২২শে জুন. সূর্যের দীর্ঘতম আলোকময় দিন পৃথিবীতে. ঠিক ২০ বছর আগে নোভোসিবিরস্কে এই দিনই পৃথিবীতে প্রথম সৌর সংগ্রহশালার দ্বারোদ্ঘাটন করা হয়েছিল. ১৯৯৩ সালে এর গোড়াপত্তণ করেছিলেন রুশী বিজ্ঞান এ্যাকাডেমির ল্যাবোরেটরি কর্মী ভালেরি লিপেনকোভ. আজ তাদের সংগ্রহে ২২০০-রও বেশি দ্রষ্টব্য.

     সূর্যরশ্মির রূপ মনে করিয়ে দেওয়া খনিজজাত শামুকের খোল ঐ সংগ্রহশালার সবচেয়ে পুরনো দ্রষ্টব্য - ওর বয়স ৩০ কোটি বছরের বেশি.  ওটাকে চির বরফজমাট উত্তর মহাসাগরে আবিষ্কার করেছিল স্থানীয় সিনে স্টুডিও'র একজন প্রযোজক এবং মিউজিয়ামকে সেটা দান করেছিল. মিউজিয়ামের আধিকারিক ভালেরি লিপেনকোভের সংগৃহীত কাঠ খোদাই করে সূর্যের প্রতিকৃতিই ঐ সংগ্রহশালায় বড় জায়গা জুড়ে রয়েছে.  তিনি 'রেডিও রাশিয়া'কে গল্প করেছেন, যে কিভাবে এই সংগ্রহ সম্ভব হয়েছিল. -

     আইডিয়াটা ছিল এরকম, যে পৃথিবীর বিভিন্ন জাতির মানুষের সূর্য সম্পর্কিত শিল্পসৃষ্টি সংগ্রহ করা. সূর্যের সব প্রতীক, বিভিন্ন জাতির বিবিধ সৌর দেবতাদের প্রতিকৃতি. যাদের মধ্যে স্যুভেনিরও ছিল. আমাদের এখানে এখন ২২০০-রও বেশি দ্রষ্টব্য আছে. সূর্যের প্রাচীন প্রতিকৃতি সংগ্রহে এটা আমার সৃষ্টিশীল কাজ. আমি চারবার ভারতে গেছি এবং সেখান থেকে সূর্যের প্রতিকৃতি সংগ্রহ করে এনেছি, আমার বন্ধুবান্ধবরা মিশরে যায়, সেখান থেকে তারা প্যাপিরাসের উপর অঙ্কিত সূর্যের অবয়ব আমার জন্য নিয়ে আসে.

     ঐ সংগ্রহশালায় সাইবেরিয়া, দূর প্রাচ্যের পাহাড়ে খোদাই করা সূর্যের বহু প্রতিকৃতি আছে. ভারত ও নেপালের ঐতিহ্য ও সেইসঙ্গে  সূর্যকে নিয়ে প্রাচীন রুশী, চীনা ও জাপানী শিল্পকলাও সেখানে স্থান পেয়েছে. -

     এই তো সে দিন আমাদের শহরে পাঠ্যরত কোরিয় ছাত্ররা এখানে এসেছিল, তারা তাদের প্রতিক্রিয়া লিখে রেখে গেছে, চীনা যুবকযুবতীরাও এসেছিল. আর জাপানের সাপ্পোরো শহরের সাথে নোভোসিবিরস্কের ভ্রাতৃ-শহর সম্পর্ক - সেখান থেকে বাচ্চা ও বয়স্করা প্রায়ই আমাদের সংগ্রহশালায় আসে.

     মঙ্গোলিয়ার মহাকাশচারীরাও উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে গেছেন অতিথি-খাতায় মাসখানেক আগে ভারতের রাষ্ট্রদূতের পত্নীও প্রশংসাসূচক মন্তব্য রেখে গেছেন. এই খাতায় চীনা, কোরিয়, জাপানী, ইংরেজী, ফরাসী, জার্মান ভাষায় অসংখ্য উচ্ছ্বসিত প্রতিক্রিয়া লিপিবদ্ধ হয়েছে. পৃথিবীর আলোকবর্তিকা সবারই হৃদয়ের কাছাকাছি.