আজ আন্তর্জাতিক মাদকাসক্তি মোকাবিলা দিবস পালিত হচ্ছে. এই দিবস সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভা নিয়েছিল ১৯৮৭ সালে.

আধুনিক মানুষ একটি সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অসুখ নিজেই নিজের অর্থ দিয়ে কেনে. মাদকাসক্তি নামের অসুখকে মনে করা হয় “একবিংশ শতকের প্লেগ” বলে. আর জ্বালানী শক্তির রসদ বাজারের সঙ্গে মাদক বাজারের কারবারের তুলনা করা চলতে পারে – বছরে প্রায় ৫০ থেকে ৮০ হাজার কোটি ডলারের সমান. রাষ্ট্রগুলির পক্ষ থেকে মাদক পাচার ও মাদকাসক্ত মানুষের চিকিত্সার জন্য খরচের পরিমান এর তিন গুণ. এই ক্ষেত্রে আবার মোট অসুস্থ লোকের সংখ্যা গণনা করাও সম্ভব নয় – বেশীর ভাগই নিজেদের মাদকাসক্ত বলেই মনে করেন না, আর অন্যরাও কেউ রোগের চিকিত্সা করতে চান না, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার পররাষ্ট্র ও সামরিক রাজনীতি সভার সদস্য আলেকজান্ডার মিখাইলভ বলেছেন:

“রাশিয়াতে মাদক সংক্রান্ত পরিস্থিতি বিশ্বের পরিস্থিতির সঙ্গেই তুলনীয়. রাষ্ট্রসঙ্ঘের তথ্য অনুযায়ী প্রত্যেক বছরে মাদকাসক্ত লোকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া, যারা এই ভয়ঙ্কর রেগে আক্রান্ত হচ্ছে, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের মতই. আজ রাশিয়াতে হিসাবের মধ্যে রয়েছে প্রায় ছয় লক্ষ মানুষ. এরা সেই সব লোক, যারা হয় অসুস্থ, অথবা এই রোগে অসুস্থ হয়েছিল. কিন্তু এটা হল খোলা অংশ টুকু. যাতে লুকান অংশ সম্বন্ধে ধারণা করা যায়, তার জন্য এই সংখ্যাকে পাঁচ দিয়ে গুন করব. আমাদের দেশে যে মাদকাসক্তি রয়েছে. – এটা হল বাস্তবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিণাম, যার মানে হল একটাই: মানুষকে কোন রকমের কামান, বাহিনী বা অস্ত্র ছাড়াই তাদেরই নিজেদের অর্থ দিয়ে ধ্বংস করা”.

রাশিয়াতে সক্রিয়ভাবে শিক্ষা বিস্তারের কাজ চলছে: বিশেষজ্ঞরা স্কুলে যাচ্ছেন, ছাত্রদের সঙ্গে দেখা করছেন আর তাদের সঙ্গে মাদকের খারাপ নিয়ে আলোচনাও করছেন. প্রধান শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে সেই কিশোরদের প্রতিই. পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঝুঁকির দলে রয়েছে অল্প বয়সী লোকরা, যাদের বয়স ১৬-১৭. তাদের সঙ্গে চিকিত্সক ও মনস্তত্ববিদরা কাজ করছেন, সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে সামাজিক বিজ্ঞাপন, আর এমনকি রক-ফেস্টিভ্যাল ও কনসার্টেরও আয়োজন করা হচ্ছে, যেখানে সুস্থ জীবন যাপন নিয়ে প্রচার করা হচ্ছে.

কিন্তু মাদকাসক্তির সঙ্গে আরও ফলপ্রসূ লড়াইয়ের জন্য প্রয়োজন আন্তর্জাতিক ভাবে শক্তি প্রয়োগের, এই কথা বলেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ পরিষেবার মাদকাসক্তি নিরোধ ক্ষেত্রে আন্তর্বিভাগীয় সহযোগিতা দপ্তরের প্রধান ভিয়াচেস্লাভ বাতুরিন, তিনি যোগ করেছেন:

“যেমন আন্তর্জাতিক সমাজে, তেমনই আমাদের দেশের এলাকায় মাদকের প্রসার রোধের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আমাদের পরিষেবার কাজকর্মের দিকের একটি. এখানে বলা দরকার যে, রাশিয়া বিশ্বের মঞ্চে যথেষ্ট মজবুত জায়গা ধরে রেখেছে. এই ব্যাপারটা স্বীকার করার প্রমাণ হল যে, আমাদের দেশে এই বছরের জুন মাসে আন্তর্জাতিক আইন রক্ষা বিভাগীয় তিরিশতম জয়ন্তী বর্ষের সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে, যা বেআইনি ভাবে মাদকের কারবারের মোকাবিলা করে থাকে. তাতে অংশ নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন. আর তিনি বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়া তৈরী আছে বিপুল ভাবে মাদক দ্রব্যের প্রসারের বিরুদ্ধে সব রকম ভাবে বিশ্বের সমস্ত দেশের সঙ্গেই সহযোগিতা করার জন্য”.

বিশ্বের দুটি বৃহত্তম মাদক উত্পাদক – এটা আফগানিস্তান ও কলম্বিয়া, এরা উত্পাদন করে থাকে আফিম সংক্রান্ত ও কোকেইন সংক্রান্ত মাদক দ্রব্য. রাষ্ট্রসঙ্ঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী সবচেয়ে নিয়মিত ব্যবহার করা হয়ে থাকে মারিজুয়ানা, তার পরে রয়েছে রাসায়নিক মাদক দ্রব্য. তার থেকে কিছু কম সংখ্যার মানুষ কোকেইন, আফিম ও হেরোইন আসক্ত. শুধু সরকারি তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে প্রায় ২৩ কোটি মানুষ মাদকাসক্তি থেকে ভুগছে. বাস্তবে তার সংখ্যা আরও অনেক গুন বেশী, অর্থাত্ মাদক মাফিয়ার লোকরা নিজেদের কাজের ক্ষেত্রকে খুবই প্রসারিত করে ফেলেছে. তাই “তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের” সঙ্গে তুলনাকে মনে হয় না বাড়িয়ে বলা বলে.