়েছে. একই ধরনের কাজ হচ্ছে তাজিকিস্তানেও.

মধ্য এশিয়া নিয়ে বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই গ্রোজিন এই বিষয়ে “রেডিও রাশিয়াকে” বলেছেন:

“মধ্য এশিয়া থেকে কতজন যোদ্ধা সিরিয়াতে জেহাদ ঘোষণাকারীদের দলে লড়াই করছে, তা বলা কঠিন. এখন অবধি যে মূল্যায়ণ রয়েছে, তা অনুযায়ী তাদের সংখ্যা এখন একশর নীচে, খুব বেশী হলে একশ জনের বেশী. আরব দেশ গুলি থেকে আসা সহস্রাধিক সেনাদের সঙ্গে তুলনায় খুবই কম. কিন্তু আন্তর্জাতিক জেহাদ নেটওয়ার্কের বিদেশী প্রতিনিধিরা এখন সক্রিয়ভাবে যেখানেই তারা পারছে, সর্বত্র নতুন জঙ্গী যোগাড় করার চেষ্টা করছে, তার মধ্যে এই এলাকাতেও. সিরিয়াতে এই সব জঙ্গীদের এখন খুবই সমস্যা হয়েছে. সিরিয়ার ফৌজ জঙ্গীদের, যারা অন্য দেশ থেকে এখানে আসছে, তাদের পিষে দিচ্ছে, নতুন করে দলে বাড়ার আগেই. তাই জেহাদীদের কাঠামো ও তাদের অভিভাবকরা নিজেদের ক্ষতি পোষাতে চাইছে নতুন কেনা জঙ্গী দিয়ে. তাদের মধ্যে সকলেই সিরিয়ার ফৌজের সঙ্গে যুদ্ধে মারা যাবে না. যারা বেঁচে থাকবে, তারা নিজেদের দেশেই ফিরবে, সন্ত্রাস ও যুদ্ধের অভিজ্ঞতায় পুষ্ট হয়ে. এই সব লোকেরা, যারা হত্যার জন্য অর্থ পেতে অভ্যস্ত হয়ে যাবে, তারা কি চাইবে শান্তির পথে শ্রম করে অর্থ অর্জন করতে? সন্দেহ হয়. এই ধরনের লোকরা নিজেদের মাতৃভূমির জন্যই সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে”.

মধ্য এশিয়ার দেশ গুলিতে এখন সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে তাদের দেশের নাগরিকদের বিদেশীদের দ্বারা দলে ভেড়ানো বন্ধ করার জন্যে. আর স্থানীয় ঐস্লামিক বিজ্ঞানীরা ধর্ম বিশ্বাসীদের কাছে ব্যাখ্যা করছেন যে, সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা এটা জেহাদ নয়, বরং রাজনৈতিক বিরোধ প্রকাশ করা, যা অন্য দেশের নাগরিকদের সঙ্গে কোন সম্পর্ক রাখে না.

মধ্য এশিয়ার দেশ গুলির প্রশাসন কি বাড়িয়ে বলছে না? কারণ জানাই তো রয়েছে যে, বেশ কিছু মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের প্রশাসন খুবই শান্ত ভাবে তাদের এলাকায় জঙ্গীদের দলে ভেড়ানো ব্যাপারটাকে দেখছে.

এই প্রসঙ্গে সমীক্ষক ইভগেনি এরমোলায়েভ বলেছেন:

“আজ খুব ভাল করেই অস্ত্র রসদ পাওয়া জেহাদী সামরিক বাহিনীর অস্তিত্ব নিয়ে কথা বলা যেতে পারে, যারা নিয়মিত ভাবে বিভিন্ন দেশ থেকে নতুন লোক দিয়ে ভরে উঠছে আর খুবই চলমান. এই সামরিক বাহিনী শুধু নিজেদের কম্যান্ডারদের আদেশ শোনে. আর তারা নিজেরাই ঠিক করে, কাকে শত্রু বলা হবে, আর কাকে – বন্ধু”.

নিজেদের এলাকা থেকে যুব সমাজকে বাইরের দেশে যুদ্ধ করতে পাঠাতে যারা রাজী হয়েছে, সেই সব দেশের যুক্তি সব মিলিয়ে বোধগম্য. কারণ যত বেশী করে অশান্ত ও ঠিক করে জীবনে দাঁড়াতে না পারা যুবক দেশ ছেড়ে চলে যাবে, তত কমই তাদের সংখ্যা থাকবে জন্ম ভূমিতে. কিন্তু এই সহজ সমাধান – অল্প সময়ের ব্যাপার. আর এটা এক সময়ে সেই সব দেশ টের পেয়েছিল, যেখান থেকে নানা রকমের তহবিল যুদ্ধে অর্থ দান করেছিল, যা করা হয়েছিল, আফগানিস্তানে, সেই তথাকথিত মোজাহেদ জঙ্গীদের ক্ষেত্রে, যারা আফগানিস্তানের কাবুলের সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল. এটা ঠিক যে, সেখান থেকে সকলে আর ফিরে আসে নি. তবে যারা ফিরে এসেছিল, তারা নিজেদের দেশের স্থানীয় একই রকমের চিন্তাধারা অনুযায়ী লোকদের সঙ্গে নিয়ে নিজেদের দেশের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার দিকেই অস্ত্রের মুখ ঘুরিয়ে ধরেছিল. বলা যেতে পারে যে, একটা অন্ধকারাচ্ছন কৃতজ্ঞতাহীন মনোভাবকেই প্রতিফলিত করেছিল. নব্বইয়ের দশকে পারস্য উপসাগরীয় এলাকার রাজতন্ত্র গুলি “লোহার মুষ্টি” দিয়ে নিজেদের দেশে জেহাদী গোপন বিপ্লবীদের দুরমুশ করেছিল. কিন্তু এখন, মনে হচ্ছে যে, ইতিহাস আবার করে পুনরাবৃত্তি করছে. আর সিরিয়াতে পরিস্থিতি কোন দিকে যেতে চলেছে, তার উপর নির্ভর না করেই, সেই সমস্ত দেশ, যেখান থেকে ভাড়াটে সেনারা দল বেঁধে যাচ্ছে, তারা অবশ্যম্ভাবী ভাবেই আসন্ন সময়ে এই সমস্যার সম্মুখীণ হতে চলেছে.