রাশিয়া আগামী বছর গুলিতে নিরাপদ ও সর্বাধুনিক রিয়্যাক্টর ব্যবহার করে পারমানবিক বিদ্যুত শক্তি উত্পাদন বৃদ্ধি করতে চলেছে. এই বিষয়ে মস্কো শহরে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধান ইউকিও আমানোর সঙ্গে আলোচনার সময়ে.

পারমানবিক শক্তি প্রযুক্তি বিষয়ে বিশ্বের সর্ব্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধানের রাশিয়া সফরের কারণ হয়েছে ২৭শে জুন থেকে সেন্ট পিটার্সবার্গে শুরু হতে যাওয়া একবিংশ শতকে পারমানবিক শক্তি নামের আন্তর্জাতিক সম্মেলন. আলোচনার সময়ে ভ্লাদিমির পুতিন ইউকিও আমানোকে তাঁর এই সংস্থায় নেতৃত্ব দানের সময়ে বিশেষ সাফল্যের জন্য এবং দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হওয়ার জন্যও অভিনন্দন জানিয়েছেন. তিনি সংস্থার সঙ্গে রাশিয়ার গঠন মূলক কাজের সম্পর্কের কথা বিশেষ করে উল্লেখ করে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, রাশিয়া এই সংস্থার সঙ্গে এর সৃষ্টি হওয়ার সময় অর্থাত্ ১৯৫৭ সাল থেকেই রয়েছে. রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছেন যে, আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা পারমানবিক শক্তি প্রযুক্তি ক্ষেত্রের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা এবং ইউকিও আমানোকে দেশের পারমানবিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিকাশের পরিকল্পনা সম্বন্ধে জানিয়েছেন. এই প্রসঙ্গে পুতিন বলেছেন:

“আমরা আসন্ন বছর গুলিতে পারমানবিক ভাবে শক্তি উত্পাদন বৃদ্ধি করতে চলেছি, প্রসঙ্গতঃ সবচেয়ে আধুনিক ও নিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবহার করেই, আমি বলতে চাই ভেভেএএর রিয়্যাক্টরের কথা, যা আপনি নিজেই জানেন. এই সবই আমরা সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে করছি, যা আমরা বলে থাকি ফুকুসিমা পরবর্তী বলে, যেখানে পারমানবিক শক্তির সবচেয়ে বেশী নিরাপদ ব্যবহারের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়েছে. আমরা খুবই আশা করবো আমাদের সহযোগিতা চালু থাকা নিয়ে ও তৈরী রয়েছি এই প্রতিনিধিত্ব মূলক ও সম্মানীয় আন্তর্জাতিক সংস্থার কাজে নিজেদের অবদান রাখার”.

ইউকিও আমানো নিজের তরফ থেকে মন্তব্য করেছেন যে, রাশিয়া – সংস্থার একটি মুখ্য সহকর্মী দেশ. তিনি ঘোষণা করেছেন যে, সেন্ট পিটার্সবার্গের সম্মেলনে খুবই ভাল সম্ভাবনা তৈরী হবে পারমানবিক শক্তির বিকাশের ভবিষ্যত ও ব্যবস্থা নিয়ে, যা এর উন্নয়নের জন্য ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য প্রয়োজন. তিনি এই সূত্রে বলেছেন:

“আমি মনে করি যে, সেন্ট পিটার্সবার্গের আন্তর্জাতিক সম্মেলন খুবই সময়মতো হতে চলেছে, কারণ ফুকুসিমা- ১ পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের বিপর্যয়ের ঘটনার পরে দুই বছরের বেশী সময় কেটে গিয়েছে. তার ওপরে আমরা স্বীকার করি যে, আপনাদের দেশ পারমানবিক প্রযুক্তির বিকাশের ক্ষেত্রে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা নিয়ে থাকে”.

ক্রেমলিনের উত্স থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউকিও আমানো শুধু রাশিয়ার সঙ্গে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি সংস্থার সহযোগিতার কথা নিয়েই আলোচনা করেন নি, বরং তাঁরা আরও আলোচনা করেছেন সেই সমস্ত সমস্যা নিয়েও, যা গণহত্যার অস্ত্র প্রসার রোধের ক্ষেত্রে হয়েছে. সবচেয়ে বেদনা দায়ক বিন্দু এই ক্ষেত্রে হয়েছে - উত্তর কোরিয়া ও ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনার সমস্যা, যা পশ্চিমের দেশ গুলিকে উদ্বিগ্ন করেছে ও আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থাকেও করেছে.

মস্কো সফরের আগে ইউকিও আমানো ঘোষণা করেছেন যে, তাঁর সংস্থা ইরানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রতি আগ্রহ নিয়ে লক্ষ্য করেছে. তিনি আশ্বাস দিয়েছেন যে, সংস্থা এই দেশের সঙ্গে গঠন মূলক আলোচনার জন্য প্রস্তুত ও নির্দিষ্ট ফল অর্জনের দিকে লক্ষ্য স্থির করেছে. প্রসঙ্গতঃ, ইরানের পারমানবিক সক্রিয়তার উপরে সংস্থার পক্ষ থেকে ফলপ্রসূ নিয়ন্ত্রণ থাকা উচিত্ হবে, যাতে তার শান্তিপূর্ণ চরিত্র সম্বন্ধে নিঃসন্দেহ হওয়া যায়. উত্তর কোরিয়া সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল যে, আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সদস্য দেশ গুলি কাজ করছে এই দেশকে আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসার জন্য, যদিও এই সহকর্মী দেশটি মোটেও সহজ নয়. মস্কোর ইরান ও উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে অবস্থান খুব ভাল করেই জানা রয়েছে. সেই নীতি অনুযায়ী নতুন করে পারমানবিক অস্ত্র আছে এমন দেশের উদয় হওয়াকে সমর্থন করা হয় না. কিন্তু স্বীকার করে যে, প্রত্যেক সার্বভৌম দেশেরই অধিকার রয়েছে নিজেদের দেশে শান্তি পূর্ণ কারণে পারমানবিক শক্তি বিকাশের.