সিআইএ সংস্থার প্রাক্তন কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেন কোথায় আছে কেউ জানে না. এর আগে জানানো হয়েছিল যে, স্নোডেন হংকং থেকে উড়ে গিয়েছে ও ট্রানজিটে মস্কোতে রয়েছে. সেখানে সে সর্বত্র উপস্থিত বিশ্ব সংবাদ মাধ্যমের নজর থেকে হারিয়ে গিয়েছে. তার চলাফেরার খবর খুবই পরস্পর বিরোধী. একটাই, যা প্রমাণিত হয়েছে – ইকোয়েডর এডওয়ার্ড স্নোডেন যে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছে, সেই বিষয়ে ইতিবাচক উত্তর দিয়েছে. কিন্তু এই পলাতক এজেন্ট কি এই দেশকে বেছে নেবে? অথবা তার আরও অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা রয়েছে? রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা বেশী করেই দ্বিতীয় উত্তরকেই বেছে নিয়েছেন.

সিআইএ সংস্থার প্রাক্তন কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেন রাশিয়ার সীমান্ত পার হয় নি. এই রকমের ঘোষণা ২৫শে জুন করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ. মস্কো শহরে স্নোডেন শুধু শেরেমেতিয়েভো বিমানবন্দরের ট্রানজিট এলাকাতেই থাকতে পারেন, যেখানে সে হংকং থেকে উড়ে এসেছে. এই খবরই রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সমর্থন করেছেন ও বলেছেন:

“আমরা কোন রকমের স্পর্শ মিস্টার স্নোডেন অথবা তার আমেরিকার আইন বিভাগের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে রাখি না, তার সারা পৃথিবীতে যাওয়া আসা নিয়েও নয়. সে নিজেই নিজের যাতায়াতের রাস্তা বেছে নিয়েছে. আর সে রাশিয়ার সীমান্ত পার হয় নি. আমরা মনে করি যে, রাশিয়ার পক্ষকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইন লঙ্ঘণ করা নিয়ে অভিযোগের চেষ্টা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়, যাকে প্রায় বলা হয়েছে ষড়যন্ত্র বলে, আর তার সঙ্গে আবার আমাদের উদ্দেশ্য করে হুমকি দেওয়া হয়েছে. কোন রকমের আইন সম্মত ভিত্তি আমেরিকার পদস্থ কর্মীদের এই ক্ষেত্রে এই রকমের ব্যবহারের জন্য থাকতে পারে না. আর এটার থেকেই আমরা আমাদের বক্তব্য প্রকাশ করেছি”.

সিআইএ ও জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থার ২৯ বছর বয়সের প্রাক্তন কর্মী জুন মাসের শুরুতে সংবাদ মাধ্যমে গোপনীয় খবর ফাঁস করে দিয়েছে. তার মোদ্দা কথা হল যে, আমেরিকার বিশেষ বাহিনী গ্রাহকদের টেলিফোনে কথাবার্তায় আড়ি পাততে পারে ও ইন্টারনেটের ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত চিঠি পত্র পড়তে পারে. প্রসঙ্গতঃ, এটা শুধু আমেরিকার নাগরিকদেরই নয়, বরং অন্যান্য দেশের নাগরিকদেরও. স্নোডেন গোপনীয় দলিল দেওয়ার সময়ে যেমন বলেছে: আমি এটা হতে দিতে পারি না যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ব্যক্তিগত জীবনকে ধ্বংস করে দিয়েছে, ইন্টারনেটে স্বাধীনতাকেও করেছে গোপনীয় বিশাল গুপ্তচর বৃত্তির যন্ত্র দিয়ে.

বোঝাই যাচ্ছে যে, হংকংয়ে সেই সময়ে থেকে, স্নোডেন যে সব দলিল প্রকাশ করেছে, সেই মুহূর্তের পর থেকে আমেরিকার গোয়েন্দা বিভাগের পক্ষ থেকে তার উপরে শিকার শুরু হয়েছে. সরকার ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে, যে মুহূর্তে সে আমেরিকাতে ফিরবে – তার জন্য বহু দিনের জন্য কারাদণ্ড অপেক্ষা করছে. তাই এই আমেরিকার ব্যক্তির একটাই উপায় রয়েছে – পালিয়ে যাওয়া. কিন্তু কথা হল – সেটা কোথায়?

প্রাক্তন সোভিয়েত দেশের গুপ্তচর সংস্থা কেজিবির কর্নেল সের্গেই শেস্তভ মনে করেন যে, আজ মনে তো হয় না যে, কেউ বলতে পারবে, যে, এর পরে কোন দেশে স্নোডেন গিয়ে পৌঁছবে. প্রসঙ্গতঃ, এই বিষয়ে এমনকি স্নোডেন নিজেও না জানতে পারে, তাই তিনি মন্তব্য করে বলেছেন:

“তাকে লুকিয়ে রাখার যে ব্যবস্থা- তা একেবারেই পূর্বানুমান যোগ্য নয়. কিন্তু সেই সব শোরগোল তোলা দেশ, যাদের নাম করা হয়েছে, সেখানেই তার যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে কম. একটা সময় দরকার, যাতে শুয়ে বসে সময় কাটানো যেতে পারে. এই পরিস্থিতিতে হুড়োহুড়ি করে সময় কাটানো ঠিক নয়. আর কোথায় সে চুপ করে বসে রয়েছে – এটাও প্রশ্নের বিষয়. সকলেই কেন জানি না বিমান পরিবহনের উপরে নজর রেখেছে, কিন্তু চলাফেরা করার পথ অসংখ্য”.

বেশীর ভাগ বিশেষজ্ঞই এই বিষয়ে একমত যে, আগামী দিন গুলিতে স্নোডেন খুব সম্ভবতঃ, তথ্য প্রচারের নজর থেকে মুছে যাবে. আর তারপরে, যখন তার কাজকর্ম নিয়ে শোরগোল কিছুটা স্তিমিত হবে – তার দেখা মিলবে একেবারেই আচমকা কোনও জায়গায়.