কট্টরপন্থী জঙ্গী ঐস্লামিক লোকরা, যারা পাকিস্তানের সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, তারা এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটিয়েছে, এক দল বিদেশী পর্যটক ও তাদের গাইডকে গুলি করে মেরেছে. এই ট্র্যাজেডি ঘটেছে নাঙ্গা পর্বতের কাছে উপত্যকায়, যে পর্ব্বত চূড়াকে মনে করা হয় বিশ্বের একটি সবচেয়ে কঠিন ভাবে পৌঁছনোর উপযুক্ত চূড়া বলে. আমেরিকার ড্রোন বিমানের আঘাতে নিহত পাকিস্তানের তালিবদের নেতা ওয়ালিউর রহমানের মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসাবে নাকি তারা এই কাজ করেছে বলে ঘটনার দায়িত্ব নিয়ে জানিয়েছে পাকিস্তানের তালিবরা. কিন্তু এই সন্ত্রাসবাদী কাজ একই সঙ্গে করা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালিবদের সম্ভাব্য আগামী আলোচনায় নিজেদের বাজী বাড়াতেই বলে মনে করে আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“পাকিস্তানের উত্তরে এই ট্র্যাজেডি হয়েছে, আর তা বিগত বছর গুলিতে এক অন্তহীণ ভাবে দীর্ঘ সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের তালিকাকে শুধু দীর্ঘায়িত করেছে. এখানে নতুন হয়েছে শুধু সেই টুকুই, যে এবারে জঙ্গীরা এক দল বিদেশীর উপরে আক্রমণ করেছে. তার মধ্যে আবার এই বিদেশীরা কোনও সামরিক পরামর্শ দাতা অথবা কোনও আন্তর্জাতিক কোম্পানীর কর্মী নন, যারা স্ট্র্যাটেজিক শিল্প ক্ষেত্রে কাজ করে থাকেন, এমনকি তারা রাজনীতি ও ব্যবসা থেকেও দূরের লোক, যারা পাকিস্তান রওয়ানা হয়েছিলেন, হিমালয়ের সৌন্দর্যের আকর্ষণেই. এটা একটা আন্তর্জাতিক পর্যটকদের দল, যাতে ছিলেন প্রাক্তন সোভিয়েত রাজ্য ও চিনের লোকরা. এই পর্বতারোহীদের বন্দী করা হয় নি, স্রেফ গুলি করে মারা হয়েছে. এই দিয়েই সন্ত্রাসবাদীরা বুঝিয়ে দিয়েছে যে, এটা ছিল ভয় দেখানোর কাজ, যেটা এমনকি হিংসায় ডুবে থাকা পাকিস্তানী দের জন্যেও একটা অস্বাভাবিক কাজ”.

খুবই পরিকল্পনা করে করা এই অপারেশন আবার প্রমাণ করে দিয়েছে যে, পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রয়েছে বিশাল সব “অন্ধ গহ্বর”. এবারে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ও পুলিশকে হাস্যাস্পদ করার জন্যই জঙ্গীরা গিলগিটের স্কাউটদের পোষাক পরেছিল – যেটা একটা সামরিক কাঠামোর মধ্যের বাহিনী, যা আবার পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর অংশ. রবিবারে ভোর রাতে তারা কোন রকমের বাধা ছাড়াই সেই হোটেলে ঢুকতে পেরেছিল, স্থানীয় পাহারাদার দের ভয় দেখিয়ে, তারপরে পর্যটকদের ঘুম থেকে তুলে, রাস্তায় বের করে এনে প্রকাশ্যে তাদের হত্যা করেছিল.

এই আক্রমণের দায়িত্ব নিয়েছে “তেহরিক-এ-তালিবান পাকিস্তান” গোষ্ঠী. ২৯শে মে ওয়ালিউর রহমানের মৃত্যুর জন্য এটা তাদের পক্ষ থেকে প্রতিশোধ বলে উল্লেখ করা হয়েছে. কিন্তু শেষ অবধি অবোধ্য থেকেই গেল যে, কেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান আঘাতের জন্য চিন ও ইউক্রেনের পর্বতারোহীরা উত্তর দিতে বাধ্য. তাই সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“সব দেখে শুনে মনে হয়েছে, এই ভয়ঙ্কর ও বাইরে থেকে যুক্তিহীন মনে হওয়া সন্ত্রাসবাদী কাজ করার উদ্দেশ্য কম করে দুটি, প্রথমতঃ, পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের মন্ত্রীসভাকে বিশ্ব সমাজের চোখে হেয় করা. আর তারই সঙ্গে, সম্ভবতঃ, নতুন পাকিস্তানের সরকারকে ওয়াশিংটনের সামনে আরও কড়া করে ড্রোন বিমান ব্যবহার বন্ধ করার প্রশ্ন উত্থাপন করাতে বাধ্য করা. দ্বিতীয়তঃ, পর্যটকদের উপরে আক্রমণ, সম্ভবতঃ, এই জন্যই করা হয়েছে, যাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালিবদের সম্ভাব্য আলোচনাতে নিজেদের গুরুত্ব আরও বাড়ানো যায়. কারণ আফগানিস্তানের তালিবরা ছাড়াও সেই আলোচনাতে পাকিস্তানের তালিবরাও থাকবে. সম্ভবতঃ, তারা কিছু একটা প্যাকেজ দেওয়া নেওয়া করতে চেয়েছে: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমের কাছ থেকে একটা কোনও গুরুত্বপূর্ণ ছাড়া অথবা গ্যারান্টি, যার প্রত্যুত্তরে তারা গ্যারান্টি দেবে যে, ভবিষ্যতে আর বিদেশীদের মারা হবে না. আর যতক্ষণ না এই দেওয়া নেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ মানুষের জীবন থেকে যাচ্ছে স্থানীয় সন্ত্রাসবাদীদের জন্য আন্তর্জাতিক বৃহত্ রাষ্ট্রের সঙ্গে হিসাবের খুচরো মুদ্রা হিসাবেই”.