২০১৪ সালের শীত অলিম্পিকে ইতিহাসে প্রথমবার উন্মুক্ত মহাকাশ থেকে ঘুরে আসা মশাল দিয়ে ষ্টেডিয়ামের মূল মশাল জ্বালানো হতে চলেছে.

রাশিয়ার মহাকাশ বিজ্ঞান নিজেদের রেকর্ডের তালিকায় বহু গুণ যোগ করেছে. বিশ্বের প্রথম উপগ্রহ, মহাকাশে প্রথম মানব. প্রথম উন্মুক্ত মহাকাশে বিচরণ. আর এবারে নতুন রেকর্ড আবার. অলিম্পিক আন্দোলনের ইতিহাসে প্রথমবার রাশিয়ার মহাকাশচারীরা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে অলিম্পিকের একটি মূল প্রতীক - মশাল নিয়ে যাচ্ছেন. তারপরে সেই মশাল নিয়ে তাঁরা উন্মুক্ত মহাকাশে বিচরণ করবেন. এই ঘটনা সরাসরি সম্প্রচার করে দেখানো হবে. মহাকাশে যাত্রা সেরে অলিম্পিকের মশাল রাশিয়ার প্রান্তর দিয়ে যাবে, যতদিন না সোচীর মূল ষ্টেডিয়ামের মশাল অবধি গিয়ে পৌঁছায়. এই প্রসঙ্গে তিন বারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ওলগা ব্রুসনিকিনা বলেছেন:

“প্রথম দেশ যারা মহাকাশে গিয়েছিল, সেই সোভিয়েত দেশের উত্তরাধিকারী রাশিয়া প্রজাতন্ত্র, তাই খুবই প্রতীকী যে, অলিম্পিকের আগুনেরও সেখানে ঘুরে আসা দরকার”.

কি করে মহাকাশচারীরা বায়ু হীন জায়গায় মশালকে জ্বলন্ত অবস্থায় রাখবেন? এই প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন “এনার্জ্জী” রকেট- মহাকাশ কর্পোরেশনের প্রেসিডেন্টের পরামর্শদাতা মহাকাশচারী আলেকজান্ডার আলেকসান্দ্রভ, তিনি বলেছেন:

“আমাদের মহাকাশ বিজ্ঞানে এই রকম: যদি দরকার হয়, তো করা হবে. এটা করা হবে এক বিশেষ যন্ত্র ব্যবস্থা দিয়ে, যা খোলা মহাকাশে বাইরে আনা যাবে. আগুন এই স্টেশনের রুশ অংশে রাখা হবে. তারপরে তা পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা হবে. আর এটা আমাদের জন্য কোন সমস্যা নয়. কারণ নানা রকমের যান্ত্রিক ব্যবস্থা রয়েছে. সেই গুলি আমাদের যন্ত্রকে রাখতে সাহায্য করবে, যা মহাকাশে কোন রকমের বিপদের কারণ হবে না, তা যেমন স্টেশনে, তেমনই মহাকাশ যানেও”.

রাশিয়া বিশ্বকে শুধু মহাকাশে মশাল পাঠানো দিয়েই অবাক করে দেবে না, বরং ৭ই অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া মশাল দৌড় দিয়েও সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দেবে. দেশের প্রায় ১৩ কোটি মানুষ এই দৌড় দেখতে পারবেন ও তাতে অংশ নিতে পারবেন. সব মিলিয়ে মশাল আগুন নিয়ে ৬৫ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেবে, কখনও গাড়ীতে, কখনও রেল গাড়ীতে, রাশিয়ার তিন চাকার ঘোড়ার গাড়ী ত্রোইকা চড়ে, এমনকি বল্গা হরিণের পিছনে জোতা স্লেজ গাড়ী করেও. এই দৌড়ের সময়ে ১৪ হাজার মশাল বাহক অলিম্পিকের আগুনকে রাশিয়ার ৩০০০ জনপদ দিয়ে নিয়ে যাবে. এই মশাল দৌড় শেষ হবে সোচী শহরে ৭ই ফেব্রুয়ারী ২০১৪ সালে অলিম্পিক উদ্বোধনের দিনে.